মুজিববর্ষে  মুক্তির আশা রাজশাহী কারাগারে ১২৭ কয়েদি

68

আলতাফ হোসেন (রাজশাহী): আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের জন্ম শতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষে সাজা মওকুফ ও মুক্তির আশায় বুক বেধেছেন রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০বছরের অধিক সময় ধরে কারাবন্দি ১২৭ কয়েদি।

যাবজ্জিবন সাজা প্রাপ্ত এসব বন্দির সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বন্দীদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সম্প্রতি বন্দীর মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী, কারা সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা ও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মধ্যে ১২৭জন বন্দীর রেয়াদসহ ২০বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে সাজাভোগ করছেন। এদের মধ্যে ৫০ বছর থেকে শুরু করে ৮৪ বছরেরও বৃদ্ধ রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারাবিধির ৫৬৯ধারা অনুযায়ী কোনো যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী তার সাজার মেয়াদের ২০বছর সাজা খাটলে সেই বন্দী মুক্তির আবেদন করতে পারেন। এসব বন্দীদের বয়স, আচার-আচরণ, মামলার ধরণসহ সেই বন্দীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকে তবে সরকার চাইলে বিশেষ সুবিধায় এবং বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিবসে তাদের মুক্তি দিতে পারেন।

কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে ৫৬৯ ধারায় মুক্তির প্রক্রিয়াটি বন্ধ থাকায় এখনও মুক্তি পাননি এসব বন্দীরা। ফলে যাদের ৩০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ছিল তাদের মধ্যে ১২৭জন বন্দী ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সাজা ভোগ করছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ বন্দী ২২ বছর থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত কারাভোগ করা হয়ে গেছে। আবেদন করেও তারা এখন পর্যন্ত ছাড়া পায়নি। এ বাস্তবতায় অনেকেই বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। হারিয়েছেন পরিবারের অনেক আপন জনকে। বাহিরে বের হয়ে আর কোন কিছু করার মতো শারীরিক সামর্থ তাদের কোন পরিস্থিতিতেই নেই। অন্তত মানবিক কারণে হলেও বিবেচনায় এসব বন্দীদের মুক্তি দেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন অনেক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ৫৬৯ ধারায় মুক্তি না পাওয়া বন্দীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এ অবস্থায় বন্দীদের অর্জিত অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

অপর দিকে কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এসব বন্দীদের মুক্তির বিষয়টি বন্দীদের সুযোগ নয়। এদের মুক্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। ২০ বছর সাজা খেটেছেন এমন কয়েদিদের মধ্যে যারা খুব অসুস্থ্য, অক্ষম বা বৃদ্ধ তাদের জন্যই এ ধারা প্রযোজ্য। এছাড়া কেউ কারাভোগের সময় খুব ভালো আচরণ করলে তাদের ক্ষেত্রেও ধারাটি প্রযোজ্য হতে পারে। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হাজতিরা বলেন, জেলখানার পরিবেশ আগের চেয়ে কিছুটা ভালো রয়েছে। ২০ বছর ধরে জেল খাটছেন এমন অনেক কয়েদি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। সেই সাথে তাদের আচরণ এখন অনেক ভালো ও সন্তোষজনক।

তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে মুক্তির আশায় প্রহর গুনছেন কয়েদি ও তাদের পরিবারের লোকজন। তবে আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার ৫৬৯ ধারায় এসব বন্দীদের মুক্তি দিবেন এমন আশায় মুক্তির গ্রহর গুনছেন রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারের ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দী থাকা ১২৭জন কারাবন্দী।

প্রধানমন্ত্রীর নিকট কারা বন্দী কয়েদিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, ২০১০ ২০১১ এবং ২০১৩ ইং সনে মানবিক দৃষ্টি থেকে কারাবিধির ৫৬৯ ধারা মোতাবেক হাজার হাজার দীর্ঘমেয়াদী (যাবজ্জীবন) সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মুক্তিদান করেছিলেন মানবতার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাই আমাদের মতো আরোও অনেক অনেক পরিবার এক বুকভরা আশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। ২০২০ সনে মুজিব বর্ষে কারাবিধির ৫৬৯ ধারার অধীনে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসবে তাদের স্বজনরা।

শেয়ার