দাওয়াত খেতে গিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক মামুনকে জরিমানা

45

ডেস্ক নিউজ:ঝিকরগাছায় প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়ীতে দাওয়াত খেতে গিয়ে মাদ্রাসা
শিক্ষক মামুন যশোরীকে দিতে হল জরিমানাসহ মোচলেকা

আফজাল হোসেন চাঁদ, নিজেস্ব প্রতিবেদক (ঝিকরগাছা) যশোর ॥ যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার ১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত কাগমারী গ্রামের মৃত. তফসির আলীর পুত্র, কাগমারী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, বর্তমানে যশোরের সারা জাগানো ওয়াজ মাহফিলের বক্তা ও বিগত বছরের ঝিকরগাছা থানার ০৩/১০/২০১৮ ই্ং তারিখে নাশকতা মামলা নং ৪ এর আসামী হযরত মাওলনা আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোরী বুধবার দিবাগত রাতে প্রবাশীর বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার সময় প্রবাশীর আত্মীয়রা ও এলাকাবাসীরা তাকে ধরে উত্তম মাধ্যম দেন ও বৃহস্পতিবার সকালে ২নং মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদে মিমাংশায় এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানা দিতে হবে দেড় লাখ টাকা এবং পরিশেষে দিতে হল মোচলেকা।
ঘটনাসূত্রে এলাকাবাসীরা জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে একটি মোটরসাইকেল যোগে হযরত মাওলনা আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোরী ডহরমাগুরা কাউন্সিল এলাকার একটি মসজিদে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি রেখে গোপনে প্রবাসী শফিয়ার রহমানের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননীর ঘরে ঢুকে পড়ে। জানতে পেরে রাত ৩ টার দিকে গ্রামবাসি উভয়কে ওই ঘর থেকে আটক করে। এসময় গ্রামবাসি উভয়কে বেধড়ক মারপিট করে আটকে রাখে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রবাসীর স্ত্রীকে মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করে। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম আলী মৃধা, পাশ্ববর্তী গঙ্গানন্দপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক শালিসি বৈঠকে বসে। এসময় তাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানাসহ মোচলেকা করানো হয়েছে বলে জানাগেছে। এঘটনায় হযরত মাওলনা আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোরী বলেন, আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি (প্রবাসীর স্ত্রী) ভাত খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিতেন। বুধবার দুপুরে তাদের বাড়িতে আমার দাওয়াত ছিলো। কিন্তু আমাকে একটি মাহফিলে যাওয়ার জন্য আমি যেতে পারিনি। তবুও প্রবাসীর স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলেন আপনি যেহেতু আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাবেন, সেহেতু খাবারটা খেয়ে যান। আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে খাবার খেতে বসেছিলাম ঠিক সেই সময় আমাকে তাদের এলাকার লোকজন আমার উপর এ্যাটাক করে আমাকে মেরেছে। এবং পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের শালিসি বৈঠকে এলাকার উন্নয়নের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে আমাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে এবং আমার থেকে মোচলেকা করিয়ে স্বাাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাগুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার বিষয়টি সত্য। যার জন্য শালিসি বৈঠকে এলাকার উন্নয়নের জন্য আব্দুল্লাহ আল মামুন যশোরীকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে এবং সে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেনা বলে ইউনিয়ন পরিষদে মোচলেকা দিয়েছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি এটা শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে কোন প্রকার অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শেয়ার