পৃথিবীর ভেতরে কী আরেকটি পৃথিবী আছে?

137 views

বার্তাবিডি২৪ডেস্ক নিউজ:
আচ্ছা কি হবে যদি আমরা জানতে পারি যে আমাদের স্কুলে পড়া জিওগ্রাফি অনেকটাই ভুল। আমাদের ব্রহ্মাণ্ড কতটা বড়? খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সাল পর্যন্ত আমরা মনে করতাম আমাদের পৃথিবী গোলাকার নয় সমতল। ১৬০০ শতাব্দী পর্যন্ত আমরা মনে করতাম যে পৃথিবী আমাদের সৌরমণ্ডলের কেন্দ্র কিন্তু এখন আমরা সৌরমন্ডল আর ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে অনেক কিছু জেনেছি। আর আমরা এক বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে থাকা ছোট্ট একটি স্থান যা হল পৃথিবী, আমরা সেই পৃথিবীতে বাস করছি। বিচিত্রময় আমাদের এই পৃথিবী। প্রতিদিন আমরা কত কিছুই না করছি এই পৃথিবীতে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদেই আমরা এই আধুনিক সব কিছুর সাথে পরিচিত হতে পারছি। প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি। নতুন অনেক কিছু শিখতে পারছি। আর আমাদের এই শিক্ষার পেছনে সব থেকে বড় অবদান হল বিজ্ঞানের। কেমন লাগবে যদি আমরা জানতে পাড়ি পৃথিবীতেও আরো একটি পৃথিবী আছে। যা তার অভ্যন্তরে অবস্থিত।

পৃথিবী সৃষ্টির কথা বললেই চলে আসে সৌর জগৎ সৃষ্টির কথা। তবে আমরা আজ কথা বলব আমাদের পৃথিবী নিয়ে। পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে আমরা যা জেনে এসেছি যাবৎকাল তা হলো- নিকেল, সিলিকন, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি ধাতুর গলিত এবং অর্ধ গলিত অবস্থায় পৃথিবীর অভ্যন্তরে আছে। কিন্তু যদি এরকম হয় সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলো সেন্টার অফ আর্ট এর মত আরো একটা পৃথিবী এ পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকে। ভাবতে সত্যি অবাক লাগছে আমি জানি। কেমন হবে যদি বিজ্ঞানীরা সত্যিই আবিষ্কার করে ফেলে যে আমাদের পৃথিবীর ভেতরে আরও একটি পৃথিবী আছে যা আমরা এখনও জানি না।

মানুষ কেবল মাত্র ১২ কিলোমিটার সুরঙ্গ করতে পেরেছে। তার বেশি সুরঙ্গ মানুষের পক্ষে করা এখনো সম্ভব হয়নি। সুতরাং এর থেকে বেশি প্রত্যক্ষ প্রমাণও মানুষের কাছে নেই। আরা থাকার কথাও না। তবে যদি প্রশ্ন করি নাসা কেন উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুর মধ্যবিন্দুর সম্পূর্ণ ছবি প্রকাশ করে না এবং সব পৌরাণিক গল্পে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের কথা কেন বলা হয়েছিল। এই সবকিছুই কি কাকতালীয় নাকি কোন গোপন সত্যকে লুকিয়ে রাখার ইচ্ছা? তো আজকে আমরা জানবো হলো আর্থ থিওরি সম্পর্কে এবং এমন কিছু ফ্যাক্টকে সামনে রাখব যেটা আপনার ও আমার পাঠ্য বইতে লেখা নেই।

আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে আসলেই কি পৃথিবীর ভেতরে আরও একটি পৃথিবী আছে কি না?

