অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন একটি রোগ : প্রধানমন্ত্রী

53

ডেস্ক নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনকে একটি রোগ ।আর চুরির টাকা দিয়ে ভোগ-বিলাসে জীবন কাটানো সরকার সহ্য করবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে ভোগ-বিলাসি জীবনযাপন করবেন, আর কেউ সৎভাবে, সাদাসিধে জীবনযাপন করতে গিয়ে তার জীবনটাকে নিয়ে কষ্ট পাবেন, এটা হতে পারে না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিরানী-পোলাও খাওয়া আর ব্রান্ডের জিনিস পরার চেয়ে সাদাসিধে জীবনযাপন করা অনেক সম্মানের।

‘আসলে এই টাকা বানানোটা একটা রোগ, এটাও একটা অসুস্থতা। একবার টাকা বানাতে থাকলে তার শুধু বানাতেই ইচ্ছে করে। কিন্তু, ওই টাকার ফলে তার ছেলে-মেয়ে বিপথে যাবে, পড়াশোনা নষ্ট হবে, তারা মাদকাসক্ত হবে, সেটা দেখারও সময় নেই। টাকার পেছনে ছুটছে তো ছুটছেই। আর নিজের পরিবার যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই সৎ পথে কামাই করে সম্মানের সঙ্গে চলতে। আর চোরা টাকা, দুর্নীতির টাকা, অবৈধ পথে অর্জিত টাকার বিলাসিতাকারীদের নিয়ে মানুষ মুখে যাই বলুক পেছনে একটা গালি দেয়। এটি শোনা না গেলেও গালিটা কিন্তু খেতে হয় সে কথাটা মনে রাখতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যহত থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এটা অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেটাও অব্যহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের জন্য সবধরনের আত্মত্যাগের জন্য তিনি সব সময় প্রস্তুত ছিলেন। কাজেই, তারই আদর্শের সংগঠন আওয়ামী লীগ। এই দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সেই আদর্শকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শাহে আলম মুরাদ।

সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল এবং গোলাম রব্বানী বাবলু শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের সব শহীদ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার শহীদ, দেশমাতৃকার সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মহুতি দানকারি ও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিটি নীরবতা পালন করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, এমপিরা, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা, রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে, ২০১৫ সালে ঢাকা মহানগর দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল কমিটি ঘোষিত হয়।

বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে (কাউন্সিল) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সব শাখার সম্মেলন করে কমিটি হালনাগাদ করার পরই কেন্দ্রের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৬ নভেম্বর, ৬ নভেম্বর কৃষকলীগের এবং ৯ নভেম্বর শ্রমিকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার