পানি নিষ্কাশনের নেই ব্যবস্থা, বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি যশোর স্টেডিয়ামে

48 views

ইমরান হোসেন পিংকু

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত পুরাতন যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়াম। স্বাধীনতার পরে গ্যালারি নির্মাণ ছাড়া এ স্টেডিয়ামে হয়নি তেমন উন্নয়নের কাজ। রাস্তা থেকে মাঠ এক দুই ফুট নীচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টি হলেই মাঠের মধ্যে হাঁটু সমান পানি জমে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ব্যবস্থা। গত দুইদিন শিলাবৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে থাকায় বৃহস্পতিবার ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ঢাকা উত্তর ও বরিশাল বিভাগের মধ্যকার দ্বিতীয় দিনের ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। ফলে ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করে আম্পায়াররা। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় ৩৯তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচ। দুইদিনের বৃষ্টির কারণে চারটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে আগামী মৌসুমে ক্রিকেটের ভেন্যুর তালিকা থেকে যশোরের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা হয় ১৯৪৯ সালে। এর দশ বছর পর ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাকির হুসাইন। একই বছরের ১ মার্চ উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল কুদ্দুস। এরপর ১৯৭৬ সালে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অর্থায়নে যশোর স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন শুরু হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ১৯৯৪-৯৫ সালে নির্মিত হয় বর্তমানের জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সংলগ্ন ভিআইপি গ্যালারি।
দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আমেনা খাতুন ক্রিকেট গ্যালারির পশ্চিম পাশ থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস পর্যন্ত ২১ ফুট উঁচু ও ৫শ’ ফুট লম্বা গ্যালারি নির্মাণ কাজ হয়।
গ্যালারি নির্মাণ থেকে বর্তমানে মাঠে মাটি ভরাট করা বেশি প্রয়োজন বলে জানান ক্রীড়া সংগঠকরা। কারণ রাস্তা থেকে মাঠের অবস্থান এক দুই ফুট নীচে। সামান্য পানি হলেই বাইরের পানি এসে জমা হয় মাঠে। আবার পানি নিষ্কাশনের নেই ব্যবস্থা। তাই মাঠে মাটি ভরাটের বিকল্প নেই। এজন্য তিন কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির। আর এ কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংগঠকরা মন্ত্রী, এমপি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কয়েক দফা বাজেট প্রণয়ন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারা আশ্বাসই শুধু দিয়ে গেছেন।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির জানান, রাস্তা থেকে মাঠ নীচু হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে। শীতের মৌসুমে মাঠে কয়েকটি লিগ করা সম্ভব। তাছাড়া অন্যসময় বৃষ্টির পানিতে মাঠ ভরে থাকে। তবে মাটি দিয়ে উঁচু করতে না পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে কোনোভাবেই খেলা মাঠে গড়ানো সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সোহেল মাসুদ হাসান টিটো বলেন, মাঠ সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। তবে অচিরেই মাঠ সংস্কার করা না হলে ঘরোয়া খেলা চালাতেও আমাদের কষ্ট পেতে হবে।