প্রাথমিকে দপ্তরী নিয়োগের টাকা গেল চৌগাছার নেতাদের পকেটে ঝুঁলে আছে চাকুরীতে যোগদানে

114

স্টাফ রির্পোটার,যশোর \
যশোরের চৌগাছার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১জন যুবকের দপ্তরীকাম প্রহরী পদে নিয়োগের টাকা গেছে নেতাদের পকেটে। তবে ওই সকল যুবক চাকুরী পেয়েও নানা অজুহাতে যোগদানে ঝুঁলে থাকছে বছরের পর বছর। বিষয়টি দেখার কেউ নেই। যে কারনেই শেষমেষ চাকুরী প্রার্থীরা  নিরুপায় হয়ে আইনী লড়াই শুরু করেছেন। তবে এ ঘটনায় পর থেকে সংশ্লিষ্টরা বেশ নড়েচড়ে বসেছেন।
জানাযায়,চলতি ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর চারাবাড়ি গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন,বন্দলীতলা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান,জগদীশপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন,আড়কান্দি গ্রামের মোশারফ হেসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম,যাত্রাপুর গ্রামের মইনুদ্দিনের ছেলে বাদশা মিয়াসহ১৭ জন চাকুরী ফিরে পেতে ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে এ রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ১২৮২২। এই রিটপিটিশনটি পরিচালনা করছেন এাড.উজ্জল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়,২০১৪ সালে চৌগাছার ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে সারাদেশের ন্যায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে ২১জনকে যথাক্রমে খড়িঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মতিয়ার রহমানকে ১৬/৩/১৪, রায়নগরে মোশারফ হোসেনকে ০৪/৫/১৪,বুন্দলীতলাতে আজিজুর রহমানকে ০১/৬/১৪, বেড়গোবিন্দপুর মাহমুদুল হানসানকে ২৫/৩/১৪, বড়খানপুর সাদ্দাম হোসেনকে ০৫/৩/১৪, রাণীয়ালী জয়দেব কুমার সরকারকে ২৫/৩/১৪, মাশিলা আলমগীর হোসেন ১০/৪/১৪, গয়ড়া মুসা হারুনকে ০৮/৪/১৪,স্বরুপদাহে মফিজুর রহমানকে ০৬/৩/১৪, হাউলী সুনিতোষ কুমার বিশ্বাসকে ২৭/৪/১৪, শাহাজাদপুরে আবু বাক্কার সিদ্দিককে ২৫/৩/১৪, সুখপুকুরিয়াতে ফারুক হোসেনকে ১২/৫/১৪, সৈয়দপুরে উজ্জল মিয়া ১৪/৫/১৫, যাত্রাপুরে বাদশা মিয়াকে ০৫/৫/১৪, জগদীশপুরে আনোয়ার হোসেনকে ১১/১/১৪, নিউ আড়কান্দি সাইফুল ইসলামকে ১৪/৫/১৪ ও কাকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনোয়ার হোসেনকে ২০/৫/১৪, দক্ষিন বল্লভপুর (অজ্ঞাত) ১৬/৪/১৪, দেবিপুর (অজ্ঞাত) ০৫/৩/১৪, বাদেখানপুরে (অজ্ঞাত) ০৫/৩/১৪ এবং পুড়াহুদা (অজ্ঞাত) ২৭/৩/১৪ তারিখ্র,যাত্রপুর গ্রামের বাদশা মিয়াকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ড বাছাইপূর্বক চুড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার জন্য শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কাছে পাঠানো হয়। কিন্ত এ নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতার কারনে ওই নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এমন কি এই নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (যার নং ৩৪৫৮/২০১৫ ) দায়ের করলে সারাদেশের ন্যায় চৌগাছাতেও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। ফলে ওই ২১জন যুবকের চাকুরী অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু লেনদেনে মধ্যস্তকারি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের আশ্বাসে প্রায় চার বছর অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। মহমান্য হাইকোটের রিট পিটিশন ৩৪৫৮/২০১৫ নং মামলায় গত ০৭/০৯/২০১৬ তারিখ রুল এবসুলেট মর্মে রায় প্রদান করে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসন-২ অধিশাখার যুগ্ম সচিব কেএম রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত গত ৮ ফেব্রæয়ারী ২০১৭ তারিখ পত্র ও নিদের্শনা মোতাবেক চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৭ আগস্ট পুনঃরায় আবেদন চেয়ে বিগত ২১ টি বিদ্যালয়সহ মোট ৪১টি বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন।
আদালতে রিটপিটিশন কারী ও ভ’ক্তভোগীদের দাবী এ বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপিকে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা কোন ফল পাননি না। তাই শেষমেষ নিরুপায় হয়ে আইনী লড়াই শুরু করেছেন।

বর্তমানে দপ্তরী পদে চাকুরীতে যোগদানের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের পরিবারের সদস্যরা অতিকষ্টে দিন কাঁটাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশকয়েকজন অভিযোগ করেছেন আমরা চাকুরী নেবার সময় সহায় সম্বল বিক্রি করে সংশ্লিদের কাছে টাকা লগ্নি করেছিলাম। এখন তারা চাকুরীও পাচ্ছেন না আবার লগ্নিকৃৃত টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। যে কারনে আমরা শেষমেষ আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান,,স্কুলে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের বিষয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেকই সব নিয়োগই হয়। সরকারী বিধিবিধান অনুসরণ করেই বিষয়টি সমাধান হবে। তবে এখন এ বিষয়টি আদালতের উপর নির্ভর করছে।

শেয়ার