তবে এটা জানতে চলুন শুরু করি, ১৯৩৮ সাল এবং জার্মানির, হিটলারের কাছে এক গোপন বার্তা এসেছিল আর সেই মতো উত্তর মেরু অভিযান চালিয়েছিল নাৎসী বাহিনী এবং আন্ডারটেকার একটি বিশেষ অংশ নিয়ে গবেষণা চলেছিল এবং সেটি ছিল অত্যন্ত গোপনে। ১৯৪১ সাল নাগাদ এমন কিছু তথ্য মিত্র শক্তির কাছে পৌঁছায় যে ইউএফও আকৃতির কোন যান জার্মানি প্রায় তৈরি করে ফেলেছে রিভার্স ইঞ্জিনীরিং এর মাধ্যমে। প্রজেক্ট হাই জাম্প সেই জন্যই করা হয়েছিল। যেটা ছিল ইউএস নেভি দ্বারা পরিচালিত আন্টার্টিকা অভিযান এবং নাৎসী বাহিনীর উপর লক্ষ্য রাখা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সাল আন্টার্টিকা। বিখ্যাত পোলার এক্সপ্লোরার অ্যাডমিরাল রিচার্ড বার্ড যখন আন্ডারটেকার ওপর দিয়ে বিমানে করে উড়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ এক বিশাল আকার গহ্বর দেখতে পান। এরপর তার লেখা আনক্লাসিফাইড ডাইরি থেকে পাওয়া তথ্যগুলো সারা পৃথিবীর মাইন স্টিম সাইন্সকে ধাক্কা দেয়। ডাইরির লেখা অনুযায়ী, তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন অন্য এক জগতে এবং তা ছিল আমাদের মতই এক পৃথিবী। যেখানে গোল চাকতির মতো আকৃতি যান তিনি দেখেছিলেন এবং তার অনুযায়ী সভ্যতা ছিল আমাদের থেকে অনেক বেশি উন্নত।

এই পুরো গল্পটাই মনে হতে পারে এক কল্পবিজ্ঞান। তবে আমাদের কাছে এর থেকে বেশি আর কোন প্রমাণ নেই। হতে পারে এখানে কোনো ওয়ার্ম হোল ছিল যার মাধ্যমে তিনি অন্য কোন ডাইমেনশনে অথবা অন্য পৃথিবীতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে এই বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। নাসা যতগুলো ছবি নর্থ পোল এবং সাউথ পোলের তুলেছে তার প্রত্যেকটির স্থানে দুইটি মেরুকে সব সময় মেঘ দিয়ে ঢাকা দেখানো হয়েছে। অনেক বিজ্ঞানীদের মতে এই ছবিগুলোকে ইচ্ছা করেই ব্লার করা হয়েছিল। তবে ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত নাসার একটি ছবি পোলার হোল বা পোলার ওপেনিং এর ছবি প্রায় ধরা পড়েছে এবং ১৯২৭ সালে রাশিয়ান স্পেস স্টেশন থেকে ওই গহবর থেকে অদ্ভুত আলো বের হতে দেখা গেছে এরকমই ভিডিওতে দেখিয়ে তারা দাবি করেছে।

আমরা যদি নাসা দ্বারা প্রকাশিত অন্যান্য গ্রহ গুলোর নর্থ পোল এবং সাউথ পোলের ছবি দেখি তবে সেখানেও একই রকম হোল বা গর্ত দেখতে পাব। তবে এরকম কি হতে পারে যে এই সত্যি কে সাধারণ মানুষের থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। স্যাটেলাইট পিকচার থেকে অরোরা বোরালিস এর গতিবিধি দেখে এটা বোঝা যায় এবং এর শুরুটাও বোঝা যায় যে দক্ষিণ মেরুর কোন কেন্দ্রবিন্দু থেকে হচ্ছে। যেমনটি টর্নেডোর একটি মধ্যবিন্দু থাকে। তবে এই থিওরি দ্যা হলো আর্থ এর শুরু বহু প্রাচীনকাল থেকেই আছে।

এডমান হলি যিনি ছিলেন একজন জিওফিজিসিস্ট এবং তিনি প্রথম ১৬৯২ খ্রিস্টাব্দে এটি উপস্থাপন করেন। আমরা যদি বহু প্রাচীন মাইথলজিকাল কাহিনীগুলো দেখি তবে সেই খানেও বৃহৎ আকারের দৈত্য এবং গুহার কথা বলা আছে এবং প্রতিটি ধর্মগ্রন্থের আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর কথা বলা হয়েছে। যেমন যেমন খ্রিস্টান ধর্মে হেল, ইহুদী ধর্মে শেল, প্রাচীন গ্রীক মিথলজিতে হেটিস, হিন্দু রামায়ণের পাতাল এবং বৈদ্ধ ধর্মে সাম্বুলা সিটির কথা বলা হয়েছে যা হিমালয়ের কোন গোপন সুরঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করা যায়।

