সাতক্ষীরায় নারী চিকিৎস্যককে লাঞ্চিতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩

0

মুহা: জিললুর রহমান,সাতক্ষীরা ;
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তৃব্যরত এক নারী চিকিৎস্যককে লাঞ্চিত করার ঘটনা পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার পর ভুক্তভোগি নারী চিকিৎস্যক বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত. সঞ্চল মোড়লের ছেলে ইসমাইল হোসেন দীপ (২৮), সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকার সৈয়দ রাফিনুর রহমানের ছেলে সাইদুর জামান সাগর (২৪) ও একই এলাকার শেখ পাড়ার শেখ মোজাফফর রহমানের ছেলে শেখ গোলাম মোস্তফা (২৪)।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শহরের বাঁকাল এলাকার দীপ (২৮) সেল্ফ ইনজুরি নিয়ে রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে। এসময় জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডাঃ শারমিন ফিরোজ তার অসুস্থতার বিষয় বিস্তারিত শোনার পর তাকে হাসপাতালে ভতির ব্যবস্থা করেন।

একই সাথে রোগীর অবস্থা জটিল এবং নেশাগ্রস্থ থাকার জন্য রোগীর লোকজনকে ডেকে বুঝিয়ে বলেন যে, তার মাথায় সিটি স্ক্যান লাগবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারর্ডও করা লাগতে পারে। এসব কথা শোনার পরে রোগী ও তার সাথে থাকা সাগর এবং গোলাম মোস্তফা ডাক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। এসময় জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত একজন স্টাফ এগিয়ে আসলে তাকে মারধর করা হয়।

এক পর্যয় তারা ডাক্তারকেও মারতে উদ্ব্যাত হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাঃ শারমিন ফিরোজ ভিতরের রুমে গিয়ে কোন মতে নিজেকে রক্ষা করেন। এরপরও তারা হুমকি দিয়ে বলে, যেখানে পাবে সেখানেই ডাক্তার শারমিন ফিরোজকে মারপিট করে তার কাপড় খুলে নেবে। এঘটনা তিনি তাৎক্ষনিক ফোনে সাতক্ষীরা সিজিল সার্জনকে অবহিত করলে তিনি থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রæত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে মামলার বিবরণে জানা যায়, এক রোগী ভর্তিকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ইসমাইল হোসেন দ্বীপ, সৈয়দ সাইদুর জামান সাগর ও শেখ গোলাম মোস্তফা।

এ সময় তারা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্তব্য পালনে বাধাসহ আক্রমন ও অপরাধমুলক বল প্রয়োগ করে তাদের উপর আঘাত করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শারমিন ফিরোজ উক্ত তিন যুবককে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত তিন আসামীর ডোপ টেষ্টে মাদক সেবনের সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়াত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনা শুনার পর তিনি রাতেই জরুরী বিভাগে যান এবং উক্ত তিন যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের কাছে সুপারিশ করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীর ডোপ টেষ্টে মাদক সেবনের সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে আরো একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here