তানোরে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা

77

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে গুঞ্জন বইছে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ৯৫০টি সরকারী খাস পুকুর-জলাশয় আছে যার সিংহভাগ রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমড়া-চোমড়াদের অবৈধ দখলে রয়েছে। আর এসব খাস পুকুর-জলাশয় ইজারা কার্যক্রম ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তানোরের বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, খাস পুকুর-জলাশয়ের দখল নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হবার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় এলাকাবাসী ইজারা কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসন এসব খাস পুকুর-জলাশয় অবৈধ দখল মুক্ত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জলমহাল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করলে কোনো সমস্যা হবার কথা ছিল না। কিšত্ত অবৈধ দখল মুক্ত না করে ও জলমহাল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তেমন কোনো আলোচনা ব্যতিত উপজেলা প্রশাসন এসব সরকারী খাস পুকুর-জলাশয় ইজারার উদ্যোগ নেয়ায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের সূত্রপাত হয়েছে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় নিবে কে ? কারণ সিংহভাগ পুকুর-জলাশয় রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলে তায় অবৈধ দখল মুক্ত না করেই ইজারা দেয়া হলে এসব পুকুর-জলাশয়ের দখল নিয়ে অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে ইজারা গ্রহীতাদের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিবেচনায় ইজারা কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে এলাকাবাসী চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর রোববার উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন করেছেন। এদিকে পুকুর ইজারা কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রিটপিটিশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে পরম স্বত্তি¡ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনেক নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আইনি জটিলতা নিরসণ না করেই কেনো ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলেন, পুকুর ইজারার জন্য তারা আবেদন করেছেন এতে বড় অঙ্কের টাকা তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে, এখন কোনো কারণে পুকুর ইজারা না পেলে তাদের এই আর্থিক ক্ষতির দায় নিবে কে ? তারা বলেন, আইনি জটিলতায় তারা পুকুর যদি ইজারা না পায় তাহলে তাদের কি বিবেচনায় এমন প্রলোভন দেখিয়ে পকেট কাটা হলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও সাহেব একক ক্ষমতা বলে পুকুর ইজারা উদ্যোগ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বেদখল পুকুর দখলমুক্ত করে উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জলমহাল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ইজারা কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে এমন হতো না। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাঃ নাসরিন বানুর কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, এসব সরকারী খাস পুকুর-জলাশয় ইজারার বিষয়ে তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো আলোচনা করা হয়নি তাই এ বিষয়ে তার কিছু বলার নাই।

শেয়ার