যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে ইরানের

13

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ইরানের অভিজাত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা চলছে ইরানের। চলমান উত্তেজনার কারণে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলারও। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান তা ঠেকাতে পারবে তো?
গত বছরের আগস্টে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয় ইরান। ইরানের দাবি অনুযায়ী এটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট ও এস-৩০০ এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও কার্যকরী।
বাবর-৩৭৩ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি মূলত একটি দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি দিয়ে একই সময়ে বিভিন্ন উচ্চতায় ও বিভিন্ন দূরত্বের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়।

এর সক্ষমতা সম্পর্কে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি জানান, এটি ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে থাকা কোনো বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে চিহ্নিত করতে পারে, ২৫০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্য স্থির করতে পারে এবং ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ভূমি থেকে ২৭ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় থাকা যে কোনো ধরনের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও উচ্চগতিসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করতে সক্ষম এই বাবর-৩৭৩।

ইরানি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোজ্জাতুল্লাহ গোরেশি‘র দাবি, এটি রাশিয়ার এস-৩০০, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতিদ্বন্দ্বী।

ইরান ২০১০ সাল থেকে এই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু করে। দীর্ঘ নয় বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর গত ২২ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হয়।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

বাবর-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও ইরানের আরো কিছু শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

খলিজ ফার্স মিসাইল

ইরানের দাবি, শব্দের গতির চেয়েও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র এটি। এটিকে যুদ্ধজাহাজ ও স্থলভাগ থেকে চালানো যায়। এ মিসাইলটিকে ইরান স্মার্ট মিসাইল হিসেবে গণ্য করে। ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর উপপ্রধান মোহাম্মদ সালেহ জোকার এ মিসাইলটি সম্পর্কে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খলিজ ফার্স মিসাইলটি তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে টার্গেট হানতে সক্ষম। এটির গড় ওজন ৬৫০ কিলোগ্রাম। ভবিষ্যতে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো প্রযুক্তি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

শাহাব মিসাইল

ইরানের বিখ্যাত ক্ষেপণাস্ত্র শাহাব মিসাইল। মোট ৬টি শাহাব মিসাইল রয়েছে ইরানের কাছে। রাশিয়ার ‘এস এস-১’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হয়েছে এগুলো। লিবিয়ার ও উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইরান এ ক্ষেপণাস্ত্রটি বানিয়েছে।

শাহাব-৪ মিসাইলটি তিন হাজার কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত শত্রুদের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

শাহাব সিরিজের মধ্যে শাহাব-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটির ব্যাপারে ইসরাইলি মিডিয়াগুলো জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা মিসাইলগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী।

ফাতেহ-১১০

ইরানের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলোর মধ্যে ফাতেহ-১১০টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটিরও কয়েকটি সিরিজ রয়েছে। সমুদ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে সমুদ্রে এটি অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়। ফাতেহ-৩১৩, জুলফিকার-৭০০, হরমুজ-১ এবং হরমুজ-২ সবই শক্রঘাঁটিতে ভালোভাবে আঘাত করতে পারবে।

কদর-১১০

ইরানের কদর ১১০ মিসাইলটি ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানের দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ‍হিসেবে এটি অন্যতম। এ মিসাইলটি শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে অনায়েসে ঢুকে যেতে পারে। শত্রুদের রাডার অনেক ক্ষেত্রে এটিকে ধরতে সক্ষম হবে না বলে দাবি ইরানের। ইউরোপীয় সীমানা পর্যন্ত কদর-১১০ মিসাইল দিয়ে আঘাত হানা যাবে। তাই এটিকে ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

শেয়ার