চট্টগ্রামে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ৫

0

নিউজ ডেস্ক: বাঁশখালী থানার গণ্ডামারা ইউনিয়নের এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রকিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গণ্ডামারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ঘোনা মো. আবু ছিদ্দিকের ছেলে আহমেদ রেজা (১৮), একই এলাকার অলি উল্লাহর ছেলে রনি হোসেন (২২), নূর জামানের ছেলে শুভ (২৪) ও মো. দালু মিয়ার ছেলে মো. রাহাত (২২)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যাওয়া হাতিয়ার বাসিন্দা মো.রায়হান (১৮)। এ ঘটনায় আহত ১৩ জনকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতারা হলেন- হাবিব উল্লাহ (২১), মো. রাহাত (৩০), মিজান (২২), মো. মুরাদ (২৫), মো. শাকিল (২৩), মো. কামরুল (২৬), মাসুম আহমদ (২৪), আমিনুল হক (২৫), মো.দিদার (২৩), ওমর (২০) ও অভি (২২)।

এছাড়া গণ্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির তিন সদস্য আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলেন- ইয়াসির (২৪), আব্দুল কবির ও (২৬), আসাদুজ্জামান (২৩)।

শ্রমিকরা জানান, শনিবার সকালে শ্রমিকরা দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে বাধে। এতে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় আরও ১৭ জন। বকেয়া বেতন পরিশোধ, বেতন বৃদ্ধির দাবি, শুক্রবার এক বেলা কাজ করা ও ইফতারের জন্য সময় বরাদ্দসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এছাড়া শ্রমিক নিহতের খবরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেয়।

মিলন হোসেন রকি নামে এক শ্রমিক প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, আমাদের চায়নারা সবসময় কাজে চাপের মধ্যে রাখে। আমাদের নামাজ ও রোযার ইফতারি করার পর্যন্ত সময় দেয়া হয়না। অনেক সময় নমাজ পড়ার সময় চাইনার এসে আমাদের বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করেন।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, বাঁশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তাদের মরদেহ বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভুঁইয়া জানান, বাঁশখালীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অবস্থায় ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে রায়হান নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য আছেন, এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।