কাঁমারগা খাদ্যগুদামে খাবার অযোগ্য চাল ঢোকানোর চেস্টা

50 views

আলিফ হোসেন,তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরের কাঁমারগা সরকারি খাদ্যগুদামে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে জেলার বাইরে থেকে চালান ছাড়াই দুই ট্রাক নিম্নমাণের পুরানো ও খাবার অযোগ্য চাল এনে গুদামে ঢোকানোর সময় স্থানীয় মিলার ও জনতা তা হাতেনাতে ধরে ট্রাক দুটি আটক করে পুলিশে খবর দেন। এই দুই ট্রাকে ২২ মেট্রিক টন করে মোট ৪৪ মেট্রিক টন চাল ছিল যা নিম্নমাণের ও খাবার অনুপোযোগী ।তাঁদের বাধার মূখে ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম চাল গুদামে নিতে পারেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় গুদাম চত্ত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা গুদাম কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তার শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ম্লোগান দিতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ গুদাম কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম শুধু চাল নয় ধান-গম প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করে চলেছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাক দুটি ফেরত পাঠায়। চলতি বছরের ১৯ জুন বুধবার বিকেলে তানোরের কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলারগণ বলেন, নিয়মানুযায়ী এসব ট্রাক আটক ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হবার কথা, কিšত্ত রহস্যজনক কারণে এসব কিছুই হয়নি ট্রাক দুটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে ট্রাক ছেড়ে দেবার খবর জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, দাবী উঠেছে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়রা জানান, তানোরের কাঁমারগা ইউপির মাদারীপুর এলাকার মেসার্স সরকার ও করিম চাল কল নামে দুটি চাল কলের নামে চালগুলো গুদামে ঢোকানো হচ্ছিল। কিšত্ত এই চালকল দুটি এখন বন্ধ। একটি সিন্ডিকেটের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গুদাম কর্মকর্তা নিজেই অনিয়ম-দূর্নীতি করে এ দুটি চাল কলের কাগজপত্রের মাধমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুরের নজরুল অটো রাইস মিল ও নওগাঁর রাকিব চালকল থেকে চালগুলো এনে ছিল, আবার চালগুলোও এই বছরের নয় পুরাতন নিম্নমাণের ও খাবার অযোগ্য এসব চাল কেনাও হয়েছিল কম দামে। স্থানীয়দের অভিযোগ তানোরের জনৈক আনু, শুনীল ও মিজান সিন্ডিকেট করে গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব চাল তার মাধ্যমে নিয়ে এসেছিল। এবিষয়ে তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদের প্রতিনিধি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, মিল মালিক কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে চুক্তিবদ্ধ মিলে উৎপাদিত চাল ব্যতিত বাইরের জেলা থেকে কোনো চাল সরবরাহ করা যাবে না, যদি কেউ নিয়মের ব্যতয় ঘটায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু বলেন, তিনি সরকারী কাজে ঢাকায় আছেন। তবে ঘটনা শুনেই তিনি চালগুলো ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, চালগুলো দুটি বন্ধ মিলের নামে ঢোকানো হচ্ছিল বলে তিনি শুনেছেন। তাই ওই দুই চালকলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার জন্য তিনি তাৎক্ষনিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরো তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা মইনুল হোসেন বলেন, এসব চাল তানোরের ভেতরের চালকল থেকেই আনা হয়েছিল এবং সেই চালকল দুটি সচল। তবে এবার কিছু অচল চালকলের সঙ্গে চুক্তি না করার কারণে তারা এই ঝাঁমেলাটা বাঁধিয়েছেন। তানোরের চাল কলের নামে তিনি নিজেই চাল সরবরাহ করছিলেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। #