রাজশাহী আ’ লীগে সভাপতিকে রাজাকারপুত্র বলে ক্ষমা চাইলেন সম্পাদক

0
1427

আলিফ হোসেন, তানোর : রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী, শহীদ পরিবারের সন্তান ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীকে রাজাকারপুত্র সম্বোধন করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।দলের নীতিনির্ধারক মহলের তোপের মূখে পড়ে অবশেষে ভূল শিকার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে এই যাত্রা রক্ষা পেয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আালোচনা উঠেছে।

চলতি বছরের ৮ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতাদের নিয়ে বৈছকে বসেন সেখানে আসাদুজ্জামান আসাদ তার এই বক্তব্যর জন্য ভূল শিকার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে বৈঠকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থেকেও দলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জনসভায় এমন মিথ্যাচার করে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কাজ করে তিনি নৈতিকভাবে দলের দায়িত্বশীল পদে আর থাকতে পারেন কি না সেটি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

সূত্র জানায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ডা, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমূখ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান কমিটি কাউন্সিল আয়োজন করবেন। এ কাউন্সিলে সমন্বয় করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। চলতি বছরের ৮ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একই সঙ্গে আগামী ৩ মাসের মধ্যে উপজেলা,পৌরসভা ও ইউনিয়ন সম্মেলন করার ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিতে আসতে নেতাকর্মীরা তৎপর হয়ে উঠেছে যদিও সভাপতি পদে এমপি ফারুকের কোনো বিকল্প নাই তবে অন্যান্য পদে এবার আসতে পারে বড় চমক ৮ নভেম্বরের বৈঠকে এমনই পূর্বাভাস পাওয়া গেছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়রা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে অনেকে আলোচনায় থাকলেও বিশ¯ত্ত ও আদর্শিক নেতৃত্ব হিসেবে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন এমপি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী আওয়ামী লীগে তার কোনো বিকল্প নাই। কারণ রাজশাহী বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি ও বিভাগীয় শহর এখানে আওয়ামী লীগের মতো এতো বড় দলের নেতৃত্ব দিতে যেই পরিমাণ জনবল-কর্মী-বাহিনী, আর্থিক স্বচ্ছলতা, আদর্শিক-বিশস্ত, পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক পরিচিতি, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও সাহসিকতা ইত্যাদি প্রয়োজন সেটা কেবলমাত্র এমপি ফারুক চৌধূরীরই রয়েছে তাই তিনিই আবারো জেলা সভাপতি হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এমপি ফারুক চৌধূরী জেলা আওয়ামী লীগকে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি হয়তো সকলের সব আবদার পূরুণ করতে পারেননি তায় এমপি ফারুককে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে এটা যেমন স্বাভাবিক। তেমনি জামায়াত-বিএনপির দূর্গে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে তার যে অবদান সেটাও অস্বীকার করা বা বির্তকের কোনো সুযোগ নাই, আবার তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলারও কোনো সুযোগ নাই। তিনি আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দেবার আগের ও পরের অবস্থান বিশ্লেষণ করলেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যাবে এটার জন্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হবার কোনো প্রয়োজন নাই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে তৃণমূল।

তৃণমূলের ভাষ্য, সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন তবে বর্তমান সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল, বাগমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী আলোচনায় রয়েছে।

অপরদিকে একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী জেলা আওয়ামী কমিটি গঠনে ভোট প্রয়োগের পরিবর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেনো সিলেকশনের মাধ্যমে তার বিশস্ত ও আদর্শিক নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব অর্পন করেন। কারণ রাজশাহীতে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে গেলে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বা কালো টাকার প্রভাবে অনেক অযোগ্য, বিশ্বাষঘাতক ও রাজনৈতিক বেঈমান বলে তৃণমূলে পরিচিত এমন ব্যক্তি নেতৃত্ব চলে আসতে পারে।

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে এলাকার মানুষের মূখে মূখে এমন কথার প্রচার আছে। তৃণমূলের অভিমত, সভাপতি পদে এমপি ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নাই তারা তাকেই ফের সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই। তৃণমূলের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে দলের দায়িত্বশীল সাংগঠনিক পদে থেকেও যারা দলের কর্মকান্ডে সক্রিয় না হয়ে গোপণে দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচন ও একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি অবস্থানও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং নিজের আখের গোছাতে প্রতিপক্ষের কাছে থেকে

আর্থিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের চাদর গায়ে দলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে পৃথক বলয় সৃষ্টির নামে দলের প্রতিপক্ষ হয়ে কাজ করেছে, দায়িত্বশীল পদে থেকেও দলের দায়িত্বশীল আদর্শিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রগান্ডা ছড়িয়েছে,স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী দলীয় প্রার্থীদের বিজয় ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিদ্রোহী প্রার্থী করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি করেছে। এমপিদের বিরুদ্ধে বিষাদাগার, তৃণমূলে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি ও এমপিদের চাপে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের সঙ্গে গোপণ আঁতাত করে দলের তৃণমূলে কোন্দলের বিষবাষ্প ছড়িয়েছে।

আবার অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা, দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে দলীয় স্বার্থকে জঞ্জালি দিয়ে আদর্শিক পরিচয়ে আদর্শহীন কর্মকান্ড করেছে তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ এদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন নেতৃত্ব দিতে নীতি-নির্ধারকদের কাছে অনুরোধ করেছেন বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন কথার ব্যাপক প্রচার রয়েছে। তৃণমূলের দাবী তারা কথিত বড় নেতা নয় দল, নেতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যশীল-আদর্শিক, পরীক্ষিত-নিবেদিতপ্রাণ বিশস্তদের নেতৃত্ব দেখতে চাই। এব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক শরিফ খাঁন বলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন ফারুক চৌধূরী তাই তিনিই হচ্ছেন সভাপতি এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই, তিনি বলেন, বিষয়টি ইতমধ্যে আমরা দলের নিতীনির্ধারক মহলকে অবগত করেছি আর ফারুক চৌধূরী ব্যতিত এক সময়ের জামায়াত-বিএনপির দূর্গ রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কল্পনাও করা যায় না। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here