নওগাঁয় এক কক্ষে পাঠগ্রহণ করছে ৭২জন কোমলমতি শিশু

60

 

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ নওগাঁ সদর উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত শতবর্ষি বিদ্যাপিঠ চকউজির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যাপিঠে শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারণে একই কক্ষে ৭২জন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে প্রতিদিন পাঠগ্রহণ করছে।

এছাড়াও নেই কোন খেলার উপকরন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই বিনোদন বঞ্চিত পরিবেশে প্রতিদিন এসে পাঠ গ্রহণ করছে। তাই নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মুখ থুবরে পড়েছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের সংকট, বসার পর্যাপ্ত ব্রেঞ্চের অভাবসহ নানা সমস্যার ভারে রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার সীমান্তবর্তি চকউজির গ্রামে অবস্থিত চকউজির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৮৮০ সালে চকউজির গ্রামের মন্ডল পরিবারের কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা এলাকায় শিক্ষার আলোয় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান করে প্রথমে ছনের বেড়া ও পরবর্তিতে মাটির দুটি কক্ষ তৈরি করে শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন।

দীর্ঘ সময় মাটি আর বেড়ার ঘরে পাঠদান চললেও ১৯৯৩ সালে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটি অনেক পুরাতন হওয়ায় ছাদের সিমেন্ট বালু খুলে খুলে শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ছে। পরবর্তিতে বছর দুয়েক আগে আরেকটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়।

এই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন দুই শিফটে প্রায় ৩০৪ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে। দীর্ঘ বছর পার হলেও এখনো দূর করা হয় নাই কক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যা। আশেপাশে আর কোন বিদ্যালয় না থাকায় কয়েকটি গ্রামের কোমলমতি শিশুরা একই কক্ষে গাদাগাদি করে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

অভিভাবক রোজিনা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, নওগাঁ সদর, রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি এই ৩উপজেলার মোহনায় অবস্থিত এই প্রাচীন বিদ্যাপিঠটি। কিন্তু দীর্ঘদিনের কক্ষ সংকটসহ বিদ্যালয়টিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই লাগেনি।

আশেপাশে কোন বিদ্যালয় না থাকায় আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি। পুরাতন ভবনের কারণে আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর আতঙ্কে থাকি।

উপযুক্ত পরিমাণ জায়গা থাকলেও নতুন ভবন না পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে রয়েছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দূর করে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করা খুবই জরুরী।
প্রধান শিক্ষক রাম দুলাল রবি দাশ বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। নতুন পুরাতন ভবন মিলে বিদ্যালয়ে মোট কক্ষ রয়েছে ৬টি।

এর মধ্যে ১টি কক্ষে সহকারি শিক্ষকদের কমোন ও স্টোর রুম আর ১টি কক্ষ প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৪টি কক্ষে দুই শিফটে গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়টির সামনে আরেকটি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ থাকায় জায়গা নেই বললেই চলে। তবে নতুন ভবনের উপর যদি আরেক তলা নির্মাণ করা হয় তাহলে কক্ষ সংকট অনেকটাই হ্রাস পাবে। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষক সংকট। অতিদ্রæত পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট আধুনিক মানের একটি ভবন, ব্রেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করা খুবই জরুরী। তা না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম মিলন বলেন স্কুলের এই সকল সমস্যার কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয নাই। জরুরী ভিত্তিতে সংকট দূর করা প্রয়োজন তা না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মানুষরা মুখ ফিরিয়ে নিবেন।

এছাড়াও বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য একটি মনোরম ও আনন্দদায়ক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাইয়ার সুলতানা বলেন, ওই বিদ্যালয়ে অবকাঠমোগত কি কি সমস্যা আছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি অতিদ্রæত ওই বিদ্যালয়ের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে জানাবো।

শেয়ার