চৌগাছায় করোনা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার শংক:াতিন দিনে আক্রান্ত ১৭

0

,চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি॥ চৌগাছায় করোনা সংক্রমন কোন ক্রমেই রোধ করা যাচ্ছেনা। সীমান্তবর্র্তী উপজেলাতে প্রতি দিনই দীর্ঘ হচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ হতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাসা বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বিকল্প নেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে করোনার তৃতীয় ঢেউ সন্নিকটে। ইতোমধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা উপজেলাতে হুহু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। একই অবস্থা দেখা দিয়েছে চৌগাছা উপজেলাতে। শহর ও শহরতলীতে সমান ভাবে বাড়ছে করোনা রোগী। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যশোর পাঠানোর পরের দিন আসছে ফলাফল। এতে প্রতি দিনই থাকছে পজেটিভ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৮,৯ ও ১০ জুন উপজেলাতে মোট ১৭ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই তিন দিনে ৩৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় যশোরে। সেখানে ১৭ জনের আক্রান্ত হওয়া সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। সর্বশেষ ১০ জুন আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। আক্রান্তরা হলেন- পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামের চম্পা বেগম (৪০), পৌর এলাকার আ¤্রকাননপাড়ার আব্দুল মান্নান (৪০), বেলেমাঠ গ্রামের রুশিয়া বেগম (৬০), জিওয়লগাড়ী গ্রামের কহিনুর বেগম (৫৫) এবং বিশ্বাসপাড়া মহল্লার হযরত আলী (৬৫)।

আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জনই চৌগাছা পৌর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান এবং মানুষকে মাস্ক পরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন।

এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ ও থানা পুলিশের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এদিন সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত করোনা রোগীর বাসা বাড়িতে যান এবং ওই বাড়ির সদস্যদের কেউ যেন বাইরে না আসেন ও বাইরের কেউ যেন তাদের বাসা বাড়িতে না যায় তারও নির্দেশ নির্দেশ দেয়া হয়।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুন্নাহার লাকি জানান, চৌগাছাতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, এই অবস্থায় স্বস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।

পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, ভারত সীমান্তের গা ঘেষে গড়ে উঠা চৌগাছাতে ভারতীয় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে, তাই পৌরসভার পক্ষ হতে জনসচেতনতায় আমার প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক জানান, হঠাৎ করেই চৌগাছাতে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

ইতোমধ্যে যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সেই সব বাসাতে আমি গেছি এবং তাদের নানা দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মুখে মাস্ক পরার কথা বলা হচ্ছে। অহেতুক কেউ যেন ঘরের বাইরে না আসে তারও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।