মিশরীয় শিলালিপি থেকে জানা যায়, তারা দেবতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেন পিরামিডে থাকা কোন গোপন কুঠুরির মাধ্যমে। পুরো ব্যাপারটি অলৌকিক মনে হলেও পৃথিবীর সবক’টি সভ্যতার প্রাচীন গ্রন্থে কিভাবে একই কথা লেখা থাকলে। সেটি সত্যিই ভাববার বিষয়। বর্তমানে ভিয়েতনামের সান্ডন কেইভ অথবা ইউএস এর ম্যামাথ কেইভ এতটাই গভীর যে প্রায় চল্লিশটিরও বেশি আকাশছোঁয়া ইমারত এর মধ্যে ঢুকে যেতে পারে এবং এগুলো শেষ কোথায় সেগুলো সন্ধান আজও অজানা।

আপনি হয়তো ভাবছেন মাটির নিচে আবার জীব কি করে থাকবে? সেখানে না আছে আলো না আছে অক্সিজেন না আছে পানি। যারা হলো আর্থ থিওরিতে বিশ্বাস করেন তাদের মতে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে যে গোলাকৃতি গরম অংশ সেটাই আলোর কাজ করে এবং এ বিভিন্ন গহবর থেকে ঢোকা বাতাসে অক্সিজেনের সংগ্রাহক এবং তার মধ্যে ঢুকে যাওয়া বা বয়ে যাওয়া কোন নদী পানির জোগান দেয়। তবে সিস্মিক ওয়াভ এর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি এরকম কোনো ফাঁকা জায়গা থাকা সম্ভব নয়।

যদি আবার পুরো থিওরিটিকে একবারে বলি তাহলে প্রথমত প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন মাইক্রলজিকাল গল্পে আমরা এটা পেয়ে থাকি ১৬ শতকের থিওরি রিচার্ডের বার্ড এর সুমেরু কুমেরু অভিযান। হিটলারের নিউ সার্ভিয়া দখল, মানে আন্টার্টিকার একটা বিশেষ অংশের উপর গবেষণা করা। নাসার তোলা মেরু দুটি ছবি এবং স্পেস স্টেশন থেকে পাওয়া ভিডিও, অন্যান্য গ্রহগুলোর একই রকম প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে গর্ত বা হোল বর্তমান, সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়ার সান্ডন কেভের মতো বিশাল পাতাল্পুরি এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষে সুমেরু অভিযানে হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী। সবকিছু মিলিয়ে দিলে এই ধারণাই জন্মায় আমাদের মধ্যে হয়তো নতুন কিছু আবিষ্কারের অপেক্ষায় অথবা এই সবটাই আবিষ্কৃত অনেক আগেই কিন্তু আমাদের থেকে সত্যিকে গোপন রাখা হয়েছে মাত্র।

আপনাদেরও কি তাই মনে হয়? এখন আমার সকলেই হয়ত ভাবছি যে এটা খুব অসম্ভব কিছু নয় এতগুলো কন্ট্রভারসি থিওরি যখন আসছে নিশ্চয়ই কোন একটা ব্যাপার তো আছে। কেন নর্থ পোল নিয়ে এত আগ্রহ এবং কেন নর্থ পোলে সবাই যেতে পারে না? এটাও একটা বড় চিন্তার কারণ। এই নর্থ পোলে কি এমন আছে যা আমাদের সকলের কাছে থেকে আড়াল করা হচ্ছে? এই সব প্রশ্ন কিন্তু আমাদের মনে থেকেই যায়। আর আমাদের এই সব প্রশ্নের উত্তর এক মাত্র বিজ্ঞানই দিতে পারে। কারণ আসল সত্যিটা তাদেরই জানা। এখন দেখা যাক ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা আমাদের এই ব্যাপারে কোন কিছু জানায় কিনা।

এবার যদি ট্র্যাডিশনাল সাইন্স এর কথা বলি তবে সিসমিক ওয়েভগুলো যখন আমরা দেখি সিসমিক ওয়েবের গতিপথ দিয়ে সেখানকার ঘনত্ব নির্ণয় করা যায় এবং কোন জায়গাতেই এরকম কিছু দেখা যায়নি সিসমিক ওয়েভ এর মাধ্যমে যে জায়গাটা ফাঁকা আছে বা এখান থেকে মানুষ বা কোন জীব থাকতে পারে। বা কোন প্রতেক্ষ প্রমান দুটো ক্ষেত্রেই আমাদের কাছে নেই সুতরাং এটি বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনাদের উপরই ছেড়ে দিলাম। কারণ বিজ্ঞানীরা যতদিন না আমদের এই ব্যাপারে খোলাসা করছে ততদিন আমরা কেউ এই ব্যাপারে সঠিকভাবে জানতে পারব না।
(সিফাত সোহা ,ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম)