আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের দায়িত্বভার গ্রহণ উপ লক্ষে উপজেলা চত্ত্বরে শত শত মানুষের জমায়েত নিয়ে জন মনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন,রাজনৈতিক সচেতন মহলেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান দাযিত্বভার নিতে গিয়ে যদি শত শত নেতাকর্মী জমায়েত হয়, তাহলে একজন এমপি দায়িত্বভার নিতে গেলে তো লাখো নেতাকর্মীর জমায়েত হবার কথা। সেটা কি কখানো হয়েছে ?
নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দাযিত্বভার গ্রহণের দিন তার অনুগত নেতাকর্মী আসবে এটা স্বাভাবিক, তবে সেটা দু’দশজন বা  বিশ-পঞ্চাশ হতে পারে। কিন্ত্ত কখানোই তা শত শত হতে পারে না, এমনটি হলে এর নেপথ্যে ভিন্ন কিছু আছে সেটা মনে করাটাই স্বাভাবিক।
এছাড়াও এসব লোক জমায়েতের কারণে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভার দিন যদি কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতো তাহলে তার দায় নিতো কে ?  দায় তো  এমপিকেই নিতে হতো ?
সেই বিবেচনায় অবৈধ গনজমায়েত তো এমপির অনেক আগেই ভেঙে দেয়া উচিৎ ছিল।
আর বেলাল উদ্দিন সোহেল কি একাই নির্বাচিত চেয়ারম্যান না আর কেউ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সেসব চেয়ার ম্যানগণ কি দায়িত্বভার নেয়ার দিন দিন শত শত নেতাকর্মী জমায়েত করেছেন, না বেলালের মতো তাদের কোনো জন প্রিয়তা নাই, বেলাল একাই জনপ্রিয় ব্যক্তি ?
আবার বলা হচ্ছে বেলালের দায়িত্বভার গ্রহণের দিন ঝামেলা হতে পারে তাই তিনি আগে থেকেই সাংবাদিক নিয়ে এসেছে ন। তার দায়িত্বভার নেয়ার দিন  ঝামেলা হবে এমন আগাম তথ্য তাকে কে দিল সেটা অবশ্যই অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।
অন্যদিকে উপজেলার মাসিক সাধারণ সভার দিন উপজেলা চত্ত্বরে শত শত মানুষের জমায়েত কতোটা যৌক্তিক বা আইন -সিদ্ধ সেটাও অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ৩০মে বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা ছিল।
এদিন সভায় যোগ দিতে উপজেলা চত্বরে যান  স্থানীয় সাংস দ ওমর ফারুক চৌধুরী। কিন্তু আগে থেকে সেখানে জমায়েত ছিল বিপুল পরিমাণ মানুষ।
কোনো পুর্ব  ঘোষণা ব্যতিত হঠাৎ এতো মানুষ জমায়েতের কারণ জানতে চান সাংসদ। এরপর সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি  হলে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন,  ‘তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জমায়েত  কি না সন্দেহ আছে।’ তিনি এটি তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের নবনি র্বাচিত  চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলও এদিন দায়িত্ব নিতে উপজেলায় যান।
এদিন সকাল থেকেই তার কর্মী সমর্থকরা পুরো উপজেলা চত্বরে অবস্থান নেন। যাদের মধ্যে অচেনা নতুন মুখেরও অনেক মানুষ ছিলো।
উপজেলা সমন্বয় সভার দিনে এমন জমায়েত দেখে প্রশ্ন তোলেন সাংসদ ফারুক চৌধুরী।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলামও সাংসদের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, সমন্বয় কমিটির সভার নিউজ সংগ্রহ করতে শহর থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে সাংবা দিক যান। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এত সাংবাদিক এটা স্বাভাবিক না।
এর আগেও তো অনেক সভা হয়েছে কই কখানো তো এমন সাংবাদিকদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার এটা একটা উদ্যোগ বলে আমার মনে হয়েছে। না হলে একটি মাসিক সমন্বয় সভা য় রাজশাহী শহর থেকে তিন মাইক্রোবাস সাংবাদিক নিয়ে যাওয়ার কি এমন কারণ থাকতে পারে ? তারা এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে যেন আমি একটা কিছু বলি বা করি বা আমার সমর্থক যদি আমি নিয়ে যেতাম তাহলে বিশৃংখলা র সৃষ্টি হতো এবং তারা এই সমস্ত সাংবাদিক সাহেবদেরকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটা বিশাল প্রোপাগান্ডা করতে পার তো।
এরকম একটা সম্ভাবনা বা চিন্তা ভাবনা থেকে আমার রাজ নৈতিক ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যে তারাই সমা বেশ করে এবং এ সাংবাদিকদেরকে নিয়ে আসে। বারবার আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
আমি এ বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করেছি। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনটি মাই ক্রোবাস, এটি তাদের কে দিয়েছে সেটাও ভাবার বিষয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী  লীগের চেতনা বিরোধী,আদর্শ বিরো ধী মানুষের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে কোনো অসাধু উদ্দেশ্যে, এটার ইনভেস্টিগেশন হওয়া দরকার।
এত লোকের উপস্থিতি, এত লোকের গাড়ি ভাড়া কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে, এ পেছনে উদ্দেশ্য কি।  কারণ আমি বিষয়টি নিয়ে দুইবার  ইউএনও সাহেবকে ফোন করেছি।
লোকজন সরাতে বলেছি। মাইকিং করেও লোকজন সরানো যায়নি। প্রশাসনের মাইকিং শুনেও কেন লোকজন সরলো না। এর মধ্যে যে কোনো আর্মস ক্যাডার বা ক্রিমিনাল ছিল না তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইচ্ছা করে পরিস্থিতি খারা প করে তারপর আক্রমন করার প্ল্যন ছিল কিনা যথেষ্ট সন্দে হ আছে।
তিনি জানান, এটা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটা ঘটনা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বলে মনে হয়েছে। এর নেপথ্যে কারা আছে, সেটি বের করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
গোদাগাড়ীর দুইজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সমন্বয় কমি টির সভাতে গিয়ে জমায়েত দেখে সাংসদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারণ জিজ্ঞেস করেছেন।
কিন্তু সাংবাদিকরা হঠাৎ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর করার চেষ্টা করেন। তাদের প্রশ্নের ধরন ছিল, আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া। কারণ ওইখানে সাংবাদিকদের থাকার কোনো কারণ ছিল না। কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের নবনি র্বাচিত  চেয়ারম্যান  বেলাল উদ্দিন সোহেল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কয়েকশ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যান। কর্মী-সমর্থকরা উপজেলা চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। অন্যদিকে উপস্থিত হন সাংসদদ ওমর ফারুক চৌধুরী মাসিক সমন্বয় সভায়।
এ সময় সাংবাদিকরা নানা ধরনের প্রশ্ন করেন সাংসদ ফারু ক চৌধুরীকে।সমন্বয়ে সভা শেষে  ইউএনও আতিকুল ইস লাম বলেন, এমপি সাহেবকে যদি হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তদন্ত করে। যদি এর সঙ্গে আমিও জড়িত থাকি তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি ভেতরে ছিলেন। বাইরে কী হয়েছে তা তিনি জানে ন না। তিনি বলেন, ‘নতুন একজন জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব নিতে গেলে তাঁর সঙ্গে অনুসারীরা প্রথম দিন গিয়ে থাকেন।
এ জন্যই মানুষ ভালোবেসে আমার সঙ্গে এসেছিল। কেউ এমপিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসেননি। এ রকম কেউ চিন্তাও করে না।#
2 thoughts on “গোদাগাড়ীতে বেলালের লোক জমায়েত নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *