বিভ্রাট ঘুচবে এবার কাজের লোক নিয়ে

50 views

লাইফস্টাইল ডেস্ক: পাশের বাসার ভাবির সঙ্গে মিসেস খাইরুল অনেকক্ষণ থেকে একটা বিষয়েই আলোচনা করে যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে তার কাজের মেয়েটিকে নিয়ে। মেয়েটি নাকি কোনো কথাই শোনে না, কোনো কাজে সে দক্ষও নয়। এমনকি সে নাকি আড়ি পেতে সবার কথা শোনার চেষ্টাও করে, ছুটিতে গেলে সেটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে। অনেকবার ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও পারছেন না কারণ তাতে তিনি একা সামলাতে পারছেন না।

যান্ত্রিক ব্যস্ত জীবনে কাজের লোক নিয়ে এমন অনেক অভিযোগ আমাদের। বাইরের একটি লোক সংসারে এসে ঢুকলে কিছুটা সমস্যা তো হবেই। সেটা সামলানোর দায়িত্ব একজন গৃহকর্ত্রীর ওপরেই বেশি। বেশকিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। সেগুলো নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

অনেক কাজের লোকেদের একটা সমস্যা প্রায়ই দেখা যায় যে তারা কাজের বাড়িতে এসে সবার ওপর খবরদারি করা শুরু করে। সবার ওপর নজরদারি, আধিপত্য বিস্তার, একজনের কথা আরেকজনের কানে লাগানোর চেষ্টা করে। এতে হয় তুমুল অশান্তি। আপনি শুরুতেই বুঝিয়ে দেবেন যে আপনার কোনো ধরনের খবরদারি পছন্দ নয়। বিশেষ করে আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো যে তার উচিত নয় ভালোভাবে তা বুঝিয়ে দিন।

শক্তের ভক্ত নরমের যম হতে চেষ্টা করবেন। সে ভালো থাকলে তার সঙ্গেও নরমাল ব্যবহার করবেন। তাকে পরিবারের সদস্য করে নিতে চেষ্টা করবেন। তবে সে অন্যায় করলে অবশ্যই মেনে নেবেন না। অনেকেই ভাবেন যে খারাপ ব্যবহার করলে সে বোধহয় কাজ ছেড়ে দেবে, তখন ঘরের এতো এতো কাজ করবে কে! এমনিতেই শহরে কাজের লোক পাওয়া যায় না। তাই বলে সে চলে যাওয়ার ভয়ে তার কোনো অন্যায় মেনে নেবেন না। তাহলে সেটা বাড়বে। তার যে বিষয় নিয়ে সমস্যা রয়েছে সেটা নিয়ে খোলুাখুলি বাসার লোকদের সঙ্গে কথা বলুন।

তাকে কথায় কথায় বুঝানোর চেষ্টা করবেন না যে সে আপনাদের কাজের লোক। এতে সে হীনমন্যতায় ভুগবে। তার কাজেকর্মেও সেই বাইরের লোকের ছাপই প্রকাশ করবে। আপনার আচার-আচরণে বুঝিয়ে দিন আপনি বাসার অন্যদের মতোই একজন সদস্য। বাসার অন্য কেউ যদি কাজের বুয়ার অন্যায় আচরণের পক্ষ নিয়ে আপনাকে অপমান করে, সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করুন। দেখবেন ব্যক্তিটি আপনাকে আর আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করবে।

যদি দেখেন টুকটাক সমস্যা লেগেই আছে তো সাবধান হয়ে পদক্ষেপ নিন। যদি দেখেন কাজের ব্যক্তিটির জন্য আপনার পরিবারে অশান্তি হচ্ছে, সদস্যদের সঙ্গে কলহ হচ্ছে, আপনার সংসার ভাঙতে যাচ্ছে তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই ঝামেলা চুকাতে হবে। অতিদ্রুত সেই কাজের লোকটাকে পাল্টানোর চেষ্টা করুন। বাসার সবাইকে বুঝিয়ে পরিচিত কারো মাধ্যমে ভালো কোনো লোক রাখুন।

কাজের লোকগুলোর সঙ্গে ছুটিছাটা নিয়ে প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়। বার বার ছুটি চাওয়া, ছুটিতে গেলে আবার ফেরার নাম না থাকার মতো সমস্যাগুলো প্রায়ই ঘটে। তাই ছুটির বিষয়ে একটু নমনীয় কম থাকবেন। ছুটিতে গেলেও যাতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা যায় সেই ব্যবস্থা রাখবেন।

আমাদের অভ্যাসই হলো ঘরে যাই সমস্যা হোক, আশেপাশের ফ্লাটে গিয়ে অন্যজনদের সঙ্গে সেটার সমালোচনা আলোচনা করে সেটার বারোটা বাজানো। তার মধ্যে কাজের লোকের নিন্দা বদনামও অন্যতম বিষয়। আপনার কাজের লোকটিকে নিয়ে সমস্যা নিজে সমাধান না করে পাশের ব্যক্তিটির সঙ্গে সমস্যা করবেন না। এতে আপনার সম্মানই নষ্ট হবে, আর কিছুই না।

একটা কথা ভাবুন, যে ব্যক্তিটি আপনার বাড়িতে কাজ করছেন তারও কিছু চাহিদা বা দাবি আছে আপনার প্রতি। তার দিকটা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে। তাকে মাঝেমধ্যে কোনো উপহার দিন। তার চাহিদা এবং গণ্ডির মধ্যে। এতে করে এতে সম্পর্কটা সহজ হবে। অনেকে ভাবেন কাজের লোককে কিছু দিলে সে হয়ত আরো চাইবে, তার আকাঙ্ক্ষা আরো বাড়তে থাকবে। এটা সবসময়ের জন্য ঠিক নয়। মাঝেমাঝে দিন, সবসময় নয়।

কাজের লোকটির সব কাজ যে আপনার পছন্দ হবে, এমনটা নয়। তবে কোনো কাজ অপছন্দ হলে বাসার সবার সামনে তা নিয়ে বকাঝকা করবেন না। বাসায় কাজ করলেও তার কিন্তু সম্মান আছে, এটা ভুলে যাবেন না। তাই তাকে আলাদাভাবে বুঝিয়ে বলবেন। তার সমস্যা, কাজের গাফেলতিগুলো ভালোভাবে হাতে ধরে বুঝিয়ে দিন।