দায়িত্বশীল ও অধিনস্তদের ব্যাপারে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গী

0

জাহাঙ্গীর আলম
এখানে দায়িত্বশীল বলতে কোন একক ব্যাক্তি ও কোন এক শ্রেণীকে বুঝানো হয় নাই। পৃথিবীর সমস্ত শ্রেণীর মানুষ ও বিভাগকে এখানে বুঝানো হয়েছে। পরিবার থেকে শুরু চাকরি বাকরি, অফিস আদালত এমন কি রাষ্ট পর্যন্ত, যে যেখানেই দায়িত্বশীলের ভুমিকায় আছেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাব দিতে হবে। অথচ আমরা যে যতটুকু ক্ষমতা পেয়েছি, সেখানেই ক্ষমতারর অপব্যবহারে ব্যাস্ত । একটুও চিন্তা করছি না যে, আমার জীবন ও এই ক্ষমতা মুর্হুতেই শেষ হতে পারে, যা স্থায়ী নয়। আর তখন আসল বিচারের কাটগড়াই দাড়াতে হবে। যেখানে ন্যায় ও ইনসাফ পূর্ণ বিচারের কোন কমতি থাকে না। পবিত্র কুরআনের আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٩٠ ﴾ [النحل: ٩٠]

অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহ্‌ল ৯০ আয়াত)
সুরা মায়েদা ২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, তোমরা একে অপরকে নেক ও আল্লাহ ভীত্তির কাজে পরস্পর সাহায্য করো, আর কখনোই পাপ ও সিমালংঘনে কাউকে সহোযগীতা করো না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]

অর্থাৎ “তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি তুমি সদয় হও।” (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)

১/৬৫৮। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের দায়িত্বশীলা, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[৮৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৩)
আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: বলেছেন, কেউ তার অধীনস্থকে অন্যায়ভাবে একটি বেত্রাঘাত করলেও কিয়ামতের দিন তার থেকে তার বদলা নেয়া হবে’ (তাবরানি)। আবু বকর রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সা: বলেছেন, অধীনস্থদের প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না’ (ইবনে মাজাহ)। অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, আমরা প্রত্যেকে যে যেখানেই দায়িত্বশীল বা বস বা আমীর বা অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, সবর্দা মনে রাখতে হবে আমাদের আসল ঠিকানা পরকাল জীবন। সুতারং সবর্দা নিজের কষ্ট হলেও অধিনস্তদের সাথে অশ্লীল আচারণ, জুলুম ও কষ্ট না দেয়া। কারণ এসব নিয়ে আল্লাহর কাটগড়ায় আমাদের দাড়াতে হবে। তখন কোন বসই ঠেকাতে পারবে না। এমন কি কোন নেতাগিরী ও অর্থ সম্পদও কাজে লাগবে না । অপর এক হাদিস থেকে জানা যায়, যে মুসোলমান তার অপর কোন ভাইয়ের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ তায়ালাও তার দোষ গোপন করবে। আর যে বিপদ থেকে রক্ষা করবে আল্লাহও তার বিপদ থেকে রক্ষা করবে। সুতারং সাবধান!!!। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here