যশোর-২(চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি আর কে পাচ্ছেন ধানের শীষ

0

ইমরান হোসেন পিংকু,যশোর:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যশোর-২( ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি আর কে পাচ্ছেন ধানের শীষ। বর্তমানে জোট-মহাজোটের নেতা-কর্মী ও সাধারন ভোটারদের মধ্যে চলছে নির্বাচনমূখী আলোচনা। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকার গুরুত্বপূর্ন স্থানে পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেঁয়ে ফেলেছে।

সম্প্রতিকালে তারা দলীয় প্রতীক পেতে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় শীষ নেতাদের সাথে জোর লবিং করছেন স্ব-স্ব বলয়ের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

১৯৭৭ সালে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) এ আসনটি গঠিত হয়। এরমধ্যে চৌগাছা উপজেলায় মোট ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আছে। ইউনিয়নগুলো হলো চৌগাছা, পাতিবিলা, হাকিমপুর, জগদীশপুর. ফুলসারা, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিযানি, স্বরুপদাহ. নারায়নপুর ও সুখপুকুরিয়া। মোট গ্রাম:১শ৬৮টি,জনসংখ্যা ২লাখ ৩১ হাজার ৩৭০,এরমধ্যে মুসলিম ২লাখ ১৩ হাজার,হিন্দু ১৭হাজার৩৩২,খ্রীষ্ঠান ২৬জন,অন্যান্য ৪৯ জন। মোট ভোট ১লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৪,এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৬হাজার ৫শত১৩ জন,মহিলা ভোট ৬৮হাজার ২শত৩১।

অপরদিকে ঝিকরগাছা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আছে। ইউনিয়নগুলো হলো: ঝিকরগাছা,গদখালি,শিশুলিয়া,পানিসরা,নাভারন,নির্বাসকোলা,হাজিরবাগ,শঙকরপুর,বাঁকড়া,মাগুরা ও গজ্ঞানন্দপুর। মোট গ্রাম: ১৭৪টি। জনসংখ্যা: ২লাখ ৯৮হাজার ৯শত৮জন। পুরুষ এক লাখ ৪৭ হাজার ১শ১৭ জন। মহিলা ১লাখ ৫১ হাজার ৭শত৮১ জন। মুসলমান ২লাখ ৮১ হাজার ৭৬২,হিন্দু ১৪হাজার ৪০৮ জন,খৃষ্টান ২ হাজার ৬৪৯ জন,অন্যান্য ধর্ম ৮৯ জন । সর্বশেষ ভোটার তালিকানুযাী ১লাখ ৭৬ হাজার ২শত ৮৪টি ভোট । এরমধ্যে পুরুষ ভোট ৮৫ হাজার ৮৩ ও মহিলা ভোট ৬১ হাজার ২শত ২১। তবে হালনাগাদ আরও ভোট বাড়বে নির্বাচনী অফিস সূত্রে জানাগেছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতিয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড.মনিরুল ইসলাম মনির (আ:লীগ)এম পি নির্বাচিত হন। এরআগে এ আসন থেকে যারা এমপি নির্বাচিত হন ১৯৬৯ ও ৭১ সালে দুই দুই বার তৎকালীন নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড.মনিরুল ইসলামের পিতা আবুল ইসলাম(আ:লীগ),১৯৯১ সালে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম(আ:লীগ),১৯৯৬ সালে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (আ:লীগের সাবেক বিদ্যূত প্রতিমন্ত্রী) ও ২০০৮ সাবেক রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ (আ:লীগ)২০০১ সালে মুহাদ্দিস আবু সাঈদ(জামায়াত) ও বিগত বিএনপির শাসনামলের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ্যাড.মনিরুল হুদা(বিএনপি)। ১৯৯০ সালের পূর্ব জাতিয় পাটির বদরুল আলা,১৯৮৬ সালে জামায়াতের মকবুল হোসেন এমপি হন।

পরিসংখ্যানুযায়ী দেখা গেছে এ আসন থেকে বেশীবারই সময়ই আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রাথীরাই এমপি পদে জয়লাভ করে। যে কারনে প্রতিবারই আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে দলীয় প্রতীক নৌকা প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়ে যায়।এ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান ইসলাম,ঢাকা বঙ্গবন্ধু আইন জিবী পরিষদের সাধারন সম্পাদক(ট্যাস্কবার)ও জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড.এবিএম আহসানুল হক আহসান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল রফিকুল ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান, আওয়ামী লীগ নেতা ডা:মেজর জেনারেল (অবঃ) নাসির উদ্দিন, অধ্যক্ষ. হারুন অর রশিদ,এ্যাড.ড. আকতারুল কবীর। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াাত জোটের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জামায়াতের মুহাদ্দিস আবু সাঈদ,বিএনপির চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপরি জহুরুল ইসলাম,ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল, বিএনপি নেতা মো: মিজানুর রহমান,এ্যাড.ইছাহক আলী এ্যাড,জাতিয় পাটির জেলা যুগ্ন সম্পাদক নুরুল কদর, ও বি এম সেলিম রেজা।

এর মধ্যে নৌকরা মাঝি কে হচ্ছেন আর বিএনপির ধানের শীষ কে পাচ্ছেন তৃনমূলের দলীয় নেতা-কর্মী, ভোটাররা বিভিণœ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠােেন এবং পাড়া-মহল্লায়,হাটে বাজারে ,চায়ের দোকানে এ নিয়ে সর্বত্রে চলছে ব্যাপক আলোচনা। আওয়ামলীগৈর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের দলীয় নেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে পড়তে দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটার সমর্থন পেতে এ আসনের গুরুত্বপূর্ন স্থানে পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেঁেয় ফেলেছে। সম্প্রতিকালে এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এলাকা ছেড়ে সবাই ঢাকাই গিয়ে কেন্দ্রীয় শীষ নেতাদের সাথে জোর লবিং করছেন করছে স্ব-স্ব বলয়ের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড.মনিরুল ইসলাম মনির দলীয় নৌকা প্রতীক আবারও পাবেন বলেই তার অনুসারীরা শতভাগ আশাবাদী। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান গত ৪ সেপ্টেম্বর চৌগাছা-ঝিকরগাছায় অধিকাংশ ইউনিয়নে মটরসাইকেল,কার প্রাইভেটের বিশাল শোডাউন দেবার পর থেকে এলাকায় তার পক্ষে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তিনি জীবনের শেষ সময়ে হলেও তিনিই এবার দলীয় নৌকা পাচ্ছেন বলে তার অনুসারী নেতা-কর্মীরো মনে করছেন। অপর প্রার্থী এ্যাড,আহসানুল হক আহসান নৌকার মনোনয়ন পেতে চৌগাছা-ঝিকরগাছা উপজেলার সর্বত্রে বিলবোর্ড,পোস্টারে ছেয়ে ফেলছেন। তার অনুসারীরাও মনে করছেন এবার এ আসন থেকে তিনি নৌকা পাবেন। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দলীয় নৌকা প্রতীক পেতে চেষ্টা করেন। শেষমেষ বঞ্চিত হন তিনি। সেইসময় থেকেই তিনি মাঠে আছেন। তিন মাঠ ছাড়েননি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে পরাজিত হন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম। তিনি এলাকায় লিফলেট,বিলবোর্ড গাছে গাছে না ঝুলালেও এবার তিনি নৌকার টিকিট পেতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভিতরে ভিতরে জোর লড়াই করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া সাবেক সেনা মেজর জেনারেল ডা: নাছির উদ্দিন,অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হান, আনোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ দলীয় নৌকা প্রতীক পাবার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী রয়েছেন।