Breaking News

ছাত্র শিবিরের জকসুর ৫ম জয়কে তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতার পালাবদলের সংকেত!!

:মোঃ ইয়াকুব আলীঃ নানা জনের নানা কথা নানা মত আর থাকাটাও স্বাভাবিক। তবে আমার ভাবতেই যেন অবাক লাগে, দেশ স্বাধীনতার  দীর্ঘ ৫৪ বছর পরও  আমরা কি আজও পরাধীন থেকে যাবো ?এজিজ্ঞাসা শুধু আমার না সমগ্র জাতির?
আজ আমরা কেউ ভারত পন্থি,কেউ পাকিস্থান পন্থি, কেউ চিনা পন্থি আবার,কেউ আমেরিকা পন্থী। কিন্তু কেন আমরা কি বাংলাদেশ পন্থি (আজাদী) হতে পারি না.?
এ দেশকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই আমাদের সবাইকে এই চেতনা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।
এ সব কারনগুলো বাংলাদেশের যুব সমাজ বুঝতে পেরে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা ২৪ এ জীবন দিয়ে ছে, রক্ত দিয়েছে। সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে শিখেছে। আপাতত দৃষ্টিতে এরা অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ করছে না।
এ জন্যই দেশের শিক্ষাঙ্গনের ছাত্র সংসদের ভোটের পুরো চিত্রই বদলে যাচ্ছে।
ছাত্র যুব সমাজ ধর্মভিত্তিক (ইসলামী মূল্যবোধ,ন্যায় ও ইনসাফ)আদর্শিক ছাত্র রাজনীতিকেই মূল্যায়ন করছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভোটের বিশ্লেষণে ছাত্রীরা তাদের নিরাত্তার প্রশ্নে (ধর্মভিত্তিক) রাজনীতি ইসলামী ছাত্র শিবিরকেই পচ্ছন্দ করতে দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতিকালে,দেশের নামকরা ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র’সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিচার বিশ্লেষণ করে এটাই প্রতিয়মান হয়।
এই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে মোট ১২৩টি পদের মধ্যে ১০৫টি পদ পেয়ে ইসলামী ছাত্র শিবির বিজয় লাভ করে নব দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারী২০২৫) ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেল পঞ্চম বারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববি দ্যালয় (জকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়।
এটি শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং তরুন সমাজের মধ্যে একটি গভীর ক্ষমতার পালা বদলের সংকেত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগাম বিশ্ববি দ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যা লয় ক্যাম্পাস গুলোতে এই জয়গুলো দেখি য়ে দিচ্ছে যে,শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেল গুলো শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছে সংগঠিত প্রচারণা আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি,পজিটিভ প্রচারণা ও ছাত্র যুবকদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
এই পঞ্চম জয় কোনও সাধারণ জয় না, বরং এটা অনেক বড় কিছু। প্রথম জয় থেকে পঞ্চম জয় দেশ-বিদেশের সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
প্রথম জয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: এটাকে হয়তো বলা যেত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
এটা হয়তো সাময়িক পরিস্থিতি বা ভাগ্যের খেলা। ক্যাম্পাসে শিবিরের প্রথম সাফল্যকে অনেকে এভাবে ই দেখেছিল একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
এই জয়ের মূল কারণ ছিলো সুচিন্তিত প্রচারণা, ছাত্র সহায়তা কর্মসূচি, জুলাই বিদ্রোহের লিঙ্ক এবং ইতি বাচক রাজনীতি।
দ্বিতীয় জয়,জাহাঙ্গীরনগর বিষবিদ্যালয়: এখানে আসে সম্ভাবনার সূচনা।
প্রথমটাকে যদি ভুল ধরে নেওয়া যায়, তাহলে দ্বিতীয় টায় সবাই ভাবতে শুরু করে:হয়তো এখানে কোনো পদ্ধতি লুকিয়ে আছে?
শিবির কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন প্রিয়তা অর্জন করছে? এটি ছিল সন্দেহ ও কৌতূ হলের সংমিশ্রণ।
এখানে কাজ করেছে শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস, প্রার্থীদের  উদারতা ও সহনশীলতা।
তৃতীয় জয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখন এটি হয়ে ওঠে একটি উদাহরণ। ৩ বার জিতলে আর বলা যায় না যে এটি কাকতালীয়।
শিবিরের সংগঠনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং যুবকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এটি অন্য ক্যাম্পাসগুলোর জন্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়ায়। জয়ের মূল কারণ ছিলো ইসলামী মূল্যবোধ এর প্রতি ব্যাপক সমর্থন।
