খুলনায় কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে শিল্প কল কারখানা

0

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা : প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করেই খুলনায় কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প কল কারখানা। এতে করে ক্রমে কমছে কৃষি জমি। উৎপাদন কম হচ্ছে কৃষি পণ্য। খুলনায় দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে হবে সকলকে।

আবাদী বা ফসলী জমিতে কোন শিল্প কারখানা গড়ে তোলা যাবে না এমনই নিদের্শনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবাদী জমি ক্রয় করে তবে সে জমিতে কেবল মাত্র কৃষিজাত পন্য উৎপাদন করতে পারবে- এমনই দিক নির্দেশনা রয়েছে সরকারের পক্ষ হতে। তবে সরকারী এ নিদের্শনার মাঝেই দিঘলিয়া উপজেলার দক্ষিন আড়ংঘাটা থানাধীন বাইপাস সড়কের পাশে আবাদী বা ফসলী জমি ক্রয় করে গড়ে তোলা হচ্ছে জুট টেক্্রাটাইল মিলস্ লিমিটেড (ইউনিট -৪)। যা মন্ডল জুট মিলস্ এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এ শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ফলে দেয়ানা মৌজায় কয়েক বিঘা আবাদী জমির ক্ষতি হচ্ছে যা স্থানীয় জনজীবনের উপর প্রভাব ফেলছে। দক্ষিন আড়ংঘাটা বাসিন্দা বাইতুল নাজাত জামে মসজিদের খাদেম ও মুদি ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, যে জমিতে জুট মিল গড়ে তোলা হচ্ছে সেখানে বছরে দু’বার ধান হতো। এ মিল তৈরীর ফলে ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেল।

একই এলাকা বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, কৃষি জমিতে জুট মিল গড়ে তোলা হলে এখানে আর বসবাস করার কোন উপায় থাকবে না। ধীরে ধীরে এই মিলের মালিকেরা আশপাশের সকল জমি ক্রয় করে ফেলবে, ফলে আমাদের অন্যত্র চলে যেতে হবে। আড়ংঘাটা বাইপাস বটতলার বাসিন্দা ৩২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত কুমার মন্ডল বলেন, যেখানে জুট মিল গড়ে তোলা হচ্ছে সেখানে সারা বছর ধান উৎপাদন হতো। সাধারন মানুষ খেয়ে বাঁচতো। এ মিল তৈরীর ফলে সাধারন মানুষের কোন উপকার নেই বরং চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তাছাড়া এ মিল তৈরীর ফলে পাশে বসবাসকারী মানুষের চরম বসবাসের চরম অনুপযোগী হয়ে পড়বে। মিলের বর্জ্য ফেলা হবে ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদে খালে। নস্ট হবে এ খালের পানি ও জীব বৈচিত্র্য। জুট মিলের পিছনে ক্ষুদে খালপাড়ে ক্রয় করা জমির মালিক শাহানা বেগম বলেন, প্রায় এক বছর যাবৎ মিলটি তৈরী হচ্ছে। এ মিল তৈরীর ফলে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বো। পরিবেশ ভারী হয়ে উঠবে। বাতাসে ধূলা ছড়াবে। হয়তোবা আমি আর এখানে বসবাস করতে পারবো না। মিলের মালিকেরা আস্তে আস্তে সব জায়গা কিনে নেবে। এমনই আশংকা তার। মিলের চারপাশের জমির মালিকরা কেউই খুশি নয় এ মিলটি করা নিয়ে। তারা বলছেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন এ মিলটি গড়ে উঠলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে। এক পর্যায়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এই এলাকায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষি জমিতে আর কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন গড়ে না ওঠে। সে দিকে নজর রাখতে।

দিঘলিয়া উপজেলা আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের আয়তন ২.৬ বর্গ মাইল। লোক সংখ্যা ১৬ হাজার ৮শত ৭২ জন। অধিকাংশ কৃষি নির্ভর। অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হচ্ছেন মোঃ মফিজুর রহমান জিবলু। তিনি বলেন, আমার এলাকায় কোন শিল্প কলকারখানা নেই। এলাকার বেকার যুবকদের কথা বিবেচনা করে অত্র এলাকায় ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দিঘলিয়া উপজেলার আয়তন ৮৬.৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারী হিসাব অনুযায়ী লোকসংখ্যা ১৫৩৯৮৭ জন। লোক সংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৪৯৮ জন। মোট জমির পরিমাণ ৮৬৫৫ হেক্টর। মোট ফসলী জমি ৯৪৬০ হেক্টর। এক ফসলী জমি ২৩৮০ হেক্টর। দু’ ফসলী জমি ৩১৯৫ হেক্টর। তিন ফসলী জমি ২৩০ হেক্টর। বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ২৪৯০০ মেঃ টন। কৃষি সমবায় সমিতি ৬১টি এবং কৃষি ও সেচ সমবায় সমিতি ৭টি।

এ পরিসংখ্যন বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে প্রাপ্ত।

সমাজ ও পরিবেশ সুরক্ষা গণ কমিশন খুলনার আহবায়ক এড. কুদরত ই খুদা বলেন, স্বয়ং প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণা রয়েছে। কৃষি জমিকে ব্যবহার করে অপরিকল্পিতভাবে শিল্পায়ন করা যাবে না। শিল্পজোন গঠন করেই শিল্প কল কারখানা করা উচিত। আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে কৃষি জমিতে একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এটা জরুরী ভিত্তিতে বন্ধ করা উচিত বলে এ নাগরিক নেতা মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here