করোনায় অভিনেতা কে এস ফিরোজের মৃত্যু

0

বিনোদন ডেস্ক: বিশিষ্ট অভিনেতা কে এস ফিরোজ (৭৬) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

বুধবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয় বলে তার মেয়ে নাদিয়া ফিরোজ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাবা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ২৮ অগাস্ট তার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমতে থাকায় ৩০ অগাস্ট তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়েছিল।

“চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইবার বাবার স্ট্রোক হয়। বুধবার দ্বিতীয় স্ট্রোকে বাবার মৃত্যু হয়েছে।”

শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বুধবার বাদ জোহর বনানী সেনানিবাস কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে নাদিয়া জানান।

তিনি আরও লেখেন, আব্বু বলেছেন মহামারি চলাকালীন যারা মারা যায়, তারা শহীদ। তিনিও শহীদ হয়ে চলে গেলেন। তার জন্য আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। তার যাতে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব হয়, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাইছি।

অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা আহসান হাবীব নাসিম বলেন, নাট্যাঙ্গন একজন গুণী অভিনেতাকে হারালো। তিনি আমাদের সংগঠনের আজীবন সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

নাসিম আরও জানান, ফিরোজ ভাইয়ের পারিবারিক সূত্রে জানতে পেরেছি মহামারি শুরু হওয়ার আগে তিনি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। ৫ দিন আগে তার আবার নিউমোনিয়া দেখা দেয়, পরে করোনা টেস্ট করলে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না।

কে এস ফিরোজের জন্ম ঢাকার লালবাগে, কিন্তু তার পৈতৃক নিবাস বরিশালের উজিরপুরের মশাং গ্রামে। তার বাবার নাম এ জে এম সাইদুর রহমান এবং মা রাবেয়া খাতুন।

১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পদে চাকরি পান। ১৯৭৭ সালে মেজর পদে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।

নাট্যদল ‘থিয়েটার’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে কে এস ফিরোজের পথচলা শুরু। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, ‘কিংলিয়ার’ ও ‘রাক্ষসী’ নাটকে। এছাড়া তিনি টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় মুখ। বহু একক নাটক, ধারাবাহিক ও টেলিফিল্মে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। বহু বিজ্ঞাপনও করেছেন।

তাকে বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তার প্রথম সিনেমা ‘লাওয়ারিশ’। এছাড়া কে এস ফিরোজ অভিনয় করেছেন আবু সাইয়ীদের ‘শঙ্খনাদ’, ‘বাঁশি’, মুরাদ পারভেজের ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ও ‘বৃহন্নলা’র মতো প্রশংসিত সিনেমায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here