সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট

35 views

বার্তাবিডিডেস্ক নিউজ:আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৮ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেটে খরচের যে হিসাব ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮.১ শতাংশের সমান।
আর বিদায়ী অর্থবছরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দিয়ে যাওয়া বাজেটের আকার ছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৮.৩ শতাংশের সমান।
এবার সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।
এবার পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে ৬০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেই যাবে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের ১৯ শতাংশের বেশি।
কামাল আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন। তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৯ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬.২৮ শতাংশ।
গতবারের মত এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.২১ শতাংশের মত।
বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাশ ১০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা।
এছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৪৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৫৪ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে কাজেট প্রস্তাবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে তিনি এবার নতুন কোনো কর আরোপ করছেন না। বরং করের আওতা বাড়িয়ে তিনি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চান।
বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, আদায় সন্তোষজনক না হওয়ায় তা সংশোধন করে ৩ লাখ ১৬৬১২ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদের সামনে যে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদরা বাজেট ঘাটতির এই পরিমাণকে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যেই ধরেন।
এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীর সহায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ। তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি মেটানো যাবে।
এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৮.২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

নতুন বাজেটে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক, কর আরোপের প্রস্তাব আসায় স্মার্টফোন, আইসক্রিম, ভোজ্যতেলসহ কিছু খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে যাচ্ছে। ‘সমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যাশা সামনে রেখে আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
যে সব পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্যাকেটজাত তরল দুধ, গুঁড়া দুধ, আমদানি করা কাঁচা চিনি ও প্রক্রিয়াজাত চিনি, গ্লুকোজ, প্রাকৃতিক মধু, বডি স্প্রে, সব ধরনের অলিভ অয়েল, এসি মটর, প্রক্রিয়াজাত মিক্সড খাদ্য, এসি/ডিসি দুই ধরনের বিভিন্ন প্রকার বৈদ্যুতিক মটর, অপটিক্যাল ফাইবার কেবলস, ফ্লাস্ক, বোতল, জার, পট, গ্লাস, রান্নার ওভেন, প্লেটও চুলা। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে আসছে অর্থবছরে। আইসক্রিমের উপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী, ফলে বাড়তে পারে এর দামও।
আমদানিকরা ভোজ্য তেল এবং প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য এতদিন মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি পেয়ে আসছিল। কিন্তু আগামী অর্থবছর থেকে তাতে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে আমদানি করা প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি তৈজসপত্র, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, সানফ্লাওয়ার তেল, সরিষার তেলের দাম বাড়তে পারে।
সিগারেট-বিড়ির উপর সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে শলাকার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিড়ি সিগারেটের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
স্মার্টফোনের আমদানি শুল্ক ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করায় এর দাম বাড়তে পারে। এছাড়া সিম ব্যবহারের মাধ্যমে পাওয়া সেবার উপর শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে খরচ বাড়তে পারে।
গণপরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন, রুট পারমট, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ ইত্যাদি গ্রহণ ও নবায়নের পরশোধিত চার্জ বা ফি এর উপরে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী; ফলে এসব ফি বাড়তে পারে। রেডিও, মোটর সাইকেলের টায়ার ও গাড়ির ১৬ ইঞ্চি সাইজের টায়ারসহ সব ধরনের টিউবের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমছে

নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবে দাম কমতে পারে সোনা, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রুটি, বিস্কুট ও কৃষি যন্ত্রপাতির মতো পণ্যের।
ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের দাম কমতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতিতেও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বর্ণের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে তুলা বীজ, পাম নাটস, রেফ্রিজেরেটর শিল্পের স্টিল প্লেটের দামও কমতে পারে।
আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে কমতে পারে চার্জার কানেকটর পিন, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য শিল্পে ব্যবহৃত তিনটি উপকরণ, ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৩টি উপকরণের দাম, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, লিফট প্রস্তুতকারী শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা সকল উপকরণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপন ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, কমপ্রেসর প্রস্তুতকারী শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা সব উপকরণ, জুতা শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ।

