চেয়ারম্যান পুত্র মোজাম ফেন্সিডিলসহ আটক

0

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিকের পুত্র মোজাম্মেল হোসেন ওরফে ফেন্সি মোজাম ও তাঁর সহযোগী সোহেল রানাকে ১৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানা পুলিশ। চলতি বছরের ৫ ডিসেম্বর ফেন্সিডিলসহ তারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটককৃত চেয়ারম্যান পুত্র মোজাম্মেল ওরফে ফেন্সি মোজামের বাড়ি চৌবাড়িয়া মালশিরাগ্রামে আর সোহেল রানার বাড়ি তানোর পৌর এলাকার ঠাকুরপুকুরগ্রামে।

চেয়ারম্যান পুত্র আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এলাকার লোকজন দেখামাত্রই মিষ্টি বিতরণ শুরু করেন। এর আগে গত মাসের শেষের দিকে মোজামের সহযোগী কামারগাঁ ইউপির ধানুরা গ্রামের ছাত্রদল নেতা সাইদুর ওরফে ফেন্সি সাইদুর ভোলাহাট থানা পুলিশের হাতে প্রায় ২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক হন। তাদেরকে আটক করায় এলাকায় এক প্রকার স্বস্তি ফিরে এসেছে জনমনে। স্থানীয়রা জানান, কাঁমারগা ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামানিকের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় ও নেপথ্যে মদদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন প্রামানিকের পুত্র ফেন্সি মোজাম দীর্ঘ দিন ধরে পিতার মদদে চৌবাড়িয়া এলাকায় রমরমা ভাবে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। তাঁরা নাচোল, ভোলাহাট ও রহনপুর এবং নওগাঁ এলাকা থেকে বিভিন্ন কায়দায় ফেন্সিডিল নিয়ে এসে এলাকায় দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করত।

হাতের নাগালেই ফেন্সিডিল পাবার কারনে উড়তি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়েন। চেয়ারম্যান পুত্র মোজাম ও সোহেল মুক্তিযোদ্ধা স্টিকার লাগানো বাইকে করে নাচোল এলাকা থেকে ফেন্সিডিল নিয়ে আসছে এমন গোপন খবরে নাচোল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কালাইর রেলগেট এলাকা থেকে বাইকসহ তাদের আটক করেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করে নাচোল থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মাহবুব জামান জানান ৫ডিসেম্বর তাদেরকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ফেন্সিডিল বহনকারী সাদা রঙয়ের এপাাসি বাইক জব্দ করা হয়েছে।এলাকাবাসী জানায় চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন প্রামানিক ক্ষমতাসীন নেতা ও চেয়ারম্যান হবার সুবাদে তাঁর পুত্র দেদারসে ফেন্সিডিলের ব্যবসা করত।

বাবার ক্ষমতা দেখিয়ে ওপেন ব্যবসা করত মোজাম। চেয়ারম্যানের মদদ না থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে ব্যবসা করতে পারতনা তাঁর ছেলে। এর পূর্বে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিনের ছেলেকে ইয়াবাসহ র‌্যাব আটক করে। চেয়ারম্যান পুত্রদের মাদক নিয়ে আটকের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই দুই চেয়ারম্যানকে আগামী ইউপি নির্বাচনে যেনো মনোনয়ন দেয়া না হয় তার জন্য দলের নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here