“নাসা” বছরে পর বছর গভেষনা চালাচ্ছেন অজানাকে জানার জন্য

39 views

বার্তাবিডিডেস্ক নিউজ: মহাকাশের অজানাকে জানার জন্য নাসার মত সংস্থা বছরে পর বছর গভেষনা চালাচ্ছেন। অজানা রহস্যকে উন্মোচিত করতে পাঠানো হচ্ছে সব মহাকাশযানগুলোক।এর মধ্যে বেশকিচু অজানা সম্পৃক্ত বেশকিছু তথ্য জানার চেষ্টা করি আমরা—–

১.  ১৯৮৫ সালের অক্টোবরে প্রথম বারের মত যাত্রা শুরু করার পর ২০১০ সাল পর্যন্ত ৩১ বার মিশনে যায় মহাকাশযান এটলানটিস। সর্বশেষ ২০১০ সালের মে মাসে এটি আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

২. ২০০৩ সালে মহাকাশযান কলম্বিয়া পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় বিস্ফোরিত হয় এবং এতে থাকা ৭ জন নভোচারীদের সবাই মরা যায়।

৩. ১৯৮১ সালে প্রথম যাত্রায় মহাকাশযান কলম্বিয়া পৃথিবীর কক্ষপথে ৩৭ বার আবর্তন করে।

৪. চূড়ান্ত যাত্রার ক্রুদের মধ্যে ছিলেন ৩ জন মিশন বিশেষজ্ঞ; ডেভিড ব্রাউন, কল্পনা চওলা এবং লরেল ক্লার্ক। আরো ছিলেন একজন পেলোড বিশেষজ্ঞ এবং কমান্ডার; ইলান রেমন এবং মাইকেল অ্যান্ডারসন, শাটল কমান্ডার; রিক হাসব্যান্ড, এবং শাটল পাইলট; উইলিয়াম ম্যাককুল।

৫. মহাকাশযান কলম্বিয়ার স্মৃতিগুলো সংরক্ষিত আছে ‘আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেটেরি’-তে এবং সেখানে সেখানে তারিখ ও রূপরেখা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

৬. কক্ষপথে পুনঃপ্রবেশের সময় মহাকাশযানটি সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১ হাজার ৬৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সম্মুখীন হয়।

৭. প্রথম আন্তগ্রহ অনুসন্ধানকারী যান  ‘ম্যাগেলান’ পাঠানোর রেকর্ডও কিন্তু মহাকাশযান আটলানটিস এর দখলে। ম্যাগেলান তার রাডার ব্যবহার করে শুক্র পৃষ্ঠের প্রায় ৯৮ শতাংশ ম্যাপের অন্তর্ভূক্ত করতে সক্ষম হয়।

৮. মহাকাশযানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন সময়ের মিশনে যায় আটলানটিস, এটি নিজের জ্বালানি সরবরাহের উপর নির্ভরশীলতার কারণে সর্বাধিক ১৪ দিন যাত্রা করতে পারত।

৯. মহাকাশযানে বেঁচে থাকার জন্য নভোচারীদের প্রতিদিন ৪ পাউন্ড (১ দশমিক ৮ কেজি) খাবার সরবরাহ করা হয়।

১০. ১৯৯৮ সালে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশযান ডিসকভারিতে চড়ে  মহাকাশে পাড়ি জমান জন গ্লেন।

১১. মহাকাশযান কলম্বিয়ার ধ্বংসের কারণ হচ্ছে একটি ছোট টুকরো, যা ভেঙে গিয়ে পাখার ভেতর ঢুকে পড়ে।

১২. ডিসকভারি শাটলের বহিঃপৃষ্ঠে প্রায় ২৩ হাজার টাইলস রয়েছে।

১৩. ১৯৮৮ সালে মার্কিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাহাকাশযান এনডেভার এর নামকরণ করা হয়। এটিই শিশুদের দ্বারা নামকরণকৃত প্রথম মহাকাশযান।

১৪. মামোরু মো’রি তার সময়কার প্রথম নভোচারী হিসেবে মাহাকাশযান  এনডেভারে যাত্রা করেন।

১৫. মহাকাশযান এন্টারপ্রাইজ আসলে একটি প্রোটোটাইপ ছিল, যা কখনোই মহাকাশে পাড়ি জমায়নি। এটি ইউ.এস জাদুঘরে অন্যান্য মহাকাশযানের সাথেই রক্ষিত আছে।

১৬. এনডেভার কক্ষপথে প্রতি ঘন্টায় ২৭ হাজার ৮৭০কি.মি গতি তুলতে সক্ষম। খালি থাকা অবস্থায় যা প্রায়  ৭৮ হাজার কেজি ভর অনুভব করে।

১৭. নাসার একটি মহাকাশযান ২০১১ সাল নাগাদ ৩ বার আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে ডক করে, যা কিনা রাশিয়ার স্পেস স্টেশনেও বেশ কয়েকবার ডক করেছিল।

১৮. আটলানটিস তৈরিতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী কলম্বিয়ার তুলনায় অর্ধেক সময় লাগে। তার ওপর আটলানটিস এর ওজন কলম্বিয়ার চেয়ে প্রায় ৪০০০ পাউন্ড কম।

১৯. ৩০ বছরের মহাকাশযাত্রায় নারী শাটল কমান্ডার ছিলেন দু’জন; পামেলা মেলরয় এবং এইলিন কলিন্স। এইলিন কলম্বিয়া মিশনে অংশ নেয়।

২০. মহাকাশযানটি প্রতি ফ্লাইটে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৬৫ কিলোমিটার যায়। যার মানে চাঁদে পৌঁছাতে এটাকে আরো প্রায় ৬৮০ বার যাত্রা করতে হত।

২১. মহাকাশযাত্রার সময় প্রতি  পাঁচটির মধ্যে দু’টি স্পেস শাটল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা আধুনিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্যর্থতা।

২২. ১৯৮৬ সালে মহাকাশযান চ্যালেঞ্জার নিক্ষেপনের সময় বিস্ফোরিত হয়, যাতে মোট সাত জন প্রাণ হারান।

২৩. বিস্ফোরণের পূর্বে মহাকাশযানটি ভূপৃষ্ঠ ছেড়ে যেতে ৭৩ সেকেন্ড সময় নেয়।

২৪. ১৯৮৪ সালে চ্যালেঞ্জারের পাশে, প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে স্পেসওয়াক করেন ক্যাথরিন সুলিভান।

২৫. মহাকাশযান ডিসকভার অন্যান্যদের তুলনায় অধিক সংখ্যকবার মিশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

২৬. অধিক সংখ্যক যাত্রার কারণে মহাকাশযান ডিসকভার দেখতে নোংরা, অপরিষ্কার দেখায়, যেখানে মানুষ স্বভাবতই একটা চকচকে সাদা রঙ আশা করে।