যশোর সদর হাসপাতাল : দ্বিগুণ রোগীর সেবায় হিমশিম

142 views

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাতা কলমে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ সুবিধা। তবুও নানা সংকটের মধ্যেও চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। প্রতিদিন গড়ে দেড়শর বেশি নতুন রোগী ভর্তি হয়। নতুন-পুরাতন মিলে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে চারশ রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছে। যা নির্ধারিত আসনের প্রায় দ্বিগুণ। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগী ও তার স্বজনদের থাকতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল।
হাসপাতালের গত সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায় হাসপাতালে অবস্থান করে ১৫ হাজার ২শ’ ২৮ জন রোগী সেবা নিয়েছে। যা গড়ে প্রতিদিন ৫০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৭শ’ ৯০ জন, মহিলা রোগী ৭ হাজার ২শ’ ১৫ জন ও শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২শ’ ২৩ জন। এই মাসে নতুন রোগী ভর্তি হয় ৬ হাজার ৫শ’ ৫২ জন এবং হাসপাতাল ছেড়েছে যায় ৬ হাজার ৪শ’ ৮০ জন। এছাড়া এই মাসে বহিঃবিভাগ থেকে ৪৬,১৩৯ রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট প্রথম ৮ মাসের এক পরিসংখ্যানে দেয়া যায়, এক লাখ ৭ হাজার ৫৩৯ জন হাসপাতালে অবস্থান করে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৩ হাজার ৮শ’ ৮, ফেব্রুয়ারিতে ১২ হাজার ৯শ’ ৫৪ জন, মার্চে ১৩ হাজার ৯শ’ ৯৪ জন, এপ্রিলে ১৩ হাজার ৩শ’ ১০, মে মাসে ১৩ হাজার ৪শ’ ৪৩ জন, জুন মাসে ১২ হাজার ৪শ’ ১ জন, জুলাই মাসে ১৪ হাজার ৭৫ জন ও আগস্টে ১৩ হাজার ৫শ’ ৫৪ জন। যা গড়ে প্রতি মাসে ১৩ হাজার ৪শ’ ৪২ জন।
রোববার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ওয়ার্ডে বিপুলসংখ্যক রোগী শয্যা না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান করছেন। ঘিঞ্জি পরিবেশে রোগী ও তার স্বজনদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের সুষ্ঠু চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগী ও তার স্বজনদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত এক সেবিকা বললেন, ‘ভাই আমাদের দায়িত্ব অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির নিউজতো করেন, এই ছবি তুলে একটা নিউজ করে দিয়েন।’ একইসাথে যোগ করেন বারান্দায় রেখে রোগীদের রেখে ভালো সেবা দেয়া যায় না, সেইসাথে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তাদেরও কষ্ট হয়।’
হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন নওয়াপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এত বড় হাসপাতাল, কিন্তু সিট না পেয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।’ শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা রানী বেগম বলেন, ‘আমার একবছরের শিশুসন্তান মাহিনকে নিয়ে চার দিন ধরে ফ্লোরে আছি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সিট দিতে পারছে না। এতে করে আমার বাচ্চা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হাসপাতালে শয্যার অতিরিক্ত রোগী থাকার কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও তারা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে এই সমস্যা কিছুটা দূর হবে। প্রায় একবছর আগে নতুন ভবন নির্মাণ ও শয্যা বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে প্রোপাজল দেয়া হয়েছে।’