ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ হবে কি ?

0

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ হচ্ছে না ? আদৌ বন্ধ হবে কি ? হবে না ? সেটা নিয়ে জনমনে মূখরুচোক নানা গুঞ্জন বইছে ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি জমিতে পুকুর খনন প্রতিরোধে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) আন্তরিক প্রচেস্টা থাকার পরেও উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের একশ্রেণীর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে পুকুর খনন প্রতিরোধের সব প্রচেস্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

এদিকে কৃষি জমি নস্ট করে এসব অবৈধ পুকুর খননের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিরাজ করছে বিস্ফোরণমূখ পরিস্থিতি। কিšত্ত খননকারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না, অনেকক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেও প্রতিকার তো মিলছেইনা বরং উল্টো নানান ভাবে তাদেরই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির জুড়ানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর কোনে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। এছাড়াও চাঁন্দুড়িয়া ইউপির জুড়ানপুর গ্রামের পশ্চিম পার্শের মাঠে দুটি ও চাঁন্দুড়িয়া বাজারের পূর্বপার্শে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। দিনের বেলায় পুকুরর পার্শ্বে ঝোপঝাড় ও আম বাগানের মধ্যে ভেকু মেশিন লুকিয়ে রেখে সন্ধ্যার পর খনন শুরু করছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বিষয়টি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে জানালেও তারা নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্চে যে কারণে বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ পুকুর খনন।

স্থানীয়রা জানান ৯৯৯ নম্বর কল দিয়ে, উপজেলা প্রশাসন ও তানোর থানায় খবর দিয়েও এসব অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনন কাজে সম্পৃক্ত একজন জানান, প্রতি বিঘা পুকুর খননে সবকিছু ম্যানেজ করতে তাদের ১৪ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দিনে নয় রাতে পুকুর খননের মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের মদদ ব্যতিত কি এসব অবৈধ পুকুর খনন করা আদৌ সম্ভব। অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার ফুলশো মাঠ, ঘাষিগ্রাম ইউপির স্লুইসগেট, ধুরইল ইউপির মহব্বতপুর-আমরাইল মাঠে কৃষি জমিতে চলছে অবৈধ পুকুর খননের মহোৎসব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এক ছটাকর কৃষি জমি নস্ট বা শ্রেণী পরিবর্তন করে কোনো অবস্থাতেই কোনো স্থাপনা-কলখারখানা বা নির্মাণ বা অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অথচ সরকার প্রধান ও উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই কৃষি জমিতে চলছে অবৈধ পুকুর থননের মহোৎসব।

বিষয়টি যেনো দেখার কেউ নেই। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে. তবে কি সরকার প্রধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কোনো গুরুত্ব নাই, না কি ? এরা সরকার প্রধান ও উচ্চ আদালত থেকেও শক্তিশালী, নইলে এতো প্রশাসন থাকার পরেও বিনা বাধায় কি ভাবে এসব অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে। তানোরের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চাই। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here