১০% প্রতিবন্ধী নিয়োগ দিলে ৫% কর মওকুফ
কোনো প্রতিষ্ঠান তার মোট কর্মীর মধ্যে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় করের পাঁচ শতাংশ মওকুফ করবে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব রেখেছেন।
বাজেট বক্তৃতায় কামাল বলেন, “প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য আমাদের সরকার অনেক কাজ করছে। আয়করেও আমরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।
“একটি হিসেবে দেখা গেছে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ কোনো না কোনো প্রতিবন্ধী। এ বিবেচনায় কোনো প্রতিষ্ঠান তার মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী নিয়োগ দিলে সে প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় করের পাঁচ শতাংশ কর রেয়াত প্রদানের প্রস্তাব করছি।”
অন্যদিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত ও সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা না করলে অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ হারে আয়কর আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দিলেও ২০২০-২১ করবছর থেকে তা কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি।
বাজেট বক্তৃতায় কামাল বলেন, “গতবছর চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত ও সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা না রাখলে অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ হারে আয়কর আরোপের বিধান করা হয়েছিল।
“এ বছরে এর আওতা বাড়িয়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও এনজিওতে এ বিধান আরোপের প্রস্তাব করছি। তবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যাতে সুবিধা স্থাপনের প্রয়োজনীয় সময় পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ২০২০-২১ করবছর হতে নতুন আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে।”
দেশে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার তথ্য গতবছর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মোবাইল কোম্পানির আয়কর বাড়ছে আড়াই গুণ
নতুন অর্থবছরের মোবাইল কোম্পানির বার্ষিক মোট আয়ের (টার্নওভার) উপর ন্যূনতম কর আড়াই গুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাস্তবতা বিবেচনা করে সব ধরনের কোম্পানি করের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও মোবাইল কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভারের উপর ন্যূনতম কর দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।”
এখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বিদ্যমান করহার ২৫ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এই হার ৩৫ শতাংশ।
এছাড় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (মার্চেন্ট ব্যাংক ছাড়া) জন্য ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর এবং অতালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০ শতাংশ করপোরেট কর বহাল আছে।
মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল প্রকার তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির জন্য ৪৫ শতাংশ কর।
তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানি ৪০ শতাংশ ও অতালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানি ৪৫ শতাংশ কর দেয়।
এই করপোরেট করহার বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি হ্রাসকৃত করহার ও কর অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে করপোরেট করের কার্যকর হার ৫ শতাংশেরও কম।
“এছাড়া গতবার ব্যাংক কোম্পানির কর হার আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছিল, যার ফলে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।”

নতুন বাজেটে আইসিটি খাত
আগামি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দুটি খাতেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।
মোবাইল ফোন : স্মর্টফোন বিত্তবান লোকজন ব্যবহার করেন ও ফিচার ফোন নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী ব্যবহার করেন বলে বাজেটে স্মার্টফোনের ওপর আমদানী শুল্ক শতকরা ১০ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ২৫ ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে ফিচারফোনের আমদানী শুল্ক শতকরা ১০ ভাগেই রাখা হয়েছে। কিছু মডেলের ফিচার ফোন দেশেই তৈরি হয়। এর পাশাপাশি দেশে স্মার্টফোন তৈরিতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এর অন্যতম উপাদান ট্রানজিস্টর এবং ক্রিস্টাল ডায়োডের আমদানী শুল্ক শতকরা পাঁচ ভাগ থেকে কমিয়ে এক ভাগ প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে স্মার্টফোনের সিমকার্ড খোলার পিনের ওপর আমদানী শুল্ক শতকরা ২৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১০ ভাগে প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে।
শিক্ষা: শিক্ষা ক্ষেত্রে আইসিটির বিভিন্ন ব্যবহার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। এর মধ্যে রয়েছে “আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যম প্রাথমিত শিক্ষার ক্যাপাসিটি উন্নয়ন সাধনকরত: শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ”।
১২৫টি উপজেলায় ইতোমধ্যেই ‘আইসিটি টেইনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে। বাজেটে আরো ১৬০টি উপজেলায় সেটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিচার ব্যবস্থাপনা : দেশের নিম্ন আদালতে ‘বিচারাধীন মামলার বর্তমান অবস্থা, শুনানির তারিখ, ফলাফল ও পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়।

১০০ টাকা রেমিটেন্সে ২ টাকা প্রণোদনা
নতুন অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট তিনি উপস্থাপন করেছেন, সেখানে এ প্রস্তাব আসে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত রেমিটেন্সে এ ধরনের প্রণাদনা দেওয়া হবে।
এই বাজেট পাস হলে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণাদনা পাবেন। আর এ জন্য নতুন বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতায় মুস্তফা কামাল বলেন, “রেমিমটেন্স প্রেরণে বর্ধিত আয় লাঘব করা এবং বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ উৎসাহিত করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত অর্থের ওপর অঅগামী অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হবে।”
এর ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং হুন্ডি ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বরেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বীমা সুবিধার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।

৮.২% প্রবৃদ্ধির আশা
নতুন অর্থবছরে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরে বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন কামাল।
রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করে প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তিনি।
নতুন বাজেটে টাকার অংকে জিডিপি ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির আকার ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে সেটাকে বাড়িয়ে ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে বলছে, অর্থবছর শেষে এবার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বাজেট দিতে হাসপাতাল থেকেই সংসদে অসুস্থ অর্থমন্ত্রী
অসুস্থ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল হাসপাতাল থেকেই সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবনে গেছেন নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের জন্য।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবনে যান অর্থমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাজেট সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি অংশ নেন।

সংসদে তোলার জন্য এই বৈঠকেই আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিকাল ৩টায় সংসদ বসলে অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তার প্রথম বাজেট।
সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির ওপর কালো মুজিব কোট পরিহিত মুস্তফা কামাল বেলা সোয়া ১টার দিকে সংসদে পৌঁছালে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাকে হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যান।
অসুস্থতার মধ্যে বুধবারও হাসপাতাল থেকে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে সংসদে গিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
কয়েক দিন জ্বরে ভোগার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন ৭২ বছর বয়সী মুস্তফা কামাল। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে তিনি হাসপাতালেই থেকে যান বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।
বাজেটের দুদিন আগে অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ তৈরি হলে মঙ্গলবার রাতেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন।
মুস্তফা কামাল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। অর্থমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সহকর্মীও একই ধরনের কথা বলেছেন। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম চিকিৎসকদের মাধ্যমে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।