ভারতীয় নিন্মমানের চাল পালিস করে চিকুন এ চালের ভাত খেয়ে মানুষ অসুস্থ্য !

0

স্টাফ রির্পোটার (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় একটি অটো রাইস মিলে ভারতীয় নিন্ম মানের চাল পালিশ করে বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ওই চালের ভাত খেয়ে অনেকে চরম অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তবে মিল মালিক চালের সমস্যা আছে শিকার করলেও এটি ভারতীয় না, দেশী ধান থেকেই চাল তৈরী করা বলে জানিয়েছেন।

জানাযায়,চলতি বছেরে বেশ আগে ভাগেই উপজেলার পুড়াপাড়া বাজরের পদ্মা অটো রাইস মিল চাল উৎপাদনে যায়। চাল প্রস্তুতের সময় না হলেও ওই মিল থেকে বিআর-২৮ জাতের চিকুন চাল প্রস্তুত করে তা স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকাতে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। ওই চালের ভাত খাওয়ার পর পরিবারের সকল সদস্যের পেটের ব্যাথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। প্রথম দিকে বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারলেও পরে ২৮ চালের ভাত খেয়ে এই অবস্থা বলে অনেকে বুঝতে পারেন। এরপর স্থানীয়রা সমুদয় চাল ওই মিলে ফেরত দিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী উপজেলার খড়িঞ্চা নওদাপাড়া গ্রামের শিক্ষক জিয়াউর রহমান, এম আব্দুল্লাহ আল মামুন,হাজরাখানা গ্রামের হযরত আলী, চৌগাছার সুলতান আহমেদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বছরের শুরুতেই পুড়াপাড়ার পদ্মা অটো মিল থেকে চাল এনে সেই চালের ভাত খেয়ে পরিবারের সকলেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। এক একজন ব্যক্তি ২৫ কেজির বস্তা ২ থেকে ১৫ বস্তা পর্যন্ত চাল সংগ্রহ করেন। পরে চাল খারাপ বুঝতে পেরে তারা সমুদয় চাল ফিরিয়ে দেন।

এ বিষয়ে আরও কথা হয় ভুক্তভোগী চৌগাছা উপজেলার সাবেক ভিডিবি কর্মকর্তা আন্দারকোটা গ্রামের রুহুলামিনের সাথে। তিনি বলেন ভারত থেকে মোটা চাউল এনে তার অটোরাইচ মিলে রিফাই করে প্যাকেট জাত করে এ অঞ্চলের সাধারন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছেন। ফলে প্রতারিত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

তারা যখন চাল সাপ্লাই দেন তখন কিন্তু বাজারে কোন নতুন ধান আসেনি। ধারনা করা হচ্ছে মিল মালিক কৌশলে ভারত থেকে নিন্ম মানের চাল আমদানী করে রাতের আঁধারে তা নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে বিআর-২৮ বলে বাজারে উচ্চ মুল্যে বিক্রি করেছেন। চাল বিষক্রিয়া হয়ে সকলের পেটের পিড়া পাতলা পায়খানা শুরু হয়।

এছাড়া পদ্মা অটো মিলের মালিকের নামে বে-নামে পুড়াপাড়া বাজারে মুদি ব্যবসা তেল পাম্পের ব্যবসাসহ নানা ব্যবসা করছেন। বর্তমানে তেল পাম্প বিক্রির কথা চাউর হলেও তার মালিক এখনও তিনি নিজেই আছেন। এ সব ব্যবসায় গুলোতে ভেজাল মালামাল বিক্রি করে তিনি লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।

তবে এ সব অভিযোগ অস্বিকার করে পদ্মা অটো রাইস মিলের মালিক উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, বছরের শুরুতেই তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়া ঘাট থেকে ২ গাড়ি (প্রায় ১ হাজার মণ) ধান সংগ্রহ করেন। ওই ধানটি কিছুটা নরম ছিল, যার কারনে চালের সমস্যা হয়েছে। অভিযোগ উঠার পর সমুদয় চাল বিক্রি বন্ধ আছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কতৃৃপক্ষের ওই মিলের প্যাকেট জাত ২৮ চাল তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন