রাজশাহীতে এমপি ফারুক-বাদশার দ্বন্দ্বের নেপথ্যে

0

 

আলিফ হোসেন,তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংনদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী ও রাজশাহী-২ সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার মধ্যে প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধ ও চরম মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরী এবং ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা দুই দলের এই দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগ ভাঙ্গা-গড়া নিয়ে মূলত এই দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয়েছে,কারণ এই দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি সকলের কাছে ম্পস্ট হয়ে উঠবে। এদিকে তৃণমূলের অভিমত, এমপি ফারুক চৌধূরী যখন বিএনপি-জামায়াতের আঁতুড়ঘর ভেঙ্গে আওয়ামী লীগের বসতঘর করেছে এবং দলকে সাংগঠানিক ভাবে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করতে মাঠে নেমে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। ঠিক তখনই ফজলে হোসেন বাদশা এমপি কৌশলে আওয়ামী লীগকেই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ তৈরী করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছে, রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ফারুক চৌধূরী কাজ করেছেন। কিšত্ত মহাজোটের শরিক দল হয়েও বাদশা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনিত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে। একই ভাবে উপজেলা নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনিত নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে বাদশা নৌকা পরিবারের লোককে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছে। তানোর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, জনবান্ধব ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, অথচ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না এটা নিশ্চিত হয়েও ময়নার বিপক্ষে অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনিত প্রার্থীর বিপক্ষে জনবিচ্ছিন্ন শরিফুল ইসলামকে হাতুড়ি প্রতিক দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী করা হয়েছে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগে দলীয়কোন্দল সৃষ্টির জন্য বলে মনে করছে তৃণমূল। এছাড়াও কলমা ইউপির উপ-নির্বাচনে তিনি কৌশলে আওয়ামী লীগের বিপদগামী নেতাদের দিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের পক্ষে কাজ করিয়েছেন। এসব কারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বাদশাকে আওয়ামী লীগের জঞ্জাল আঙ্খা দিয়ে তার এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে, ফজলে হোসেন বাদশা আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের কাছে থেকে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি কৌশলে আওয়ামী লীগে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি ও দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন তাহলে এটা কি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিদের বিরোধীতার নামে আওয়ামী লীগের কিছু বিপদগামী নেতাদের দিয়ে আলাদা বলয় সৃষ্টির নামে দলীয়কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। আবার তানোর উপজেলা নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে হাতুড়ি প্রতিক নিয়ে আবু বাক্কার বিজয়ী হবার পর এমপি ফারুক চৌধূরীর নেতৃত্ব গুন ও রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় মুগ্ধ হয়ে আবু বাক্কার আনুষ্ঠানিক ভাবে ওয়াকার্স পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। আর এ ঘটনাকে অনেকে বলছে, বাদশা অন্যর লেজ কাটতে গিয়ে বাক্কারকে হারানোর মধ্যদিয়ে নিজের লেজ কাটা পড়েছে। আবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীকে ফ্রিডম পার্টির নেতা অ্যাঙ্খাদিয়ে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারুক চৌধূরীর নেতৃত্বে ফ্রিডম পার্টির মিছিল বের হলে তারা লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে ছিলেন। এটাও একটি বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা এমপি ফারুক চৌধূরী ১৯৮২ সালে লোখাপড়া শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এসেছেন আর ১৯৮৯ সালে রাজশাহী শহওে ফিড্রম পাটির আবির্ভাব হয়। এছাড়াও এমপি ফারুক চৌধূরীর পিতা শহীদ আজিজুল হক চৌধূরী ও চাচা মকবুল হক চৌধূরী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন, তার মামা জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনা এই পরিবারের কোনো সদস্য ফ্রিডম পার্টির নেতা হবেন এটা বদ্ধ পাগলেও বিশ্বাস করেন না। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এমপি ফজলে হোসেন বাদশার আশঙ্কা এমপি ফারুক চৌধূরী আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকলে আগামিতে তাকে নৌকার টিকেট দেয়া হবে না এই আশঙ্কা থেকেই কৌশলে তিনি এমপি ফারুককে নেতৃত্ব থেকে শরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছেন। কারণ নৌকা ব্যতিত রাজনৈতিক অঙ্গনে তার তেমন কোনো অস্থিত্ব নাই নৌকা হারালে তার রাজনীতি অনেকটা শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তৃণমূল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইতি পূর্বে একটি অশুভ চক্রটি এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরুদ্ধে মাদকের পৃষ্ঠপোষক, জামায়াত-বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, নিয়োগ বাণিজ্য, আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী ইত্যাদি এমন বাল্পনিক মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ উঙ্খাপন করে তৃণমূলের তোপের মূখে নিজেরাই নিজ ঘরে পরবাসী ও বাঁবুইভেঁজা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ঘরে ঢুকে পড়েছে। আর এই অশুভ চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা ও এক চেয়ারম্যান। এমপি ফারুক চৌধূরী যদি আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী হয় তাহলে আওয়ামী লীগের চেতনাবান্ধব কারা ? বিগত দিনে যারা অবৈধ অর্থের লালসায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় ঘটিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা ? না কি একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপিদের বিরোধীতার কথা বলে এমপিবিরোধী বলয় সৃস্টির নামে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নস্ট ও জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছে তারা ? না কি উপজেলা-পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের এমপি অনুসারী বলে যারা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে তারা ? তারাই যদি আওয়ামী লীগের মূল চেতনাবান্ধব হয় তাহলে তারা মাঠে নেমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছে না কেনো তা না করে ঘরে বসে এসব প্রাসাদ-ষড়যন্ত্র কেনো। অথচ আওয়ামী লীগের বিপদগামী একশ্রেণীর নেতার সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই অশুভ চক্রের মদদে ও আর্ধিক সুবিধার বিনিময়ে এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত খবর প্রকাশ করেছে একশ্রেণীর গণমাধ্যম কর্মী। এদিকে এসব খবর ছড়িয়ে পড়লে এই অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে তৃলমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, বিরাজ করছে বিস্ফোরণমূখ পরিস্থিতি।
জানা গেছে, এমপি ফারুক চৌধূরী পারিবারিক ভাবেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ বুকে ধারণ করে বড় হয়েছেন। অথচ তিনি নাকি আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী তাহলে যারা এসব অপপ্রচার করছে দেশের জন্য তাদের কি এমন পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে আসলে রাজনীতিতে তারা কোনো ভাবেই এমপি ফারুক চৌধূরীকে ঠেকাতে না পেরে মানষিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আর এই হতাশা থেকেই তাদের হতাশাজনক মন্তব্য। এছাড়াও বিশ্বের দ্বিতীয় সৎ ও সেরা রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের একক ক্ষমতা বলে দলের সব প্রটৌকল ভেঙ্গে এমপি ফারুক চৌধূরীকে আওয়ামী যোগদান করিয়েছেন, তিন বার এমপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি করেছেন, একবার শিল্প প্রতিমন্ত্রী করেছেন তাহলে দলের সভাপতি যেই মানুষটিকে এতোভাবে সম্মানিত করেছেন। সেই মানুষটির বিরুদ্ধে যারা এসব অপপ্রচার করছে তারা নিজেরা কি ? আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এসব প্রশ্ন এই জনপদের সাধারণ মানুষের। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় রাজশাহী-২ সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here