অচলাবস্থা সুরক্ষা দে‌বে কতটুকু

1
দে‌শে চলমান অচলাবস্থায় এক্ট্রিম পুওর লে‌ভেল ষাট শতাংশ বে‌ড়ে‌ছে, এদের ১৪% ত্রানও পায়‌নি। ফ‌লে দা‌রিদ্র‌রেখার নী‌চে যা‌দের অবস্থান, তা‌দের অ‌নে‌কেই অাধ‌পেটা খে‌য়ে দিনা‌তিপাত কর‌ছেন। আর ত্রান বা খাদ্যর জন্য হাত পাত‌তে তারা, ক‌রোনা থে‌কে সুর‌ক্ষিত থাকার জন্য ঘরবন্দী থাকার ‌নি‌র্দেশ লংঘন কর‌ছেন। খাদ্য পাবার আশায় নিরাপদ দূরত্ব ভে‌ঙে হু‌ড়োহু‌ড়ি ক‌রছেন ত্রান বিতর‌ণের সময়। কমদা‌মে ওএমএসর চাল আটা কেনার জন্য গা-‌ঘেসাঘ‌সি ক‌রে লাই‌নে দাঁড়া‌চ্ছেন।
আসল কথা হোল তা‌দের ঘ‌রে খাবার পৌঁ‌ছে দি‌তে না পার‌লে, কোন রক‌মেই নিরাপদ দূরত্ব এই শ্রে‌ণির ম‌ধ্যে নি‌শ্চিত করা যা‌বে না। ঘ‌রে খাবার পৌঁ‌ছে দি‌লে তারা তেমন একটা বাই‌রে বের হ‌বে না। মুলত খাবার নেই ব‌লে তারা ঘরম‌ু‌খি নন। এরাই বড় সমস্যা তৈ‌রি কর‌বে; কারণ খাবা‌রের জন্য তা‌দের জমা‌য়েত সংক্রমন বাড়া‌বে। গরীব কম্যু‌নি‌টির ভেতর চরম মাত্রায় গোষ্ঠীগত সংক্রমণ বাড়া‌বে।
যে‌টি সমা‌জের সব তলার ভেতর পৌঁছে যা‌বে। কারণ প্রাথ‌মিক পর্যা‌য়ে সুপ্ত সংক্রমন নি‌য়ে তারা বাজা‌রে ঘুর‌বেন; অাক্রান্ত হবার পর চি‌কিৎসক নার্স‌দের টা‌চে যা‌বেন, এভা‌বে নানান কায়দায় অন্য‌দের ভেতর ছ‌ড়ি‌য়ে দে‌বে করোনা। ‌দে‌শের বে‌শির ভাগ মানুষ গরীব। তাই অচলাবস্থা দীর্ঘ‌দিন চল‌লে নিন্ম আয়ের মানু‌ষের খাবা‌রের সংস্থান করাটা সম্ভব হ‌বে না। প্রধানমন্ত্রী নি‌জেই স্বীকার কর‌ছেন এমন বহু মানুষ দে‌শে আছেন, যারা “দিন আনে দিন খাওয়া” অর্থাৎ দিন ভি‌ত্তিক বা রোজকার আয়ের তা‌দের সংসার চ‌লে।
রাস্তায় রিকসা, ভ্যান, ইজিবাইক চালা‌তে না দি‌লে, তারা বিনা খা‌দ্যে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী থাক‌তে পার‌বেন না। ঘ‌রের ম‌ধ্যেও সামা‌জিক দূরত্ব হাস্যকর কন‌সেপ্ট ফর প্রি‌ভেন‌টিং ট্রান্স‌মিশন অব ক‌রোনা। কারণ দে‌শে বহুমানু‌ষ আছে , বি‌শেষ ক‌রে ব‌স্তিতে, সেখা‌নে একটা ঘর, তার সাম‌নে এক চিল‌তে বারান্দা, এমন প‌রি‌বে‌শে তিন চার জন‌কে ভাগাভা‌গি ক‌রে থাক‌তে হয়।
প্র্রশ্ন; হাও ক্যান দে কিপ থ্রি ফিট ডিসট্যান্স দেয়ার ফর সেফ‌টি? ‌এক রুম বা দুই ক‌ক্ষের বা‌ড়ি‌তে ছয় সাত জ‌ন সদ‌স্যের হোম‌কোয়া‌রেন্টাইন করা কতটা দূরহ, তাইত তারা ঘ‌রের বাই‌রে বারংবার হ‌য়ে অা‌সে। ব্রা‌কের ওই রি‌পোর্ট বল‌ছে, জ‌রি‌পে অংশ নে‌ওয়া গ্রামীন জনপ‌দের চরম দ‌রিদ্ররা জা‌নেনা কিভা‌বে ছড়ায় ঘাতক ক‌রোনা। রোগ‌টির মারাত্নক মারনরুপ সর্ম্প‌কেও তারা স‌চেতন নয়, জানা‌বোঝাও কম। কতটা ছোঁয়া‌চেও সে‌টিও তারা সেভা‌বে অবগত নন। সামা‌জিক মেলা‌মেশা বা সংস্প‌র্ষের মাধ্য‌মেও ক‌রোনার সংক্রমন নি‌য়েও স্পষ্ট ধারণ নেই তা‌দের। কাউ‌কে অর‌ক্ষিত রে‌খে ‌কেউই ক‌রোনা মুক্ত থাক‌তে পা‌রে না অদ্ভুত রোগ।
সাম্যবা‌দি ধারণা দেয়। যেমন: আপনি আক্রান্ত নন। কিন্তু সেফ নন। অন্য‌দের সেফ‌টির ব্যবস্থা কর‌বেন না, একা সেফ‌ থে‌কে বাঁচ‌বেন তা হ‌বে না।একজন ক‌রোনা সংক্র‌মিত বিদ্যমান থাক‌তে গোটা পৃ‌থিবীর কেউ নিরাপদ না।
লেখক : সালমান হাসান রাজিব
সাংবাদিক

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here