এমপি ফারুক চৌধূরীর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়

13

আলিফ হোসেন,তানোর
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় সনাতন ধর্মালম্বীদের সব চাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব স্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন ও আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মতবিনিময় করেছেন স্থানীয় সাংসদ, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর রোববার গোদাগাড়ী ও ৭ অক্টোবর সোমবার তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এসব পূজা মন্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন। তানোরে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু, তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম, চাঁন্দুড়িয়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, মোর্শেদুল মোনেনিন রিয়াদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। এদিকে এমপি ফারুক চৌধূরীর আগমণের খবরে প্রতিটি মন্দির মন্দিরে উৎসব মূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকুল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের আগমণ প্রমাণ করে এমপি ফারুকের জনপ্রিয়তা। আর এর মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এমপি ফারুকের কোনো বিকল্প নাই, তিনি এখানো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। এ সময় এমপি ফারুক চৌধূরী বলেন, আমরা অসা¤প্রদায়িক ও সা¤প্রয়িদক স¤প্রীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সকলকে স্বারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার আহবান।
অপরদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছাতে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষায় যেমন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রয়োজন: তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক গণতন্ত্রের ধারক-বাহক আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে অন্যথায় আওয়ামী লীগের পক্ষে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌচ্ছা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ তারা কখানো সুবিধা বা কোনো লোভ-লালসায় আদর্শচ্যুত হয় না। তিনি বলেন, আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে দলের ভিতরে কিছু বিপদগামী ও সুবিধাভোগী চক্র রয়েছে যারা সব সময় সুযোগ পেলেই দলে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি ও দলের ক্ষতি সাধনের চেস্টায় লিপ্ত থাকে, এদের চিহ্নিত করে দল থেকে বিতাড়িত করতে হবে আপনাদেরই। তিনি বলেন, আগামিতে আওয়ামী লীগকে জ্ঞানভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলায় তিনি নিজেকে আতœ-নিয়োগ করবেন। তৃণমুল নেতাকর্মীদের মধ্যে পৌচ্ছে দেয়ার চেষ্টা করবেন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ লীগের রাজনৈতিক দর্শন। তিনি বলেন, মূখে কেবল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শন কি, অর্থনৈতিক কর্মসূচী তথা উৎপাদন, উন্নয়ন, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান এবং আধিপত্যবাদ-স¤প্রসারণবাদ কি ও তার ক্ষতির দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের নেই প্রশ্নে আপোষহীণ সে বিষয়টি সকল নেতাকর্মীদের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তা ছড়িয়ে দিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে আমরা কি পেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা কেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, অন্যদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য কি, মানুষ কেন আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে ও সমর্থন করে-এসব বিষয়ে তৃণমুল পর্যায় থেকে শুরু করে সকল নেতাকর্মীদের হৃদয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তথা দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। তাহলে তারা দলের প্রতি আরও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে পারবেন। আগামীতে ঐক্যবদ্ধ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগকে নিয়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক ভাবে আরো শক্তিশালী, বেগবান ও সু-প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তাহলেই এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হলো অসা¤প্রদায়িক, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক। মানুষ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই আওয়ামী লীগকে আগামীতেও রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাই। সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আগামীতেও যাবে। তিনি বলেন, দূর্দীনে যারা দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছেন তাদের এবং প্রবীণ-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের আবারো সক্রিয় ও মূল্যায়ন করতে হবে ও আগামি দিনেও সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে তাহলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না ইনশাল­াহ্।