ইসলামী দৃষ্টিতে পোষাক পরিধান।

0

মুফতী,জাহাঙ্গীর আলম ঃ
ইসলাম যেহেতু একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যাবস্থা, তাই পোষাক পরিধানের ব্যাপারেও একটি দিক নির্দেশনা রয়েছে। আর এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান না থাকায় আমাদের অধিকাংশের মধ্যে একটা ভুল ধারণা বদ্ধ মুল। আমি এ বিষয়টায় কোরআন সুন্নার মুলনীতির ভিত্তীতেই আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।

মুলত পোষাক পরিচ্ছদ গড়ে উঠে আবহাওয়া পরিবেশ পরিস্থিতি ও সংস্কৃতির উপর ভিত্তী করে। আর যে সংস্কৃতি ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্শিক নয় সেটা ইসলামেও বৈধ। আমাদের জানা দরকার। পোষাক শব্দ ফারসি শব্দ ভান্ডার  থেকে বাংলা ভাষায় যোগ হয়েছে।

বাংলা ভাষায় জামা বলা হয়। আরবী ভাষায় লিবাস বলে। বাব ভেদে এটার দুটা অর্থ দেখা যায়। পোষাক এবং সংমিশ্রণ। অভিধানে দেখা যায়,  পোষাক এমন শালিন রুচিশীল জামা কাপড় কে বলে যা পরিধান করে ভদ্র পরিবেশে যাওয়া হয়। এবার দেখা যাক, কোরআন সুন্নার মুলনীতিতে কি পাওয়া যায়?!  সুরা আরাফে ২৬ নং আয়াতে  আল্লাহ বলেন –  হে বনি আদম তোমাদের লজ্জার স্থান ঢাকার ও বেশভূষার ( সুন্দর্য ) জন্য আমি পোষাক অবর্তীর্ণ করেছি। আর শালীন ও রুচিশীল পোষাকই তাকওয়ার পোষাক।

আর সুরা নাহলের ৮১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন – আমি তোমাদের পোষাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের দেহকে তাপ হতে রক্ষা করে। উক্ত আয়াত দ্বয় থেকে আমরা পোষাকের তিনটি উদ্দশ্য পেলাম। এবং তাকওয়ার পোষাকও জানতে পারলাম পোষাকের মধ্যে যেটা শালীন ও রুচিশীল।  এবার মিশকাত শরিফ ও রিয়াদুস সালেহীন গ্রন্থদ্বয় এর লিবাস অধ্যায় থেকে জানা গেল, রাসুল সঃ বিভিন্ন সময় লাল, সবুজ, কালো রঙয়ের পোষাক পরিধান করেছেন, এমন পালানের ছবি আঁকা চাদরও ব্যাবহার করেছেন। তবে তিনি সাদা রঙয়ের পোষাক ব্যাবহারে উৎসাহ দিয়েছেন।

পুরুষের জন্য সুতি,উল, পশম ও লোম ইত্যাদি পোশাক পরিধান করা জায়েজ।একটা কথা আমাদের কে জানতে হবে যে, রাসুল সঃ এর নিজ এলাকায় তথা মক্কা মদিনায় কোন পোষাক তৈরি হতো না, ইয়ামেন সহ বিভিন্ন রাষ্ট থেকে পোষাক এবং কাপর আসত।  এখান থেকে যেটা পছন্দ হতো সেটা তিনি কিনতেন এবং ব্যাবহার করতেন।

হযরত আয়েশা ও সালামা রাঃ হতে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, রাসুল সঃ এর প্রিয় পোষাক ছিল কামিস।  বাংলা অর্থ হলো জামা। কোথাও কোর্তাও বলে। বিভিন্ন ব্যাখায় দেখা যায়, কামিস এমন জামাকে বলে সেলাই করা, পকেট ওলা, দুই হাতা ও আস্তিন বিশিষ্ট অল্প লম্বা রুচিশীল শালীন পোষাক। তবে রাসুল সঃ কখনো জুব্বাও পড়েছেন, আবার দুই টা চাদরও ব্যাবহার করেছেন। কারণ সেলাই করা কাপড়ের খুব সংকট ছিল। এবার দেখুন, যে পোষাক গুলো পড়তে নিশেধ করেছেন ঃ

পুরুষদেরকে কমলা ও কুসুম রঙয়ের কাপর, রেশমী কাপড়, এবং মহিলাদের পোশাক ও টাকনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা ও অহংকার করে কাপর ব্যাবহার করতে নিষেধ করেছেন। মহিলাদের জন্য ঃ পুরুষের কাপর ব্যবহার করা, এমন কাপড় ব্যাবহার করা যা দ্বারা নিজের শরীরের অঙ্গ পত্যঙ্গ প্রকাশ পায়, ( টাইট ও পাতলা পোষাক )।

অতএব উক্ত আলোচনার মধ্যে আমি পোষাকের মুলনীতি গুলো আলোচনা করছি,  যেখানে  বুঝা গেল, নিশিদ্ধ পোশাক ছাড়া সব ধরনের পোশাক পড়া বৈধ।

অতএব, বৈধ পোশাকের শর্ত হলো,১.  তাপ ( ঠান্ডা ও গরম ) হতে দেহকে রক্ষা করা,২.  লজ্জার স্থান ( পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত, আর নারিদের জন্য হাত ও পায়ের কবজি এবং মুখো মন্ডল বাদে সমস্ত শরীর লজ্জার স্থান।)  গোপন করবে বা আবৃত করবে। ৩. সুন্দর্য মন্ডিত হবে। এখন, বৈধ পোশাকের মধ্যে যেটা হবে ঢিলা ঢালা, টাকনুর উপর এবং শালীন ও রুচিশীল, এবং অপচয় ও অহংকার মুক্ত, সেটায় হলো তাকওয়ার পোশাক। সেটা যেমনই হোক।
লেখক,মুফতী, জাহাঙ্গীর আলম,jatamim@gmail.com