বরিশালে একই পরিবারের ৩ জন হত্যা: আটক এক

212

বরিশাল সংবাদদাতা:বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জাকির হোসেন নামে এক কবিরাজকে আটক করেছে ।
একাধিক সূত্রে জানাযায়, আজ শনিবার দুপুর তিনটায় ওই কবিরাজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

আটক জাকির হোসেনের নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠী ইউপির উত্তর রাজপাশা গ্রামে চুন্নু হাওলাদারের ছেলে।

এদিন সকালে পুলিশ ওই বাসা থেকে কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম (৭০), খালাতো ভাই ইউসুফ হোসেন (২২) ও মেজ বোন মমতাজ বেগমের জামাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শফিকুল আলমের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে ।

এ ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এহসানউল্লাহ, জেলার এসপি সাইফুল ইসলামসহ র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব জানান, জাকির হোসেন কবিরাজি কাজে ওই বাড়িতে প্রায়ই আসতো। যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতেও তিনি আসেন। পরে আবার চলে যান। তাই জাকিরকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বানারীপাড়া থানায় আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা এসপি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। যা তদন্তের স্বার্থে এখন আলোচনা করা যাবে না। তবে দ্রুতই এ মামলার অগ্রগতি জানানো হবে।

নিহতদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনা হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

শনিবার সকাল থেকে বাড়িটিকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গ্রামবাসী অবস্থান করছে। তিনজনের একসঙ্গে নিহতের ঘটনায় শোকাহত স্বজনসহ গ্রামবাসী।

বাড়ির মালিক কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত বেগম বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় ঘরে তিনিসহ তার দুই শিশু সন্তান নুরজাহান (৪), ইশফাত (৯), দেবর হারুন-অর রশিদের মেয়ে আছিয়া ওরফে আফিয়া, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ননদ জামাতা শফিকুল আলম ও শাশুড়ির বোনের ছেলে ইউসুফ ছিলেন।

ভোরে ফজরের আজানের পর আফিয়ার চিৎকারের শব্দে সবাই ঘুম থেকে ওঠেন। নিহত মরিয়ম বেগমের নাতনি আছিয়া ওরফে আফিয়া বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে দাদিকে জাগাতে যান। তখন দেখি দাদির রুমের বারান্দার দরজা খোলা এবং তার নিথর দেহ বারান্দায় পড়ে রয়েছে।

চিৎকার দিলে বাড়ির সবাই আসেন কিন্তু ফুপা শফিকুল আলম ও চাচা ইউসুফকে দেখতে না পেয়ে তাদের খুঁজতে থাকি। তখন ঘরের অন্য একটি কক্ষে গিয়ে ফুপার লাশ দেখতে পাই। পরে চাচা ইউসুফকে খুঁজতে ছাদের দিক গেলে সেখানে দরজা খোলা পাই, তবে কারো দেখা মেলেনি। এরপর বাড়ির বাহিরে খোঁজা শুরু করলে চাচা ইউসুফকে পুকুরের ঘাটলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ দেখতে পাই।

পরিবারর দাবি, ঘরের ভেতরের একটি আলমারি থেকে কিছু অলংকার খোয়া গেছে।

শেয়ার