তানোর-গোদাগাড়ী আ:লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ

92

আলিফ হোসেন,তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, বিরাজ করছে বিস্ফোরণমূখ পরিস্থিতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী, তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভূয়া আইডি থেকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মানহানিকর প্রচারণার খবর ছড়িয়ে পড়লে এসব নেতাকর্মীরা এমন ক্ষোভ অসন্তোষের সূত্রপাত হয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বিপদগামী মতলববাজ কতিপয় নেতার নেপধ্যে মদদে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক (বহিস্কৃত) সভাপতি বদিউজ্জামান ওরফে বদি আওয়ামী লীগের আদর্শিক ও দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বদির এসব মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বদিউজ্জামান বদি একশ্রেণীর হলুদ গণমাধ্যম কর্মী ও তার অনুগতদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও দলের দায়িত্বশীল জনপ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধেই মিডিয়া ‘ক্যু’ (মিথ্যা প্রচার) শুরু করেছে। তারা বলছে, এটা শুধু স্থানীয় সাংসদ বা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বদির মিথ্যা প্রচার নয় বরং দলের দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার মানে আওয়ামী লীগ তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে।
স¤প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত তথা নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী সাংসদ ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী এবং তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভূয়া ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর খবর প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জননন্দিত, কর্মী-জনবান্ধব এই দুই নেতার বিরুদ্ধে এসব প্রগান্ডা ছড়ানোর জন্য অভিযোগের তীর ছুড়েছে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (বহিস্কৃত) বদিউজ্জামান ওরফে বদির দিকে। তবে বদিউজ্জামান বদি এমন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রাণ ভোমরা বা হৃদয়ের স্পন্দন জননন্দিত এই দুই নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর প্রচারণার খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব ভূয়া ফেসবুক আইডি অনুসন্ধান ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে ফেসবুকে এসব মিথ্যা ও মানহানিকর খবর প্রকাশের প্রতিবাদে তানোর-গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশপাশি দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুব হুন্ডী ব্যবসায়ীখ্যাত কতিপয় নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ওই ভূয়া ফেসবুক আইডি থেকে বলা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম টিআর-কাবিখা, জামায়াত-বিএনপিপ্রীতি, খাস পুকুর দখল, সরকারী খাদ্যগুদামে ধান-গম বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তিনি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে নব্য আওয়ামী লীগ নেতা হয়েছেন। অথচ এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা-ভিত্তিহীন, বানোয়াট, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মানহানিকর। কারণ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার আগে জাহাঙ্গীর আলম এসব সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বেই ছিলেন না। তাহলে তিনি এসব অনিয়ম-দূর্নীতি করলেন কিভাবে ? এটা শুধুমাত্র তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রচারণা। জানা গেছে, বিগত ১৯৭২ ও বিগত ১৯৮২ সালে গোদাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত নাসির উদ্দীন আহম্মেদ যাকে গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় তিনি জাহাঙ্গীর আলমের চাচা। আর চাচার হাত ধরেই জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ তিনি ছাত্র জীবন খেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ১৯৮৯ সালে গোদাগাড়ী স্কুল এ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বিগত ১৯৯১ সালে গোদাগাড়ী ডিগ্রী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও বিগত ১৯৯৩ সালে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বিগত ১৯৯৭ গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বিগত ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী জেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিগত ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম-সম্পাদক এবং বিগত ২০১৬ থেকে গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে আশা একজন আদর্শিক, সফল কর্মী-জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম। অথচ এমন জননন্দিত নেতাকে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে তার মানহানি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জামায়াত-বিএনপির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বি-টিম হয়ে আওয়ামী লীগের বিপদগামী, জনবিচ্ছিন্ন ও হুন্ডি ব্যবসায়ীখ্যাত কতিপয় নেতা এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বির্তকিত করতে মিথ্যা প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কিšত্ত তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের তোপের মূখে তাঁর সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়ে উবে গেছে। জননন্দিত এসব নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে এসব মিথ্যা ভিত্তিহীন মানহানিকর খবর প্রচারের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পেটের ভিতরে করে মাদক পাচার ও হন্ডি ব্যবসায়ীখ্যাত জনবিচ্ছিন্ন, বিপদগামী কতিপয় নেতা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ও দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আওয়ামী লীগের জননন্দিত নেতাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক (বহিস্কৃত) সভাপতি বদিউজ্জামান বদি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই বরং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করছে।

শেয়ার