প্রেমিকার উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

13 views

স্টাফ রির্পোটার,যশোর:

প্রেমিকার উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যশোরে ফেরদৌস হোসেন (২০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের শংকরপুর সন্যাসীর দিঘিরপাড়ে এঘটনা ঘটে। নিহত ফেরদৌস হোসেন নাজির শংকরপুর সাদেক দারোগার মোড় এলাকার আজাদ হোসেনের ছেলে। পুলিশ এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। যদিও আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি পুলিশ।
এদিকে এ হত্যাকান্ডের পর টিবি ক্লিনিক এলাকার হৃদয়ের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল দুর্বৃত্ত শংকরপুর জমাদ্দার পাড়ার দুইটি দোকান ও একটি বাড়ি ভাংচুর করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, নাজির শংকরপুর সাদেক দারোগার মোড় এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে মুন্নি খাতুনের সাথে ফেরদৌসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝে মধ্যে তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু চাঁচড়া রায়পাড়ার মেসিয়ার খোকনের ছেলে সাব্বির কয়েকদিন আগে মুন্নিকে উত্ত্যক্ত করে। বিষয়টি জানতে পেরে ফেরদৌস তার প্রতিবাদ করে। এতে সাব্বির তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফেরদৌস ও তার বন্ধু সুজন শংকরপুর সন্যাসীর দিঘিরপাড় এলাকায় যায়। কিন্তু পিছনে ওৎ পেতে থাকে সাব্বিরসহ আরো ৩/৪জন। সন্যাসীর দিঘিরপাড়ে পৌছানো মাত্র সাব্বিররা সেখানে গিয়ে ফেরদৌসকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে চলে যায়। ফেরদৌস দৌড়ে কয়েক গজ যাওয়ার পর মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে। এসময় তার সাথে থাকা বন্ধু সুজন উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরদৌস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে শংকরপুরের আকবরের ছেলে সাব্বির এবং ছোটনের মোড়ের আলতুর ছেলে অনিককে আটক করেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। যদিও আটকের বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেনি।
অপরদিকে এঘটনার জের ধরে এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শংকরপুর ছোটনের মোড়ের নূর ইসলামের ছেলে হৃদয় এবং টিবি ক্লিনিক মোড়ের বেশ কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক জমাদ্দার পাড়ার টুটুল ও মুকুলের দোকান ভাংচুর করে এবং লুটপাট করে। একই সময়ে তারা এলাকার বাদশার বাড়ির ভাড়াটিয়া নুরুর ভাড়া করা ঘর ভাংচুর করে। এনিয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
নিহতের পিতা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি পেশায় একজন রিক্সা চালক। এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে ফেরদৌস হোসেন বড়। সে লেখাপড়া বেশি না জানলেও যশোর আইটি পার্কের ডিজিকম নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বয় হিসেবে কাজ করতো। কিছুদিন হয়েছে তার সেই চাকরিটি নেই। বর্তমানে বেকার। এদিন সকালে তিনি রিক্সা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর ১২টার দিকে এলাকার বিল্লালের মেয়ে মুন্নি খাতুন তাকে ফোন করে বলে, ‘আব্বু ফেরদৌসকে সাব্বিররা কুপিয়ে মেরে ফেলছে’। এরপর তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান। এদিনই ময়নাতদন্ত শেষে মাগবির বাদ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান বলেছেন, ঘটনার পরই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ আটক বা মামলা হয়নি।