কালীগঞ্জে তড়িঘড়ি করেই দলিল লেখক সমিতির কার্ষক্রম স্থগিত ঘোষনা

0

মোঃ হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ঃ
১০ বছরের কয়েক কোটি টাকার আয়-ব্যায়ের হিসাব না দিয়েই তড়িঘড়ি করে কালীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্ষ্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার স্ব-ঘোষিত কমিটির সভাপতি আব্দুল হক ও সেক্রেটারি নাসির চৌধুরী কমিটির কার্ষ্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন। সমিতির সিনিয়র লেখক সদস্য আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ওইদিন বিকালে সভাপতি ও সম্পাদক তাৎক্ষনিক এক নোটিশে সদস্যদের ডেকে সমিতির কার্ষ্যক্রম স্থগিত করে একটি সাদা কাগজে সদস্যদের স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এবং সবাইকে জানানো হয় আগামী সপ্তাহ হতে লেখক সদস্যগন স্ব-স্ব ভাবে নিজ এবং সরকারী ফি নিয়ে জমি রেজিষ্টি করবেন। তাতে সমিতির নামে কোন টাকা আদায় বা জমা নিতে পারবেন না। এদিকে সাধারন সভা ছাড়াই কি কারনে তড়িঘড়ি করে আকস্মিক ওই কমিটির কার্ষক্রম স্থগিত করা হল তা কাউকেই খুলে বলা হয়নি। উল্লেখ্য ওই কমিটির স্ব-ঘোষিত সেক্রেটারি নাসিরের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যাবহার সহ সিনিয়র লেখক ও সাধারন মানুষের সাথে দূরব্যবহারের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে গত ৭ই আগষ্ট সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে শহরের কলেজ পাড়ার বিপ্লব হোসেন নামে এক ব্যাক্তি জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে এক অভিযোগ দিয়েছিল। এবং গত (২৮ অগাষ্ট) ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ অফিসের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ রেজিষ্টি অফিসে এসে সেক্রেটারী নাসিরকে জিঞ্জাসাবাদ করেছিল। এ নিয়েই সমিতির মধ্যে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। সর্বশেষ নানা অপকর্মের দ্বায় এড়াতে তড়িঘড়ি ওই কমিটির কার্স্যক্রম স্থগিত করেছে বলে অনেকে অভিমত পোষন করেছে। এদিকে সমিতির ১০ বছরের কয়েক কোটি টাকার আয় ব্যায়ের হিসাব ছাড়াই আকস্মিক কার্ষক্রম স্থগিত ঘোষনা করায় সদস্যদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমিতির আয়ের পাওনা টাকার পুরোটাই লোপাট হতে পারে এমন আশংকায় সদস্যদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে তড়িঘড়ি করে সমিতির কার্ষক্রম বন্ধের বিষয়ে মুঠোফোনে সমিতির সভাপতি আব্দুল হক জানান, মিটিং করেই সমিতির কার্ষক্রম স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি বা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আবার সভা ডেকে তবেই বলতে পারবেন বলে জানান। তবে কি কারনে কার্ষক্রম স্থগিত করা হয়েছে এমন বিষয়ে বলেন, সমিতিতে এখন ঝামেলা হচ্ছে, নির্বাচনে নতুন এমপি আসলে তারপর সমিতির কার্ষক্রম শুরু করবে। আর সভাতে আয়-ব্যায়ের হিসাব না দেওয়ার বিষয়ে বলেন, তিনি কখনও তার হাতে টাকা জমা নেননি, যারা নিয়েছেন তারাই সদস্যদের হিসাব বুঝে দিবেন বলে জানান।
এদিকে সমিতির বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিষ্টি অফিসার আমিনা খাতুন বলেন, কালীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সেক্রেটারী নাসিরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহ বরাবর এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগ পত্রের বিষয়ে গত ৬ ই সেপ্টেম্বর জেলা রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নূর জাহান বেগম ০৫.৪৪.৪৪০০.০০৮.৫৭.০১৯.১৭.৯৭৪ নং স্মারকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালীগঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেটি এখনো তদন্তাধিন আছে বলে জানা গেছে।