রোমানদের রীতি:বনভূমিই হলো বিবাহবাসর,

270

ফিচার ডেস্ক ;

সভ্যতার আগে রোমানদের রীতি ছিল, বরের বন্ধুরা যখন কনের বাবার সঙ্গে দর-কষাকষি করতে থাকে, বর কনেকে ধরে নিয়ে জঙ্গলে চলে যেতে পারে, তাহলে ধরে নেয়া হতো বিয়ে হয়ে গেছে।

কনে হরণের ব্যাপারটি কনের বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও ধরে নেয়া হতো বিয়ে হয়ে গেছে। রোমানরা মনে করতো পবিত্র বনভূমিই হলো বিবাহবাসর, এখানে প্রবেশ করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবে।

গ্রীকদের মধ্যে একটি নিয়ম চালু ছিল- তারা কনের নতুর শ্বশুরবাড়িতে অনেক যৌতুক সামগ্রী পাঠাতো। সুসজ্জিত দুই চাকার গাড়িতে করে কনে ও যৌতুক সামগ্রী বরের বাড়িতে দিয়ে আসা হতো। এরপর সেই গাড়িটি বরের বাড়ির সামনেই পুড়িয়ে ফেলা হতো।

জার্মান জাতির মধ্যে এক বিবাহ প্রথা ছিল ঠিকই কিন্তু তাদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রথার প্রচলন ছিল। বিয়ের সময় ছেলেরা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্পত্তির অংশ পেত। সম্পত্তির লোভে পিতাদের মধ্যে ঝোঁক থাকতো ছেলেকে দ্রুত বিয়ে দেয়ার।

এমনও হতো, দশ-বারো বছরের ছেলের সঙ্গে প্রাপ্ত বয়ষ্ক মেয়ের বিয়ে দেয়ার পর ছেলের পিতা পুত্রবধূর সঙ্গে সহবাস করতো। প্রাচীন গ্রীসে আরো এক রীতি চালু ছিল- অতিথিদের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শনের জন্য নিজেদের স্ত্রী বা কন্যাকে তাদের সঙ্গে রাত্রি যাপন করতে দিত।

এছাড়া বিয়ের পরই মেয়েকে অন্য সমাজের লোক বা বহিরাগত বলে মনে করা হতো- ভারত, ইজিপ্ট, গ্রীস, রোম, জার্মানি, ইংল্যান্ড, আজটেক এবং ইনক রাজ্যের সব স্থানেই এই অবস্থা ছিল।

মালাবারে এমন প্রথা চালু ছিল, প্রকাশ্যে নারীর কুমারীত্ব নষ্ট করাতে মাতা ধরিত্রীকে ফলবতী ও উর্বর করার প্রতীক হিসেবে ধরে নেয়া হতো। ফলদাত্রী দেবীর আরাধনা হিসেবে প্রাচীন কালে আসচেরা-অস্টারট, মিলিটা অ্যাফ্রোডাইট, ভেনাস এবং কিবোলি দেবীর নামে এই সব প্রথা চলু ছিল। যে ব্যক্তি কনের কুমারীত্ব প্রথম নষ্ট করতো তাকে পুরস্কার দেয়া হতো। স্বামীরা তাদের স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের জন্য ‘কাইমার’ বা ‘পাটামার’দের ভাড়া করতোন।

ব্যাবিলন, ফোনিসিয়া, লিডিয়া এবং আরো কিছু স্থানে ধর্মানুষ্ঠানের নামে কুমারী নারীদের উপর যৌন নির্যাতন চলতো। কনের বিয়ের আগেই সমগ্র উপজাতি বা গোষ্ঠীর কাছে সমর্পণ করা হতো।

সেইসব কাইমারদের খুব সম্মানের চোখে দেখা হতো। একাজে অংশ নেয়া কাইমার বা পুরোহিতরা রাজাদের স্ত্রীকে ভোগ করার জন্য পঞ্চাশ স্বর্ণমুদ্রা পেতেন।

ব্যাবিলনিয়ন সম্রাজ্যের শক্তিশালী রাজধানী ব্যাবিলনে অদ্ভূত এক আইন চালু ছিল- প্রত্যেক কুমারী মেয়েকে অন্তত একবার মিলিট দেবীর মন্দিরে তীর্থযাত্রা করতে হতো। দেবীর সম্মানার্থে মন্দিরে আসা আগন্তুক পুরুষের পছন্দ অনুযায়ী তার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হতো।

লিডিয়া, কারথেজ এবং সাইপ্রাসের তরুণী মেয়েদের পতিতাবৃত্তি করে নিজেদের বিয়ের যৌতুক সংগ্রহ করতে দেয়া হতো। কথিত আছে, মিশরের রাজা চিঅপস একটি পিরামিড তৈরি করার জন্য সব খরচের টাকা আয় করার ভার তার মেয়েকে দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: নারী অতিত বর্তমান ও ভবিষতে: আগস্ট বেবেল। অনুবাদ: কনক মুখোপাধ্যায়। ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড।

শেয়ার