আইনস্টাইন পাখির পালকের বেড তৈরি ও বাজারজাত করতেন

88

: ইসতিয়াক আহম্মদ তৌফিক:

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী।

তিনি  মিউনিখের অক্টোবেরফেস্টকে প্রথম বিদ্যুতায়িত করে এবং সহাবিংকে প্রথম বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। তার মা পাওলিন পরিবারের অভ্যন্তরীণ সব দায়িত্ব পালন করতেন।

আইনস্টাইনের জন্ম ৪ মার্চ, ১৮৭৯ জার্মানির উলমাশহরে। তার বাবা ছিলেন হারমান আইনস্টাইন আর মা পাওলিন। বাবা হেরমান আইনস্টাইন মূলত পাখির পালকের বেড তৈরি ও বাজারজাত করতেন।

তিনি মিউনিখে এলেকট্রোটেকনিস ফেবরিক জে এইনসটেইন এন্ড সিই নামের তড়িৎ যন্ত্র নির্মাণ কারখানা স্থাপন করে মোটামুটি সফলতা পান।

১. স্কুল শেষ করে জুরিখের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করেন অ্যালবার্ট। সে সময় সেনাবাহিনীতে ভর্তি ছিল বাধ্যতামূলক। সে বছরই ভর্তি এড়াতে জার্মান নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন তিনি। তখন  আইনস্টাইনের বয়স ১৭ বছর।

২. রোজ অন্তত ১০ ঘণ্টা ঘুমাতেন। মানুষের ঘুমের গড় হিসাব ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। তবে তিনি যদি কোনো গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন তবে সে ঘুম আরো বেড়ে গিয়ে হত ১১ ঘণ্টা। তিনি দাবী করতেন, তার বহু আবিষ্কারের সঙ্গে নাকি রাতে দেখা স্বপ্নের সম্পর্ক আছে।

আইনস্টাইন মনে করতেন  দিবানিদ্রা মনকে তাজা করে এবং  দিবানিদ্রাই তাকে সৃজনশীল করে তুলতে সাহায্য করেছে। এই ঘুমের মধ্যেই অনেক বিজ্ঞানী কঠিন সমস্যার সমাধান করে ফেলেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী ওয়াটসন।তিনি ডিএনএ-র গঠন বুঝে ফেলেছিলেন ঘুমের মধ্যেই। আইনস্টাইন নিজেও আপেক্ষিকতাবাদের সূত্র এভাবেই বের করেছিলেন।

৩. প্রিন্সটনে কাজ করার সময় আইনস্টাইন রোজ প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে কর্মক্ষেত্রে যেতেন। কারণ আইনস্টাইন মনে করতেন এতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. ভায়োলিন বাজাতে খুব পছন্দ করতেন আইনস্টাইন। মস্তিষ্কের সঙ্গে হাত আর চোখের সমন্বয় ঘটে। যে কারনে তিনি প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভায়োলিন বাজাতেন । তার মতে, ক্ল্যাসিকাল মিউজিক কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে মনকে চাপমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

৫. তিনি স্প্যাগেটি খেতে দারুণ ভালবাসতেন । ভাললাগার জন্যই যে স্প্যাগেটি খেতেন তা-ই কিন্তু নয়। সারা শরীরের ২০ শতাংশ এনার্জি প্রয়োজন ব্রেনের। আর আইনস্টাইনের মতে, স্প্যাগেটির কার্বোহাইড্রেট ব্রেনের জন্য খুব ভাল এনার্জির উৎস।

৬. আইনস্টাইনের একটা বদভ্যাস ছিল ধূমপান করা। তার মুখে সারাক্ষণই পাইপ থাকত আর ধোঁয়ার কুণ্ডলী তাকে ঘিরে থাকত সর্বক্ষণ।

৬. ,তিনি শেষ জীবনে আইনস্টাইন নিরামিষাশী হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ১৯৫৩ সালে বন্ধু ম্যাক্স ক্যারিয়েলকে চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি যখনই প্রাণীর মাংস খেতাম, ভিতরে ভিতরে একটা অপরাধবোধ হত।

৭. আইনস্টাইন কখনো মোজা পরতেন না। ছোট থেকেই এই অভ্যাস তৈরি হয়েছিলো তার। তিনি বিশ্বাস করতেন, যেটা আরামদায়ক হবে সেটাই পরা উচিত। তার কাছে মোজা  ছিল না।

৮. আইনস্টাইন কখনো সাঁতার শেখেননি। তবে তার ইচ্ছা ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলে ভেসে থাকা। তিনি নৌকায় ভেমেস বেড়াতে পছন্দ করতেন।

শেয়ার