,গোলামী করার নাম-ই মুসলিম

0

মাওলানা মুফতী জাহাঙ্গীর আলমঃ
প্রত্যেক মুসলিমকে পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া ধ্যান ধারনাকে উপেক্ষা করে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল  সঃ প্রদর্শিত ধ্যনা ধারনাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। কেননা এটা প্রত্যেক মুসলমানের ইমানের দাবি। যে, নিজের সাধীনতাকে জলানজলি দিয়ে নিজে কে একমাত্র আল্লাহর কাছে সমার্পন করে, তার গোলামী করার নাম ই মুসলিম। তা সে যেখানেই জন্ম গ্রহন করুক না কেন! !  মুসলমান জন্ম বা বংশগত কোন পরিচয়ের নাম নয়, এটা ব্যাক্তির কর্ম তথা তার আনুগত্যের নাম। যে আল্লাহর আনুগত্য করবে সে মুসলিম,  আর যে করবে না সে অমুসলিম।
যুগে যুগে এটা বুঝানোর  জন্যই আল্লাহ, নবী রাসুল পাঠিয়েছেন। মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকার ও হেদায়ত না পাওয়ার প্রধান কারণ হলো দীর্ঘ দিন হতে মা বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধ্যান ধারণা ত্যাগ করতে না পারা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ تَعَالَوۡاْ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ قَالُواْ حَسۡبُنَا مَا وَجَدۡنَا عَلَيۡهِ ءَابَآءَنَآۚ أَوَلَوۡ كَانَ ءَابَآؤُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ شَيۡ‍ٔٗا وَلَا يَهۡتَدُونَ ١٠٤ ﴾ [المائ‍دة: ١٠٤]
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে ও রাসূলের দিকে আস’, ‎তারা বলে, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যার উপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ ‎যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না তবুও?‎’ [সূরা আল মায়েদা: ১০৪]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,
﴿ وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُواْ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُواْ بَلۡ نَتَّبِعُ مَا وَجَدۡنَا عَلَيۡهِ ءَابَآءَنَآۚ أَوَلَوۡ كَانَ ٱلشَّيۡطَٰنُ يَدۡعُوهُمۡ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ٢١ ﴾ [لقمان: ٢١]
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর’ ‎তখন তারা বলে, ‘বরং আমরা তার অনুসরণ করব যার ওপর আমাদের ‎পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি।’ শয়তান তাদেরকে প্রজ্বলিত আযাবের দিকে আহবান ‎করলেও কি (তারা পিতৃপুরুষদেরকে অনুসরণ করবে)? ‎ [ সূরা লোকমান: ২১]
এটা মানব জাতির এমন একটি রোগ যে রোগ থেকে মানুষ মুক্তি লাভ করতে পারছে না। আপনি যদি কারো দীর্ঘ দিন হতে লালিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কুরআন হাদীসের সুস্পষ্ট দলিল প্রমাণও পেশ করেন তারপরও সে তার প্রাচীন ধ্যান ধারণা পালটাতে চাইবে না। বরং সে আপনার কুরআন হাদীসের দলিলের অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবে। অথচ মানুষের কর্তব্য হলো সত্য ও হক যেখান হতেই আসুক তা গ্রহণ করা। ওমর ইবন খাত্তাব বলেন, ‘বাতিলের উপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম’। আল্লাহ আমাদের সকলকেই সত্য ও হকের অনুসরণ করার এবং সত্যিকার মুসলিম হওয়ার  তাওফিক দান করুন। কেননা আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগন ,  আল্লাহকে ভয় করো, ভয় করার মত। আর মুসলিম না হয়ে তোমরা মরো না।