২৫ নভেম্বর(সোমবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

41

বি এম রাকিব হাসান,খুলনা:
আগামী ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুন মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাশ হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই। এরপর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪ টি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাশ শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয় প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের ২৯ বছর পূর্ণ করলো।
প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকাটি ছিলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক বধ্যভূমি। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি স্কুল (অনুষদ) রয়েছে। এখানে মোট ২৯টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এম ফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫’শ। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এছাড়া কর্মকর্তা রয়েছেন ৩ শতাধিক এবং কর্মচারী রয়েছে প্রায় ৩শত। শিক্ষা কার্যক্রমের গত ২৯ বছরে ২৫টি ব্যাচে থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েট সংখ্যা ১১ সহ¯্রাধিক। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের কেআইএএস বিশ্ববিদ্যালয়, সারওয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মেকানিকাল বিভাগ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (এলআইপিআই) এর বায়োমেটিরিয়ালস সেন্টার এবং জার্মানির স্টুটগার্টস ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। আন্তঃমহাদেশীয় একটি গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অফিস চালু হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩টি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৫টি বাসভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, ডাকঘর ও মসজিদ। ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের জ্ঞান সহায়তায় রয়েছে সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন।
দেশের তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বিকাশে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন জনসম্পদ সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নেওয়া এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা সাফ্যল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে।
এদিকে, ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে প্রার্থনা, মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। এছাড়া ক্যাম্পাসের মেইন গেট, প্রশাসন ও একাডেমিকভবন এবং হলসহ বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।

 

শেয়ার