চতুর্থ জয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: চারবার জিতলে তা পরিণত হয় একটি ট্রেন্ডে।
এখন এটি আর অস্থায়ী নয় এটি একটি প্রবণ তা,যা দেখিয়ে দেয় যে বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের ইসলা মী মূল্যবোধ ভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে।
শিবিরের জয়গুলো ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক গতি পথকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।
এই জয়ে কাজ করেছে প্রার্থীদের মোরাল ক্যারেক্টার, দুর্নীতি-মুক্ত প্রচার এবং জাতীয় পরিবর্তনের সংকেত।
পঞ্চম জয় হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আর পঞ্চম বার জিতলে? এটি হয়ে ওঠে একটি ট্র্যাডি শন যার পথ অনুস রণ করা হয়।
এখন শিবিরের সাফল্য আর অস্থায়ী ট্রেন্ড নয় বরং একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য।
এটি দেখিয়ে দেয় যে শিক্ষার্থীরা শিবিরের নেতৃ ত্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছে।
এই জয়গুলো ভবিষ্য তের ক্যাম্পাস রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিবে। এই জয়ের পিছনে ছিলো শক্তি শালী ক্যাম্পেইন এবং আদর্শের আকর্ষণ।
এই পঞ্চম জয় শুধু শিবিরের জন্য নয়, বাংলাদে শের যুব শক্তির জন্যও একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে যে, আদর্শ,সংগঠন এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে যে কোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।
ভবিষ্যতে এই ট্র্যাডিশন কীভাবে বিকশিত হয়,তা দেখা র অপেক্ষায় আছে দেশের জনগন। শিক্ষার্থীদের এই উত্থান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে বদলে দেবে।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের এই পঞ্চম জয়কে তরুণ প্রজন্মের এটি গভীর পরিবর্তন বা দেশের ক্ষমতার পালাবদলের গভীর সংকেত বলেই মনে করছেন দেশের বুদ্ধিজীবী মহল।
ইসলামী ছাত্র শিবির ১৯৭৭ সালে গঠিত হবার পর থেকে সংগঠনের নেতা কর্মীসহ শিক্ষার্থীদের নৈতিক, আদর্শ ও মেধার বিকাশে বরাবর কাজ করে আসছে।
এরআগে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এত প্রভাব চোখে পড়তে দেখা যায়নি।
মেধাবী শিক্ষার্থীরা ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক ছাত্র রাজ নীতির দিকেই ঝুঁকছে।
ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীদের স্কুল কলেজ,বিশ্ববিদ্যা লয় ও মাদ্রাসার চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটাই প্রতিীয়মান হয়।
দীর্ঘসময়ের ব্যবধানে এখন ইসলামর ছাত্র শিবিরের সাবেক অসংখ্য নেতা দেশ-বিদেশের ক্ষমতাধর বড় বড় স্থান দখল করে আছে। যে করনে তাদের অর্থেরও অভাব নেই।
ছাত্রশিবির একটি কাাডার ভিত্তিক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। সমার্থক,কর্মী,সাথী ও সদস্য হতে হলে তাকে অবশ্যই কোরআন,হাদিস ইসলামী সাহিত্যসহ সংগ ঠনের পাঠ্যক্রম অধ্যায়নসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হয়।
সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো ইসলামী ছাত্র শিবিরের চেইন অফ কমেন্ট খুবই শক্তি শালী। নেতা-কর্মীরা ঊর্ধ্বতন  নেতাদের আনুগত্য করে থাকেন ।
নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেই কোন গ্রপিং। নেই কোন জটিলতা। প্রতি বছরই তাদের ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হয়।
কেউ নেতা হবার জন্য নিজের ভোট  নিজেদিতে পারে না। যদি কেউ দেন তখন তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। যেটা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মধ্যে এটা পরিল ক্ষিত হয় না।

পরিশেষে ইসলামী ছাত্র শিবির ও যুব সমাজকে বলবো দীর্ঘদিনের ময়লা আবর্জনা এখনো পচা দূগন্ধ ছড়াচ্ছে!! সাবধান।

সাময়িকী  বিজয় হলেও চুড়ান্ত বিজয় এখনও বহুদূর দূর। আকাশের মেঘ এখনও পরিস্কার হয়নি। তাই আগামীর পথ চলা আরও কঠিন। সত্য ও মিথ্যার বিরোধ আরও ঘনীভূত হতে পারে।

নিজের ঘরে ও বাইরে  ঘাপটি মেরে থাকা শত্রু বন্ধুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এজন্য বিগত দিনের চেয়ে আর ও সতর্কতা অবলম্বন করে চলায় উত্তম। 

About admin

Check Also

হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া ফখরুলঃ চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াত

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁওঃ দেশের উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ …