যশোরে দুই নারীকে ভারতে বিক্রির মামলায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

59

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে চাকরির প্রলোভনে দুই নারীকে ভারতে পাচার ও পতিতালয়ে বিক্রি ঘটনায় তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামী স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারত থেকে পালিয়ে আসা এক ভিকটিম পুলিশের কাছে পাচার ও পতিতালয়ে বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার পুলিশের অভিযানে অভিযোগের সত্যতা মেলে।

এসময় পাচারকারী যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি জামরুল তলা এলাকার আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম ও তার স্বামী হালিম মোল্যাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় তিনজনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ভারতের বেঙ্গালোরের সীমা সাহা। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলাবার এক ভিকটিম (মামলার বাদী) পুলিশের ‘ক’ সার্কেল অফিসে হাজির হয়ে অভিযোগ করেন চলতি বছরের ৮ মার্চ সকালে প্রতারণা ও প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম প্রতিবেশি দুই নারীকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শহরের চাঁচড়া মোড়ে গিয়ে বাসে উঠে বেনাপোল হয়ে পুটখালি সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত সাড়ে সাতটার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন।

সীমান্ত পার হয়ে তাদেরকে ভারতের বেঙ্গালোরে সীমা সাহা নামে এক নারীর কাছে পাঠানো জয়। সেখানে আরও অনেক বিভিন্ন বয়সী বাংলাদেশী মেয়ে রয়েছে। তারা ভিকটিমকে আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম বাংলাদেশ হইতে এখানে পাচার করেছে। সেখানে অবস্থানকালীন বাদীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।

এক পর্যায়ে ওই নারীর মুখ ফেসিয়াল ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ভারতের জেপি নগর নামক স্থানে এক হাসপাতালে রেখে আসেন সীমা সাহা। বাদীকে এক রুমের মধ্যে অজ্ঞান করে ডান বাহুর মাংস কেটে ও পেটের অপারেশনসহ মুখে কসমেটিক্স সার্জারি করে। তাদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে নির্মম নির্যাতন করা হতো। তারা সেখান থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজতেন। সীমা সাহা তাদেরকে জানান দুই লাখ টাকায় তাদেরকে কিনে নিয়েছে। দেড় মাস পর রাজ নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় ওই দুই নারী পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত রমজান মাসে বাদী, বাদীর স্বামী ও এলাকার লোকজন আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম বাড়িতে গিয়ে পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার বিষয়ে বললে তারা হুমকি ধামকি দেয়। এরপর মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরে অভিযোগ দেন বাদী। তারা তদন্ত করে আইনী সহায়তার জন্য ‘ক’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি শেখের কাছে পাঠান। তিনি বাদীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার কোতয়ালি থানায় তিনজনের নামে মামলা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান।

শেয়ার