তানোরে কৃষকরা মূখোমূখি উত্তেজনা

85

আলিফ হোসেন,তানোর (রাচশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে সরকারী খাদ্যগুদামে দ্বিতীয় ধাপে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান নিয়ে কৃষকরা রণপ্র¯ত্ততি নিয়ে মূখোমূখি অবস্থানে রয়েছে এতে জনপ্রতিনিধিগণ চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্লীপ পাওয়া কৃষকরা সরকারী খাদ্যগুদামে যেকোনো মূল্য ধান সরবরাহ করতে আর স্লীপ বঞ্চিত কৃষকরা যেকোনো মূল্য ধান সরবরাহ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে রণপ্র¯ত্ততি নিয়েছে। ইতমধ্যে স্লীপ বঞ্চিত কৃষকদের বাধার মূখে বাধ্য হয়ে কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামে ধান কেনা বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ধান সরবরাহ করা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যেকোনো সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে সাধারণ কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে উঠেছে, আবার চরম বিপাকে পড়েছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিধিগণ। অথচ যেই বিষয়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিগণের কোনো সম্পৃক্ততা নাই সেই বিষয়ে সাধারণ মানুষের (কৃষক) নানা প্রশ্নে তারা রীতিমত বিব্রতকর পরিস্থিতির মূখে পড়েছে। উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটি ও নীতিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু এলাকায় মাইকিং করে কৃষকদের মধ্যে ধান সরবরাহ স্লীপ দেয়ায় এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। কৃষি অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, তানোরে অনেক কৃষক রয়েছে যারা নিজেরা চাষাবাদ না করে বর্গা দেয়, আবার অনেক কৃষক রয়েছে যাদের ধান শর্ত পূরুণ করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা সম্ভব নয় ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা না করেই ইউএনও সাহেব একক ক্ষমতা বলে গণহারে কৃষকদের মধ্যে স্লীপ সরবরাহ করছে তাদের মতামতও নেয়া হয়নি। এদিকে ইউএনও সাহেবের স্লীপ হাতে পেয়েই কৃষকরা ধান নিয়ে ভৌঁ-দৌড় দিচ্ছে খাদ্যগুদামে। সরকারের দেয়া শর্ত পুরুণে ব্যর্থ বা ধানের প্রয়োজনীয় আদ্রতা না থাকায় তাদের কাছে থেকে ধান না কিনে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আর বিপত্তীর সূত্রপাত তখনই হচ্ছে কৃষকরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে না গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে নানান প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন। কিšত্ত এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় তারা না পারছেন কৃষকের প্রশ্নের সদোউত্তর দিতে না পারছেন কোনো সমাধান দিতে। এক্ষেত্রে কৃষকরা ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এমনকি এমপি মহোদয়কে নানা প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। আবার যারা স্লীপ পায়নি তারা অন্যদের ধান সরবরাহ ঠেকাতে রণপ্র¯ত্ততি নিয়ে বসে আছে। এখন ধান সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যেই বিস্ফোরণমূখ অবস্থা বিরাজ করছে তাতে থান সরবরাহ নিয়ে কোনো অনাকাঙ্খিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় নিবে কে ? এমন মন্তব্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মহলের। তবে কৃষকদের দাবী তারা কোনো স্লীপ নয় আগে আসলে আগে পাবেন এই নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ধান বিক্রি করতে চাই। উপজেলার কৃষকরা এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তানোরে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় ধাপে ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার কৃষকদের কাছে থেকে বোরো ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৬১৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ বরা হবে। এর মধ্যে কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামে ২৩২ মেট্রিক টন ও তানোর সরকারী খাদ্যগুদামে ৩৮৩ মেট্রিক টন। কৃষি কার্ড ধারী প্রতিটি কৃষক সরাসরি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করবে এবং প্রতিটি কৃষকের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা হবে, আর কৃষি বিভাগ প্রকৃত কৃষকের তালিকা তৈরী করে এসব কৃষি কার্ড সরবরাহ করবেন। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিত্বে কৃষকরা ধান বিক্রি করবে। ফলে এই ক্ষেত্রে অনিয়ম-দূর্নীতির কোনো সুযোগ নাই। রাজনৈতিক নেতারা চাইলেও এসব নিয়ম ডিঙ্গিয়ে সেটা করতে পারবেন না। তাহলে এলাকায় মাইকিং করে স্লীপ দেয়ার প্রশ্ন আসছে কেনো বরং স্লীপ দেয়া হলে নানা অনিয়ম-অসঙ্গতি দেখা দিবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, স্লীপ নিয়ে রীতিমত বাণিজ্য শুরু করেছে একশ্রেণীর কর্মচারী। এরা কৃষকের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের আকèীয়তার পরিচয় স্লীপ ম্যানেজ করে দিচ্ছেন। এব্যাপারে তানোর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসি য়ুড) বিকাশ চন্দ্র জানান, মাইকিং করে স্লীপের মাধ্যমে কৃষকের কাছে থেকে সুষ্ঠুভাবে থান সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আগে আসলে আগে পাবেন নীতিতে সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে ধান সংগ্রহ করা হলে কৃষকরা বেশী উপকৃত হবে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, প্রতিবছর আগে আসলে আগে পাবেন নীতিতে ধান-চাল ক্রয় করা হয়েছে এতে কোনো সমস্যা হয়নি, অথচ এবার ইউএনও সাহেব সংগ্রহ কমিটি ও নীতিমালা লঙ্খন করে একক ক্ষমতা বলে এলাকায় মাইকিং করে কৃষকের মধ্যে স্লীপ দেয়ায় ধান সংগ্রহ অভিযান নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও) নাসরিন বানুর কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। #