চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতির মৃত্যু

0

আলী আক্কাছ, গুরুদাসপুর (নাটোর) .
অপারেশনের সময় এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি রতœার (৩১) সিজারিয়ান অপারেশন করার সত্যতা মিলেছে তদন্তে। নবজাতকটি পৃথিবীর মুখ দেখলেও অপারেশন টেবিলেই মারা যান রতœা। গত রোববার তদন্ত হয়। গতকাল সোমবার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন নাটোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্ত কমিটির সভাপতি ও গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটির সভাপতি বলেন- গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়ার হাজেরা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে রতœা নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। অপারেশনের সময় এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ছিল না।

প্রসঙ্গত: ২৯ আগষ্ট রাতে প্রসব ব্যাথা নিয়ে হাজেরা ক্লিনিকে ভর্তি হন উপজেলার মশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রতœা। বিয়ের ১৫ বছর পর তিনি প্রথম সনান্তের মা হচ্ছিলেন। হাজেরা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারি চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ৩০ আগষ্ট সকাল ৮টার দিকে এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি রতœার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অপারেশনের টেবিলে প্রসূতি রতœার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নাটোরের সিভিল সার্জন চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল নাটোর সদর হাসপালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে আছেন।

স্থানিয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় স্ত্রী রতœার মৃত্যুর বিষয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম ঘটনার দিন থানায় মামলা করতে গেলেও ভয় দেখিয়ে তা করতে দেওয়া হয়নি। পরে টাকার বিনিময়ে প্রসূতি রতœার মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ও নিহত প্রসূতি রতœার স্বামী মনিরুল ইসলাম তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর পর ২ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু রাসেল হাজেরা ক্লিনিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালান। অভিযানের সময় ক্লিনিকের বেড সংখ্যা কম দেখাতে রোগীসহ কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখেন হাজেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কক্ষগুলোর তালা খুলে ভর্তি থাকা প্রসূতি রোগি পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাজেরা ক্লিনিকে ১০টি বেড থাকার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিয়ম না মেনে ২২টি বেড রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযানের সময় মোবাইল কোর্টের কাছে ২২টির মধ্যে ১২টি বেড গোপন রাখেন তারা। একারণে তাদের ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here