আব্দুল করিমের পথ ধরে হাঁটছেন চাষিরা

209 views

নিজস্ব প্রতিবেদক : আব্দুল করিম একজন ‘পথ প্রদর্শক’। যশোরের মাটিতে মাল্টা চাষ করার পথটি তিনিই দেখিয়েছেন। আর তার দেখানো পথে এখন হাঁটছেন অনেক তরুণ। গড়ে উঠছে একের পর এক মাল্টা বাগান। করিমের সাফল্যের পথ বেয়ে অন্যরাও মাল্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন।

বদলে যাওয়া এ দৃশ্যপট যশোরের মণিরামপুর উপজেলার। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সুস্বাদু এই মাল্টার বাণিজ্যিক চাষে রয়েছে সাফল্যের অপার সম্ভাবনা।

তবে যাত্রা শুরুর গল্পটি এতো সহজ ছিল না। সেই গল্পই শোনালেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম।

সময়টা অক্টোবর ২০১৪। মণিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়ের প্রেরণায় কৃষি বিভাগের শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের আওতায় এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক বারি মাল্টা-১ জাতের গাছের চারা রোপণ করেন আব্দুল করিম। ক্ষেতে ১৭০টি চারা রোপণের পর শুরু করেন নিবিড় পরিচর্যা। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তানের মতোই লালন পালন শুরু করেন গাছগুলোর। ফল মিলতে শুরু করে তিন বছর পর।

গত বছর ৩৩টি গাছে ফল আসে। ওই বছর প্রায় একটন মাল্টা বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা আয় হয় তার। এ বছর ৯৪টি গাছে মাল্টা ধরে। এবার প্রায় ৩ টন মাল্টা তিনি বিক্রি করেছেন। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

আব্দুল করিম জানান, একটি মাল্টা গাছের পূর্ণমাত্রায় ফলন দিতে ৫ বছর লেগে যায়। এরপর যথাযথ পরিচর্যা করলে প্রতি গাছ থেকে বছরে ২৫০ কেজির মতো ফলন প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কৃষক আব্দুল করিম আরও জানান, তাকে দেখে এলাকার অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। আগ্রহীদের স্বার্থে ইতোমধ্যে তিনি চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই এখন তার কাছ থেকে মাল্টা চারা সংগ্রহ করছেন।

আব্দুল করিমের মাল্টা বাগান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাগান করেছেন একই এলাকার আফজাল হোসেন। তিনি জানালেন, গত বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে ৫৪২টি মাল্টা চারা লাগিয়েছেন। গাছগুলো বড় হচ্ছে। আগামী বছরেই অন্তত ৫০ থেকে ১শ গাছে ফলন হবে বলে আশা তার।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মানিক সরকার জানান, মণিরামপুরে মাল্টা চাষের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আব্দুল করিম চার বছর আগে এই মাল্টা চাষের সূচনা করেন। ইতোমধ্যে তিনি ফলন পেতে শুরু করেছেন। জৈব সার ও জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই ফল বিষমুক্ত। গত দু’বছরে তার এই ফলন দেখে আশপাশের এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এ পর্যন্ত মণিরামপুরেই প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। এ ধারা আরও বাড়ছে।

মণিরামপুরের চিনাটোলা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বারি মাল্টা-১ জাতটি চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি উপযুক্ত। এই মাল্টা কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ হয়। মাল্টার নিচের দিকে পয়সা আকৃতির একটি ছাপ আছে। এটি আমদানিকৃত মাল্টার চেয়ে মিষ্টি ও সুস্বাদু। এ কারণে তারা এটি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। আগ্রহীদের সব ধরনের সহযোগিতাও করছে কৃষি বিভাগ।