জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন যশোরের টিপু সুলতান

8 views

ইমরান হোসেন পিংকু
দীর্ঘ আট বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে যশোর জেলার কোনো প্রতিনিধি নেই। আর এই সংকট কাটিয়ে যশোরবাসীকে স্বপ্ন দেখাছে যশোরের একজন ক্রিকেটার। নাম তার টিপু সুলতান। যশোরের হয়ে টিপু সুলতানের আগে সেই ২০১০ সালে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে চেপে জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন সৈয়দ রাসেল। এমনকি বয়স ভিত্তিক দলগুলোতেও প্রায় দেড় যুগ ছিল না যশোরের প্রতিনিধিত্ব করা কেউ। গতবছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যুব দলে ছিল যশোরের দুই ক্রিকেটার বাঁহাতি স্পিনার টিপু সুলতান ও ডানহাতি পেস বোলার মোহাম্মদ রনি। রনি কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও টিপু সুলতান খেলেছেন বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ।
সৈয়দ রাসেলে পর টিপু সুলতানের মধ্যদিয়ে খুলেছে বয়সভিত্তিক দলের রুদ্ধ দরজা। জাতীয় দলের বন্ধ দরজাও টিপু সুলতানের হাত ধরে খুলবে বলে স্বপ্ন দেখছে যশোরবাসী। টিপু সুলতানও যশোরবাসীর আশা পূরণে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
টিপু সুলতান বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে খেলে কোন উইকেট পাননি। তবে রান দেয়ার দিক থেকে দিয়েছেন কিপটেমির পরিচয়। সর্বমোট ৩৫ ওভার ৩ বল করে ১ মেডেনের বিনিময়ে দেন ১৬৮ রান। যা ওভার প্রতি ৪.৭৬ রান। বিশ্বকাপের পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে খেলেছেন ১১ ম্যাচ। এই ম্যাচগুলো থেকে ৪৪.২৫ গড়ে নিয়েছেন ৮ উইকেট। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলার সময় সাকিব তামিমদের আবিষ্কারক বাংলাদেশের জনপ্রিয় কোচ কাজী সালাউদ্দিনের ভাল একটা সার্টিফিকেটও পেয়েছেন। টিপু বলেন, সালাউদ্দিন স্যার তাকে বলেন, ‘আমি অনেক দিন কোন বাঁহাতি স্পিনার দিয়ে পুরো দশ ওভার বল করাতে পারেনি। তুই সাকসেস হলি।’
এই সনদ পেয়ে অবশ্য তিনি আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। টিপু বলেন, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের খেলা। এসব যায়গায় টিকে থাকতে হলে প্রচুর কষ্ট করতে হবে। এখন আমি ফিফটি পার্সেন্ট কষ্ট করি। তবে ওই জায়গা টিকে থাকতে হলে শতভাগের বেশি কষ্ট করতে হবে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সিনিয়ররা খেলে। ওদের সাথে খেলতে গেলে তো ওদের মতো কষ্ট করা লাগবে। কষ্ট করতে হবে। কষ্ট করলেই ওখানে টিকে থাকা যাবে।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসার পর নিজের মধ্যে স্টার স্টার ভাব চলে এসেছে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে টিপু বলেন, না, তেমন কিছু মনে হয় না। তবে আগে যদি চেনে দুই জন। এখন চেনে চার জন। কারণ একটায় ভাল যায়গা গিয়েছি। আরো ভাল যায়গায় গেলে আরো মানুষ চেনবে। নিজেকে এখনো স্টার প্লেয়ার ভাবার মতো সময় হয়নি।
খুলনা বিভাগীয় দলের বাঁহাতি স্পিনার ও যশোর জেলা দলের সতীর্থ মুরাদ খান বলেন, টিপু উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে ভাল খেলছে। টিপু সহজেই কিছু নিতে পারে। কঠোর পরিশ্রম করলে তার উজ্জল ভবিষ্যত রয়েছে। একদিন বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সুরে কথা বলেন টিপু সুলতানের আবিষ্কারক বাংলাদেশ বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কোচ যশোরে দায়িত্বে থাকা আজিমুল হক। তিনি বলেন, টিপুকে কখনো হতাশ হতে দেখেনি। এটাই ওর সব থেকে বড় গুণ। সেই সাথেও কঠোর পরিশ্রমীও। ওর যে স্কিল আছে তাতে পরিশ্রম করলে একদিন বড় ক্রিকেটার হতে পারবে।