খুলনাসহ উপকূলের কৃষকদের আশা জাগাচ্ছে মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের গবেষকরা

0
বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরোঃ
খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লবনাক্ততা ও পানি সংকট মোকাবেলা করে পতিত জমিতে চাষাবাদের ভিত্তি রচনা করেছেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের গবেষকরা। গত কয়েক বছরে গবেষনার মাধ্যমে লবন ও খরা সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ফসল চাষাবাদের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতাও পেয়েছেন গবেষকরা। ইতিমধ্যেই গবেষনায় উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে তরমুজ, ধান, ভুট্টা এবং কুমড়া, ঢেড়শসহ বিভিন্ন প্রকার সজ্বি চাষ কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। যার কারনে পড়ে থাকা ৬’সহস্রাধিক হেক্টর পতিত জমিতে চাষাবাদের আশা জেগেছে উপকুলীয় অঞ্চলের কৃষকদের।
এ অঞ্চলে জমি এক ফসলী হওয়ার কারনে গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে ৬’হাজার হেক্টরেরও বেশী জমি পতিত রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের লবনাক্ততা, সেচ ও পানি সংকটের কারনে এসব জমিতে কোন ফসল হয় না। এসব জমিকে আবাদের আওতায় আনতে ২০১৮ সালে কৃষি মন্ত্রনালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের গবেষকরা একটি প্রকল্প হাতে নেয়। উপকুলীয় -গোপালগঞ্জ, খুলনা-সাতক্ষীরা- বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার ৩৯টি উপজেলায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষনা শুরু করে। গবেষকরা লবনাক্ততা ও খরা প্রবন মাটিতে চাষাবাদের উপযোগী পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন। উপকূলীয় অঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদে গবেষকদের উদ্ভাবিত ডিবলিং, ট্রান্সপ্লানিটং, পরিব্যাগ ও ট্রেতে চারা উৎপাদন ও এবং পলিমাসসহ একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তরমুজ, ধান, ভুট্টা এবং কুমড়া, ঢেড়শসহ বিভিন্ন প্রকার সজ্বি চাষে সফলতা পায়। ইতিমধ্যেই খুলনাসহ উপকুলীয় অঞ্চলের পতিত দেড় সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে সফলভাবে চাষাবাদের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এতে এলাকার কৃষকরা লাভবান হওয়ায় বেড়েছে আগ্রহ ও আবাদের পরিধিও।
তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ, সার,বীজসহ সার্বিক সহযোগীতা করছেন। এতে লবনাক্ত ও খরা প্রবন জমিতে চাষাবাদে আশাবাদি হয়ে উঠেছে এলাকার কৃষক।
এ ব্যাপারে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ণ ইনষ্টিটিউট, খুলনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমর কান্তি বিশ্বাস বলেন এ প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পদ্ধতিসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে জমির স্বাস্থ্য ভালো রাখা, রোগবালাই হ্রাস, পরিবেশ নিরাপদ রাখা এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য সফল হবে।
অপরদিকে মৃত্তিকা গবেষনা ইনষ্টিটিউট খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সচীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, উপকুলীয় গোপালগঞ্জ,খুলনা- সাতক্ষীরা- বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার ৩৯টি উপজেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমি ইতিমধ্যেই চাষের আওতায় এসেছে। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পতিত থাকা ৬’সহস্রাধিক হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে বলে করছেন তিনি।