বিয়ের ৩৬দিনের মাথায় সন্তান প্রসব!

50

স্টাফ রির্পোটর,(যশোর) :যশোরের কেশবপুরে বিয়ের ৩৬দিনের মাথায় সন্তান প্রসব করেছেন নববধূ। সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে হত্যার চেষ্টা করা হলেও এখন শিশুটি সুস্থ রয়েছে। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন মা। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্তান জন্ম দেয়া ফাতেমা খাতুন কেশবপুরের বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের খোপদহি গ্রামের মেয়ে ও স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর সাগরদাড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে আল-আমিনের সাথে তার বিয়ে হয়।
সাগরদাড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বর আব্দুস সবুর জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর ফাতেমা ও আল-আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের ১ মাস ৬ দিন পর মঙ্গলবার সকালে তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এর আগে ফতেমা ও তার মা-বাবা তার গর্ভে সন্তান আছে এই তথ্য গোপন করে বরপক্ষের সাথে প্রতারণা করে তড়িঘড়ি বিবাহ সম্পন্ন করে।
মেম্বর আব্দুস সবুর আরও জানান, নববধূ শ্বশুরালয়ে আসার পর বিভিন্ন সময় তার গর্ভের সন্তানের কারণে সমস্যায় ভুগছিল। ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকালে ফতেমার পেঠে ব্যথা শুরু হলে তার স্বামী স্থানীয় সাগরদাঁড়ি পল্লী চিকিৎসক বাবুকে সংবাদ দেন। ডাক্তার গর্ভে সন্তানের কথা বললেও নববধূ অস্বীকার করেন। পরে ডাক্তার ইনজেকশন দিলে প্রসব বেদনা শুরু হয়। মেয়েটি বাথরুমে গিয়ে সন্তান প্রসব করে। পরে হত্যার চেষ্টা করে বাথরুমের পেছনে ফেলে দেয়। কিন্তু নবজাতকের কান্না শুরু তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এরপর ফাতেমা সন্তানের বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে গত এক বছর পূর্বে শেখপুরা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মুরগির পিকাপ চালক রাসেলের সাথে তার পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাসেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে তার গর্ভে সন্তান জেনে রাসেলকে সে জানায়। কিন্তু রাসেল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। বিষয়টি তার পিতা-মাতা জানার পরও সকলের কাছে তথ্যটি গোপন করে গত ২২ সেপ্টেম্বর আল-আমিনের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের ১ মাস ৬ দিনের মাথায় এই পুত্র সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়।
মেম্বর আব্দুস সবুর আরও জানান, তিনি ঘটনা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানিয়েছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মেয়েটি আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছে। এজন্য তাকে চোখে চোখে রাখা হচ্ছে। তবে মেয়ের বাড়ির সবাই গা-ঢাকা দিয়েছে। নবজাতকটি ফতেমার স্বামীর তত্বাবধানে সাতক্ষীরায় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শেয়ার