‘মডেল’ হাসপাতালে রূপান্তর হচ্ছে খুমেক

0

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:
৫০০ শয্যার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ প্রয়োজন ১ হাজার ৬৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মকর্তাসহ মোট পদ ৮৯৭টি। এর মধ্যে ২০১টি পদই শূন্য। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে হাসপাতালটির কাঙ্খিত সেবা ব্যহাত হচ্ছে। পূর্ণতা পায়নি তিন দশকেও। প্রয়োজনের এক চতুর্থাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে এর কার্যক্রম।

এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠার ৩১ বছর পর হাসপাতালটিকে ‘মডেল’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শন করার পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সভা করেছেন সি-জে (যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জিনাইদহ জেলা জেনারেল হাসপাতালকে ‘মডেল’ ধরে তার আদলে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটি।

‘মডেল’ রূপ দিতে পারলে এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি বন্ধ ও রোগী হয়রানি কমে আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় লোকবল সংকট দূরীকরণসহ স্থানীয় কমিউনিটিকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালটিকে একটি ‘জনবান্ধব’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, হাসপাতালটিকে ‘মডেল’ হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ হাসপাতালে সবই আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে ‘কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রæপ’ গঠন করে হাসপাতালটিকে ‘মডেল’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে বলে।

এদিকে, ‘মডেল’ রূপ দিতে সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটি সম্প্রতি খুমেক হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতালে অবস্থান করে তারা চিকিৎসক, নার্স, বিভাগ ও ইউনিট প্রধান, আর.পি, আর.এস, আর.এম. ও, ই.এম.ও, ইনচার্জ, সহকারী রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-সেবা তত্ত¡াবধায়ক, নার্সিং সুপারভাইজার, নার্সিং কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ, ওয়ার্ড মাস্টারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রাজনীতিক, সিভিল সোসাইটি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সার্বিক সমস্যা-সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

এ সময় কমিটির ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও আদ্ব-দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক ও আইসিডিডিআরবি’র চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. ইকবাল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক বলেন, তিনি এবং খুমেক হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দারের হাতেই চৌগাছা ও ঝিনাইদহ হাসপাতাল ‘মডেল’ রূপ পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই হাসপাতালটিকেও ‘মডেল’ রূপ দিতে চান তারা।

সুজন খুলনার আহবায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৫০-৯০০ রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন আউটডোরে আসে ৩০০-৪০০ রোগী। এতো রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যদের। এখানে ৫০০ বেডের রোগীদের জন্য খাবার, বিছানাসহ অন্য ব্যবস্থা থাকলেও অতিরিক্ত ভর্তি রোগীরা বেড পায় না। বারান্দার মেঝেতে বিছানায় তাদের চিকিৎসা নিতে হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ১৮ জানুয়ারি মহানগরীর বয়রা এলাকায় ৪০ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর ৭৫ শয্যা বিশিষ্ট ‘খুলনা হাসপাতাল’ যাত্রা করে। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তখন নাম বদলে হয় ‘খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল’।

২০০৮ সালে হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এর জন্য কোনও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২৫০ শয্যার জন্য নির্ধারিত জনবল দিয়েই চলছে হাজারও রোগীর চিকিৎসা সেবা। শুরু থেকেই হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here