এমপি আবু সাঈদ”একজন সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেণ

0

জাহাঙ্গীর আলম,(যশোর)
সবাইকে কাঁদিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন,যশোর-২ ( চৌগাছা-ঝিকরগাছা )আসনের সাবেক এমপি মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন।

গত শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় এক প্রগ্রাম চলাকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহির রাজিউন)

পারিবারিক সূত্রে জানা যায় তিনি সাভাবিক ভাবেই বাসায় মৃত্যু বরন করেন। জিডিএল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সরকারের করোনার বিধিনিষেধের কারনে জানাজার জনসমগম হতে না দিয়ে প্রশাসন রাতের মধ্যে দাফন করার নির্দেশন দেন। ফলে রাত ১১.৩০ মিঃ ঝিকরগাছার বাসভবনের সামনে ১ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও যশোর পশ্চিম সাংগঠনিক জেলার সেক্রেটারী মাওঃ আরশাদুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপজেলা সভাপতি মোর্ত্তাজা ইলাহি টিপু, জামাতের জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঝিকরগাছা আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ সেক্রেটারী আঃ আলীম, সহ বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যাক লোকজন। রাত ১ টায় বাঁকড়ায় নিজ গ্রামের বাড়িতে ২য় জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে দুই মেয়ে ও মাতা সহ অসংখ্য গুনগ্যাহী আত্মীয় স্বজন ও দলীয় জনশিক্ত রেখে গেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যশোর পশ্চিম সাংগঠনিক জেলার নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের সদস্য পদ লাভ করেন। ২০১৫ সালে যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরু সদস্য ছিলেন।

সরে জমিনে মরহুমের জনপ্রিয়তা ও সততার অনুসন্ধানে জানা যায় তিনি ছিলেন খুবই সহজ সরল প্রকৃতির ও জন দরদী এবং সৎ মানুষ। মরহুমের সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলার ইসলামী ছাত্র মজলিশের সাবেক ছাত্র নেতা মাওঃ ছফিউল্লাহ বলেন তিনি একজন ভাল মানুষ ছিলেন মরহুমের সাথে রাজনৈতিক কারনে চলাফেরার সুযোগ হয়েছে।

তাই তার সম্পর্কে জেনেছি তিনি ছিলেন সূভাষী ও সূবক্তা এবং সর্বদা সাধারন জীবন যাপন কারী। আমি বিশ্বাস করি এবং জানি তিনি ন্যায় ও সততার সাথে সাংসদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

চৌগাছা উপজেলার (মরহুমের সমসাময়িক) জগদেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ আব্দুর রহমান, হাকিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ আমিন উদ্দিন, পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওঃ আঃ কাদের সহ আরো অনেকেই একই ধরনের অনুভূিত প্রকাশ করেন ।

তিনি অত্যান্ত মেধাবী, সৎ ও জনদরদী এবং অত্যান্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। উনারা আরো বলেন মরহুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। জনগণের মধ্যে শোকের বহি প্রকাশ ঘটে। প্রশাসন জানাজার নামাজে নিষেধাজ্ঞা না দিলে আমাদের ২২ ইউয়নের সাধারণ ভোটাদের ভালবাসায় তার জানাজার নামাজে জনসমুদ্র তৈরি হত।

ঝিকোরগাছা বড় মসজিদের খাদেম তোফাজ্জেল হোসেন বলেন তিনি সৎ ও জনদরদী ভাল মানুষ ছিলেন। পদ্মপুকুরিয়ার বাসিন্দা আঃ বিশ্বাস একজন ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য তিনি বলেন রাজনৈতিক পরিচয় যা হোক না কেন তিনি একজন ভাল মানুষ ছিলেন। উনি সরকারি কাজ শেষে উদ্বৃত্ব টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে ফেরত দেয়া লোক। দিগদানা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রী গোপাল চন্দ্র, ব্যবসায়ী গোবিন্দ, চিত্তরনজন সহ আরো অনেকে বলেন তিনি সব ধর্ম বর্ণ নির্বেশেষে সব মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন।

এক কথায় উনি সৎ আমানতদার ও দেশে প্রেমিক ছিলেন। পার বাজারের সৈয়দ আহসান হাবীব বিএনপির সার্পোটার এবং ব্যবসায়ী। তিনি বলেন উনার সরলতা ও সততার কথা এলাকার সবাই জানে। এমপি থাকা অবস্থায় ঝিকরগাছা থেকে যশোর বাসে যাতায়াত করতেন। হঠাৎ একদিন জুতা ছিড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মত জুতা বোগলের নিচে নিয়ে বাসে করে বাড়ি আসেন। কেউ জিজ্ঞেসা করলে মুচকি হেসে বলেন ছিড়ে গেছে তো মেরামত করে আবার পায়ে দেয়া যাবে

মরহুমের নিজ ইউনিয়নের বর্তমান আওমীদলের চেয়ারম্যান মোঃ নেছার আলী বলেন উনি রাজনৈতিক ভাবে জামায়াতের নেতা ছিলেন তবে ভাল মানুষ ছিলেন। যশোর পশ্চিম সাংগঠনিক জেলা আমীর ও সেক্রেটারী মহদ্বয় মরহুম সম্পর্কে একই কথা বলেন যে, আবু সাঈদ সাহেব অত্যান্ত মেধাবী, সৎ, যোগ্য, অধ্যাবসায়ী ও অত্যাধিক জনপ্রিয়, সহজ-সরল, দলমত নির্বিশেষে পরউপকারী ও কল্যাণকামী ছিলেন।

উনার মৃত্যুতে ইসলামী আন্দোলনের যে শুন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন মরহুমের মানবিক দুর্বলতা গুলো ক্ষমা করে দেন, এবং আমাদের এই শুন্যতা পূরণ করে এই মৃত্যুকে শহদী মৃত্যু হিসাবে কবুল করেন।

পরিচিত ঃ মরহুমের নাম আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাত হোসাইন, পিতা- আব্দুল ওয়াজেদ মন্ডল, মাতা- কুলছুম বেগম, গ্রাম ও ইউনিয়ন- বাঁকড়া, ঝিকরগাছা, যশোর। ৫ ভাই, ২ বোন উনি পিতা মাতার প্রথম সন্তান। ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন।

শিক্ষা জীবন ঃ দাখিল, আলিম, ফার্যিল ও কামিল বোর্ড স্টান্ড করেন। আবার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামীক স্টাটিস বিভাগে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।

কর্মজীবন ঃ ১৯৮০ সালে ফরিদপুরের বাহাদুরপুর কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষাকতা করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে মণিরামপুর ডালঝাড়া ফাযিল মাদ্রাসার উপধ্যাক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত যশোর সদর

রাজনৈতিক পরিচিতি ঃ ১৯৮৮ সালে বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন এবং যশোর জেলার শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান নির্বচিত হয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। ১৯৯০ সালে উপজেলা নির্বাচনে ২৫০০ ভোটে পিছিয়ে পড়েন। ২০০১ সালে দাঁড়িপাল্লা মর্কা নিয়ে ১,৩৭,০০০ ভোট পেয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এর সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করে বিজয় লাভ করেন। এবং সফল সাংসদ হিসেবে বিবেচিত হন।

এমন কি ফিজিতে কমনওয়েলথ সম্মেলন শেষ করে উদ্বৃত্ব ৫০০০ ডলার রাষ্টের কোষাগারে ফেরত দেন। যা কোন সদস্যের ফেরত দেয়ার ইতিহাস নাই। মরহুমের বড় ছেলে এ্যাডভোকেট হাবীব কাইছার জানন আমার বাবা রমজান মাসে আমাদের নিয়ে এক পারিবারিক বৈঠকে বলেন রাসূল (সঃ) ৬৩ বছর জীবীত ছিলেন। আমার ৬৩ বছর শেষ, হয়তবা আমি আর বেশি দিন থাকব না। হযরত লুকমান (আঃ) তার সন্তানদেরকে সূরা লুকমান নসিহত করেছিলেন আমিও তোমাদেরকে এই সূরাটি নসিহত করছি।

হয়তবা আর নসিহত করার সময় পাব না। মৃত্যুর আগ মুহুতে হাবিব কাইছার তার আব্বাকে প্রশাংসার সুরে বলেন, আব্বা একটু চেষ্টা করলে অনেক বড় নেতা হতে পারতেন। উত্তরে তিনি বলেন যত বড় দায়িত্ব তত বেশি হিসাব। আমি কম হিসাব দিতে চাই।

অতএব আমি পদ পদবী চাই না, আমি জান্নাতে যেতে চাই। তিনি বলেন, আব্বা, জনগনের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কেননা তিনি জনগনের সম্পাদ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দিয়েছেন। এটা আমাদের সবার জন্য একটা গৌরবের বিষয়। পরিশেষে সবার কাছে দোয়া চাইছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here