দেশসেরা নারী ফুটবলার উন্নতি খাতুনদের ঘরে খাবার নেই

0
দেশসেরা নারী ফুটবলার উন্নতি খাতুনদের ঘরে খাবার নেই

ইমরান হোসেন পিংকু
উন্নতি খাতুন আরো উন্নতি করবে প্রধানমন্ত্রীর এমন উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা উন্নতি। বেড়েছে তার আত্মবিশ্বাসও। তবে বড়ই বিপদে রয়েছে তারা। ‘বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে’ দেশসেরা নারী ফুটবলার উন্নতি খাতুনের ঘরে এখন খাবার নেই। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে উন্নতি চলে এসেছেন তার নিজ গ্রাম ঝিনাইদহের শৈলকূপার ছোট্ট পল্লী দোহারোয়। চারিদিকে লকডাউনের কারণে প্রায় ৩০ বছর ধরে ভ্যান চালিয়ে সংসারের ঘানি টানা উন্নতির বাবার এখন ভ্যান চালানোও বন্ধ।

টিনের ছাউনি দিয়ে ৪ শতক জমির উপর একটি ঝুঁপড়ি বাড়ি। ভ্যান চালক আবু দাউদ শেখের এ বাড়িতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের এক কিশোরী নারী খোলোয়াড়ের গোল্ডেন বুটসহ অসংখ্য জাতীয় পুরস্কার, মেডেলসহ অনেক পুরষ্কার। আর এই নারী খেলোয়াড় আর কেউ নন, তিনি প্রতান্ত পল্লীর ঝিনাইদহের শৈলকুপার দোহারো গ্রামের উন্নতি খাতুন। ২০১৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এই উন্নতি খাতুন। প্রধানমন্ত্রী উন্নতিকে বলেছিলেন ‘উন্নতি আরো উন্নতি করবে’।

তবে উন্নতিসহ ৭ সন্তান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন উন্নতির বাবা। মাত্র ৪ শতক জমির উপর বাড়ি ছাড়া আর কোন জমি নেই বলে জানান উন্নতির বাবা আবু দাউদ শেখ। আর নিজের বাড়ি পাশাপাশি পরের বাড়িতে কাজ করেন উন্নতির মা হামিদা খাতুন। ২ ছেলে ২ মেয়েকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়েছেন তবে, অনটনের সংসারে সবাই এখন তাদের ঘাড়েই বলা চলে । উন্নতি দেশের মুখ আরো উজ্জ্বল করবে এমন আশা পরিবারের। তবে বাড়িতে মাথা গোজার একটু ভাল ঠাঁই আর কিছু সহায়তা হলে উন্নতির পরিবারের দিনযাপনের একটু সহজ হয় বলে জানান তার বড় ভাই।

যৌথ পরিবারের সাধ্য মেটাতে হররোজ হিমশিম খেতে হয় উন্নতিদের। তবে উন্নতি বলেন, আমি তো বাংলাদেশের জন্য এখনো তেমন বড় কিছু করতে পারেনি। তবে সবার সাপোর্ট পেলে একদিন বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি করবো। এমন দৃঢ প্রত্যাশা তার।

উন্নতি খাতুন আরো বলেন, ‘এমনিতেই তাদের অভাবের সংসার। তার উপর আবার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাবা দীর্ঘদিন ঘরে বসে। এমতাবস্থায় তাদের সংসারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে।
উন্নতির দোহারো প্রাইমারি স্কুলে ফুটবলে হাতে খড়ি। তখন সমাজের মানুষ নানা কটুক্তি আর গঞ্জনা সইতে হয়েছে এমন আক্ষেপ জানালেও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন দোহারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেটি এখন মাধ্যমিক স্তরে এসেছে সেই স্কুলটির ক্রীড়া শিক্ষক রবিউল ইসলামকে। তিনি সহ শিক্ষকরা তাকে সহযোগিতা করে বিকেএসপিতে ভর্তির অর্থ সংগ্রহ করে দেন।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে উন্নতির বাবার এখন ভ্যান চালানোও বন্ধ। উন্নতিসহ বিকেএসপিতে চান্স পাওয়া দোহারো গ্রামের আরো চারটি মেয়ের পরিবার এভাবে অভাব অনাটনে আছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা জাতীয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট উন্নতির নেতৃত্বে দোহারো মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে তৃতীয় স্থান দখন করে। ২০১৭ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জাতীয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট উন্নতির নেতৃত্বে দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় তার দলটি। আর ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটিবল দলে দেশ সেরা ফুটবল খলোয়াড় ও সেরা গোলদাতার পুরষ্কার পায় উন্নতি খাতুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here