উঁদোর পিঁন্ডি বুঁদোর ঘাড়ে !

0

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউপি স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্রের ছাদের টবে গাঁজা চাষের অভিযোগে অস্থায়ী কেয়ারটেকার (কর্মচারী) আটক করা হলেও ফার্মাসিস্ট (কর্মকর্তা) আমিনুল ইসলামকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই আটক-ছাড়ের নেপথ্যে প্রায় লাখ টাকা আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে সাধারণের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে আমিনুলকে প্রায় ৬ ঘন্টা মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে আটকে রাখার পর ছেড়ে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মূখরুচোখ নানা গুঞ্জন, দেখা গেছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। স্থানীয়রা জানান, পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলেন, কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত (অস্থায়ী ) সাধারণ কর্মচারী কখানোই এমন কাজ করতে পারে না কারণ তার চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে। আবার অনেকে বলছে, ফার্মাসিস্টের বিরুদ্ধে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না আশা ও ওষুধ চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

তারা বলেন, ফার্মাসিস্ট নিজে গাঁজা চাষ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর কৌশলে কর্মচারীর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজে বাঁচার চেস্টা করছে। আবার কেউ কেউ বলছে, ফার্মাসিস্টের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা ধামাচাঁপাদিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে, তাদের দাবি আমিনুলকে পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে জিজ্ঞাসাদ করা হলে প্রকৃত ঘটনা উম্মোচিত হবে। তারা বলেন, স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুল কোনো ভাবেই এই দায় এড়াতে পারেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ ডিসেম্বর সোমবার উপজেলার বাধাইড় ইউপির জুমারপাড়া ইউপি স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছ উদ্ধার এবং ফার্মাসিস্ট (ইনচার্জ) আমিনুল ইসলাম এবং কেয়ারটেকার (অস্থায়ী কর্মচারী) ফারুক হোসেনকে আটক করেন মুন্ডুমালা তদন্তকেন্দ্রের (ফাঁড়ি) পুলিশ। কিšত্ত তাদের প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রাখার পর ইনচার্জ আমিনুলকে ছেড়ে দেয়া হলেও কর্মচারী ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এখানকার কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের মদদে এখানে গাঁজা চাষ করা হয়। কারণ বিষয়টি তারা একাধিকবার আমিনুলকে বলেছেন কিšত্ত তিনি তাদের কথা আমলে না নিয়ে উল্টো তাদেরকেই নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে, তায় তারা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদের টবে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা চাষ হয় আর সেখানকার কর্মকর্তা কিছুই জানেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় বরং এই অপরাধে আগে তারই শাস্তি পাওয়া উচিৎ। এদিকে মূলহোতা আমিনুল ইসলামকে ছেড়ে দেয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পরিবার-পরিকল্পনা সহকারী পরিচালক তাসিকুল হক বলেন, বাধাইড় ইউপি স্বাস্থ্যকেন্দেও ছাদে গাঁজা চাষের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে প্রমাণ হলে সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তানোর থানার ওসি (তদন্ত) রাকিবুল হাসান বলেন, কেয়ারটেকার ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে, আর ফার্মাসিস্ট আমিনুল ইসলামের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি বলেন, কেয়ারটেকার ফারুকের সঙ্গে যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মাসিস্ট (ইনচার্জ) আমিনুল ইসলাম বলেন, গাঁজা চাষের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনো ভাবেই সম্পৃক্ত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here